রঙে ঢঙে পাশ্চাত্য পোশাক

আপডেট : ৩০ আগস্ট ২০২৩, ১৯:০৫

যেকোনো অঞ্চল বা ভাষাকে কেন্দ্র করে কোনো জাতির যে সংস্কৃতি ও দীর্ঘদিনের অভ্যাস গড়ে উঠে, তারমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ থাকে পোশাক। ফ্যাশন এমন একটি বিষয় যা কোনো ভৌগোলিক সীমারেখায় বা সময় দিয়ে আটকানো যায় না। ইন্টারনেটের এ যুগে তাই তো আমাদের দেশের ফ্যাশনও ছুঁয়েছে পাশ্চাত্যের হাওয়া। ফ্যাশনের আধুনিকতার জন্যই ওয়েস্টার্ন পোশাক এখন জায়গা করে নিয়েছে সর্বত্র।

বাঙালি এখন ফ্যাশন সচেতন জাতি হিসেবে স্বীকৃত। ঋতুভিত্তিক পোশাক এখন ফ্যাশন ট্রেন্ডের পরিচিত রূপ। বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে আমাদের ফ্যাশন ট্রেন্ড। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া তরুণ-তরুণী থেকে শুরু করে এক্সিকিউটিভ লেভেলের নারী-পুরুষরাও আজকাল ওয়েস্টার্ন পোশাক পরছেন। এই ওয়েস্টার্ন পোশাক যা আমাদের ফ্যাশন ট্রেন্ডে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ওয়েস্টার্ন কালেকশনের পোশাক পরতে খুবই পছন্দ করেন ও স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। কাপড়ের ধরন, কাটিং, প্যাটার্ন ও ডিজাইনে বৈচিত্র্যের পাশাপাশি পোশাকটি আবহাওয়া উপযোগী কি না সে দিকটাতেও লক্ষ্য রাখেন ফ্যাশনেবলরা।

পোশাকের মধ্যে জনপ্রিয়তায় এগিয়ে আছে টি-শার্ট, টপস, লং স্কার্ট, কেইপ, জিনস, ম্যাক্সিড্রেস, সামার জ্যাকেট, টিউনিক টপস, শার্ট টপস, গাউনসহ বিভিন্ন ধরনের ওয়েস্টার্ন পোশাক। সাধারণত টপস, কুর্তি, গাউনের মতো ওয়েস্টার্ন পোশাকে ডিজাইন করা হয় দুই অংশে—বডি ও বটম এবং প্যাটার্ন। বডি কিংবা বটমের নকশা প্রাধান্য পায় এই পোশাকে।

সব ধরনের ডিজাইন আমাদের দেশে মানানসই নয়। তাছাড়া কাপড় সিলেকশন বড় একটা ব্যাপার। এসব বিষয় চিন্তা করে দেশীয় কাপড় এবং ডিজাইনের সমন্বয় ঘটানোতে রেজাল্টও ভালো পাওয়া যায়। দেখা গেছে ক্রেতারা হুবহু পশ্চিমা ড্রেসের ডিজাইনের চেয়ে আমাদের ডিজাইনকৃত পোশাকের দিকেই বেশি ঝুঁকছে। অনেক ফ্যাশন হাউজ দেশীয় আবহাওয়ার সঙ্গে তাল মিলিয়ে কাপড় সিলেক্ট করে থাকে। কারণ শুধু দেখতে ভালো হলেই তো হবে না, তা পড়তেও আরামদায়ক হতে হবে। ওয়েস্টার্ন ড্রেস এখন কটন, এন্ডি কটন, সিল্ক এবং এন্ডি সিল্কের মতো কাপড় দিয়ে প্রস্তুত হচ্ছে। তরুণীদের পছন্দ আর জনপ্রিয়তায় এগিয়ে এ পাশ্চাত্য ঢঙের পোশাকগুলোতে আমাদের দেশে টপস বেশি চলে। সে কারণে ওয়েস্টার্ন ডিজাইনের নানা ধরনের টপস বাজারে পাওয়ায় যাচ্ছে। তাছাড়া রাতের বেলা পরার জন্য বিভিন্ন ধরনের ওয়েস্টার্ন নাইট ড্রেস আমাদের দেশে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

ড্রেসের নকশায় নতুনত্ব চোখে পড়বে নেক লাইন, হাতা এবং নিচের অংশে। আর অলঙ্করণে প্রাধান্য পাবে ফুল এবং জ্যামিতিক নকশা। সালোয়ারের ক্ষেত্রে বেল বটম, স্ট্রেট কাটের প্যান্ট, পালাজো ও সিগারেট কাটের আধিক্য দেখা যায়। হাতার ক্ষেত্রে বেল বটম, ফ্লুয়িড, কোল্ড শোল্ডার আর অব শোল্ডারের ডিজাইন রয়েছে। দেশীয় ফ্যাশন হাউজগুলো পোশাকের জন্য বেছে নিয়েছে প্যাস্টেল ঘরানার রঙকে।

এই ওয়েস্টার্ন পোশাকের ব্র্যান্ড হিসেবে দেশের তরুণ-তরুণীদের মধ্যে ইতোমধ্যে সাড়া ফেলেছে সারা লাইফস্টাইল। সারার সাব-ব্র্যান্ড হিসেবে এখন নতুন করে সাড়া ফেলছে ‘ঢেউ’। যারা কেবল ওয়েস্টার্ন পোশাক বিক্রি করছে। এরই মধ্যে নতুন প্রজন্মের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ঢেউ ফ্যাশন। সাধ্যের মধ্যে সেরা মানের ওয়েস্টার্ন পোশাক ক্রেতার কাছে পৌঁছে দিতে এই ব্র্যান্ড। সারা’য় আগে থেকেই  ওয়েস্টার্ন আউটফিট ছিল। এখন তারা আরেকটু বোল্ড হতে চায়। এজন্যই ‘ঢেউ’  প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। যারা ওয়েস্টার্ন কাপড় পড়তে পছন্দ করে সবাই এখানে তাদের পছন্দের পোশাক কিনতে পারবেন। সেসব তরুণ-তরুণীর রুচিশীলতাকে কেন্দ্র করে সম্পূর্ণ পশ্চিম ধাঁচে প্রস্তুত করা হয়েছে এসব পোশাক। ডিজাইনের ক্ষেত্রে বৈশ্বিক ট্রেন্ড অনুসরণ করা হয়েছে। অন্যদের পোশাকের চেয়ে ‘ঢেউ’র ভিন্নতা হচ্ছে এর কাস্টমজেড ফেব্রিক ও প্যাটার্নের বৈচিত্র্য। তাদের পোশাকগুলো সিল্ক, কটন, নিট ও ডেনিম কাপড়ে প্রস্তুত করা হয়েছে। ঢেউ’র পোশাকের সংগ্রহে রয়েছে ফ্যাশন টপস, মিডি ড্রেস, শর্ট শার্ট, ওয়েন শার্ট, লং টপস, শার্ট টপস, টু-পিস, বডিকন, লেডিস প্যান্ট, অফ শোল্ডার শার্ট, অফল্ডার শোল্ডার টপস, স্লিলিউন, নরমাল গাউন, স্কার্ট, ক্রপ টপস ও ব্লেজার। তাদের মূল বিষয় হলো খুব সাশ্রয়ী মূল্যে পোশাক বিক্রি করা। সবাই যেন ফ্যাশনেবল পোশাক যেটি চায় সেটি সহজেই পায়। অন্য ফ্যাশন হাউজে দাম একটু বেশি হতে পারে, সেদিক থেকে তারা একেবারেই ভিন্ন। ‘ঢেউ’র টার্গেট হলো সাধ্যের মধ্যে সেরা নতুন ডিজাইনের পোশাকগুলো গ্রাহকদের হাতে তুলে দেওয়া। নতুন কালেকশনের গ্রিন কালারে বোতাম আপ কলার লং স্লিভ মিনি ড্রেস নেভি-ব্লু রঙের টপস ভিনটেজ স্টাইলের ড্রেসটি ক্যাজুয়াল লুকের জন্য পড়তে পারেন।

পোশাকের বিষয়ে কথা হয় ‘সারা’র সাব-ব্র্যান্ড ‘ঢেউ’র ডিজাইনার মোহাম্মদ শামীম রহমানের সাথে। তিনি জানান, ডিজাইনে আমরা যে শুধু পশ্চিমা কাটিং ব্যবহার করেছি তা নয়—বাংলাদেশি পোশাক যেমন হয়, তার মিশেলে ওয়েস্টার্ন লুক আনার চেষ্টা করেছি। এসব পোশাকের ডিজাইন এমনভাবে করা হয়েছে, যা পরলে নারীকে অনেক সাহসী এবং আত্মবিশ্বাসী মনে হয়।’

ইত্তেফাক/আরএম

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন