শচীন টেন্ডুলকার। ভারতীয়দের কাছে তিনি ‘ক্রিকেট দেবতা’। হৃদয় উজাড় করা ভালোবাসার অর্ঘ্যে ভারতবাসী তাকে ‘দেবতা’র আসনে বসিয়েছে! ভূষিত করেছে ‘ভারত-রত্ন’ উপাধিতে। ভারতের মানুষ নিজেদের এই ‘ক্রিকেট কিংবদন্তি’কে নিয়ে কটু বাক্য উচ্চারণের দুঃসাহসও কখনো দেখায়নি। কিন্তু হায়! সেই পরম পূজনীয় শচীন টেন্ডুলকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদীদের বিক্ষোভ, সেটাও টেন্ডুলকারের বাড়ির সামনেই! পাশাপাশি টেন্ডুলকারকে হুমকি দেওয়া হয়েছে আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর!
অবিশ্বাস্য এই কাণ্ডই ঘটেছে গতকাল। মুম্বাইয়ে শচীন টেন্ডুলকারের বাড়ির সামনে এসে তার বিরুদ্ধেই বিক্ষোভ করেছেন মহারাষ্ট্রের নির্দলীয় এমএলএ (এমপি) বাচ্চু কাদু তার সমর্থকরা। রীতিমতো ব্যানার, প্ল্যাকার্ড নিয়ে বিক্ষোভ করেছেন বিক্ষোভকারীরা। টেন্ডুলকারের বিরুদ্ধে তাদের এই বিক্ষোভের কারণ, একটা বিজ্ঞাপন। সম্প্রতি করা একটা বিজ্ঞাপন নিয়ে ফেঁসে গেছেন ভারতের ক্রিকেট কিংবদন্তি।
সেই খেলোয়াড়ি জীবন থেকেই ভারতের নামিদামি কোম্পানির নানা বিজ্ঞাপন করে আসছেন টেন্ডুলকার। ইতিহাস সেরা তারকা খ্যাতি কাজে লাগিয়ে জীবনে কত বিজ্ঞাপন যে তিনি করেছেন তার ইয়ত্তা নেই। কিন্তু কখনো তার বিজ্ঞাপন করা নিয়ে কে প্রশ্ন তুলেনি। তাহলে এবার কেন এমন বিক্ষোভে ফেটে পড়া। কারণ, টেন্ডুলকার এবারের বিজ্ঞাপনটি যে করেছেন অনলাইন বেটিং (জুয়া) অ্যাপের।
ভারতের গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, সম্প্রতি ‘টিএম ফার্স্ট গেমস’ নামের একটি ফ্যান্টাসি গেমিং অ্যাপের বিজ্ঞাপন করেছেন টেন্ডুলকার। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ফ্যান্টাসি গেমিংয়ের বিজ্ঞাপনটির মাধ্যমে আসলে জুয়ার প্রচারণা চালানো হচ্ছে। আর সেই প্রচারণার মুখ্য ভূমিকায় টেন্ডুলকার থাকাতেই খেপেছেন বিক্ষোভকারীরা। শচীন টেন্ডুলকারকে সংস্থাটির সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করার দাবি জানিয়েছেন তারা। পরে পুলিশ এসে বিক্ষোভকারীদের বান্দ্রা পুলিশ স্টেশনে নিয়ে যায়।
শুধু বাড়ির সামনে এসে বিক্ষোভ করা নয়, এর আগে গত পরশু বুধবার টেন্ডুলকারকে একটা নোটিশও পাঠিয়েছেন এমপি বাচ্চু কাদু। সেই নোটিশে তিনি টেন্ডুলকারকে নিয়ম মেনে চলার আহ্বান জানান। কিন্তু টেন্ডুলকার বাচ্চু কাদুর নোটিশের কোনো উত্তর দেননি। উত্তর না পেয়েই গতকাল টেন্ডুলকারের বাড়ির সামনে এসে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন বাচ্চু কাদু ও তার সমর্থকরা। বিক্ষোভ প্রদর্শনকালে টেন্ডুলকারের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করার হুমকিও দেওয়া হয়েছে।
