বৃহস্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩০
দৈনিক ইত্তেফাক

থাকসিনের সাজা কমিয়ে ১ বছর করলেন থাই রাজা

আপডেট : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ১২:৪০

থাইল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রার আট বছরের কারাদণ্ড কমিয়ে এক বছর করেছেন দেশটির রাজা ভাজিরালংকর্ন। খবর বিবিসির।

থাকসিন ১৫ বছর স্ব-আরোপিত নির্বাসনের পর গত মাসে দেশে ফিরেছিলেন। দেশের বিমানবন্দরে অবতরণের পরপরই তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। তারপর হার্টের সমস্যার কারণে তাকে একটি রাষ্ট্রীয় হাসপাতালের বিলাসবহুল শাখায় স্থানান্তরিত করা হয়।

থাকসিন এর আগে দাবি করেছিলেন, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে তাকে যে সাজা দেওয়া হয়েছিল সেটি ছিল রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

২০০৬ সালে একটি সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত থাকসিন থাইল্যান্ডের সবচেয়ে প্রভাবশালী এবং মেরুকরণকারী ব্যক্তিত্বদের একজন। তিনি কারাগারে যাওয়া এড়াতে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার দুই বছর পরে দেশ ত্যাগ করেছিলেন।

২২ আগস্ট তিনি পুনরায় দেশে ফিরে আসেন। তার প্রত্যাবর্তনকে রাজনৈতিক চুক্তির অংশ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তার দল ফেউ থাই দেশটিতে বিপুল জনপ্রিয়। দলটিকে এক করার উদ্দেশে চলমান সরকারের সঙ্গে সমঝোতার একটি অভিপ্রায় ছিল এই প্রত্যাবর্তন।

এমনকি তাই ঘটেছে। থাকসিন দেশে ফেরার কয়েক ঘণ্টা পরে ফেউ থাইয়ের নেতৃত্বে একটি নতুন জোট সরকার তার প্রার্থী স্রেথা থাভিসিনকে নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ভোট দেয়। এই জোটে থাকসিনের প্রাক্তন সামরিক প্রতিদ্বন্দ্বীরাও রয়েছেন যারা ২০১৪ সালে একটি অভ্যুত্থানে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করেছিল।

থাকসিন স্পষ্টতই সেই চুক্তির একটি অংশ হিসেবে ক্ষমার আশা করেছিলেন এবং রাজা ভাজিরালংকর্ন তার অনুরোধে দ্রুত সাড়া দিয়েছেন। ফলস্বরুপ তার আট বছরের সাজা কমিয়ে মাত্র এক বছর করেছেন তিনি। তবে থাকসিন হাসপাতালেই থাকতে পারেন বলে সম্ভাবনা রয়েছে।

রাজকীয় ক্ষমার অনুরোধের প্রতিক্রিয়ায় রাজার তরফে বলা হয়েছে, সাজা কমানোর ক্ষেত্রে তার বয়স এবং অসুস্থতাকে বিবেচনা করা হয়েছে। থাকসিন দেশ ও জনগণের জন্য ভালো করেছেন এবং রাজতন্ত্রের প্রতি তিনি অনুগত।

তবে থাকসিন হয়তো আশা করেছিলেন তার সাজা পুরোপুরি বাতিল করা হবে। কিন্তু সেটি হয়নি। বিশ্লেষকরা বলছেন, কারাদণ্ড পাওয়ায় তার দলের ওপর হয়তো কিছুটা প্রভাব পড়তে পারে। কেননা তার দল এখন জোট পরিচালনা করতে লড়াই করছে এবং সংসদীয় আসনের প্রায় অর্ধেকই তাদের দখলে।

বর্তমানে ফেউ থাইয়ের শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী তারুণ্য নির্ভর মুভ ফরোয়ার্ড পার্টি। গত সাধারণ নির্বাচনে তারা ফেউ থাইকে হারিয়েছে।

কিন্তু মুভ ফরোয়ার্ড ফিউ থাইয়ের সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়ার পরেও সরকার গঠন করতে পারেনি। একসাথে দল দুটি অনির্বাচিত ২৫০ সিনেটের সদস্যের সম্মতি পায়নি। তবে দেশে ফিরে সাজা গ্রহণের মাধ্যমে রক্ষণশীল এলিটদের সঙ্গে ২০ বছরের তিক্ত প্রতিদ্বন্দ্বীতা মিটিয়েছেন থাকসিন।

ইত্তেফাক/এসএটি