কথার শুরু জীবনানন্দ দাশের সেই অনির্বচনীয় উপলব্ধি দিয়ে, সকলেই কবি নয় কেউ কেউ কবি। জীবনানন্দ দাশ মর্ত্যপৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন, কিন্তু তাঁর এ উপলব্ধির মৃত্যু হয়নি, কখনো হয়তো মৃত্যু হবেও না। আমার এ লেখাটির শুরু জীবনানন্দের নিকট থেকে ঋণ নিয়ে, সকলেই নক্ষত্র নয় কেউ কেউ নক্ষত্র, ব্যতিক্রম আরো বিরল, কখনো এক-আধ জনকে মাত্র পাওয়া যায়। অন্য কারো সঙ্গে তুলনা দিয়ে কাউকে ছোট বড় করা বিব্রতকর, সেভাবে করা ঠিকও হবে না। কেবল এভাবে বললেই বোধ হয় কথাটা সঠিক হবে যে, অন্যতম একজন নক্ষত্র হলেন সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী এবং তিনি অবশ্যম্ভাবীরূপেই একজন ব্যতিক্রমী নক্ষত্র, তিনি এখনো সক্রিয় সৃষ্টিভুবনের মধ্যে আছেন বলেও তাঁকে বারবার এরূপ ব্যতিক্রমী নক্ষত্র বলে মনে হয়। তাঁর ব্যতিক্রমী হবার আরো কারণ এখানে যে, আমাদের এ সমকালীন পরিমণ্ডলের মধ্যে তিনি ভৌত অস্তিত্ব নিয়েই আর কারো সঙ্গে তুলনীয় নন, কখনো তুলনীয় ছিলেনও না। সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী নামে কেবল একজন আছেন, লেখার ভুবনের মধ্যে আর কেউ নেই, এরূপ দৃষ্টান্ত বিরল এবং নিশ্চিতভাবেই তিনি অনতিক্রান্ত।
লেখার জন্য প্রতিশ্রুতি তাঁর নিজস্ব তাগিদ থেকে, তাঁর বিভিন্ন লেখার মধ্যেকার সুশৃঙ্খল বক্তব্যগুলো সামনে নিলে প্রতীয়মান হয় কী গভীর প্রতিশ্রুতি তাঁর এসব লেখার পেছনে পূর্বানুবৃত্তভাবে রয়েছে। তাঁর প্রতিশ্রুতিগুলো নিবিড় আন্তরিক এবং অকৃত্রিম, একত্রে তা অত্যন্ত ঋজুভাবেই আপোসহীন। জীবনের কোনো সন্ধিক্ষণেই তিনি যে আপোস করেননি, আপোস করতে কখনো অভ্যস্ত হননি এরূপ বিরল, প্রকৃতই আর হয়তো নেই, আমাদের অব্যবহিত সামনে পেছনে কখনো নেই, কোথাও নেই। আমাদের পরিবর্তনশীল সামাজিক পরিমণ্ডলের সঙ্গে মিলিয়ে নিলে সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর ব্যতিক্রমগুলো কোথায়, কীভাবে তা উপলব্ধি করা অনেকখানি সম্ভব হবে। তাঁর লেখালেখির বিষয়ে কিছু কথা এসেছে তাঁর আত্মজৈবনিক ধরনের রচনায়, এগুলো একত্রে নিলে তাঁর সৃষ্টিভুবনের গঠন পরিষ্কার হয়। পিতার কর্মজীবনসূত্রে তাঁর পৃথিবী দেখার, পৃথিবীকে জানার সূচনাকালের কিছু অংশ কলকাতা শহরেও, বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে তিনি থেকেছেন, পৃথিবীকে, আশপাশের পরিমণ্ডলকে, পরিবর্তনশীল প্রকৃতিকে, এসবের মধ্যে রেখে আশপাশের মানুষকে, কখনো সেসব মানুষের কোনো কোনো অংশের সঙ্গে সম্পর্কের মিথষ্ক্রিয়া সৃষ্টির মধ্য দিয়ে নিজেকে জানার সুযোগ তিনি পেয়েছেন, এগুলো সবই তাঁর সৃষ্টিকর্মের মধ্যে নানাভাবে উঠে এসেছে। তিনি অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র ছিলেন, স্বাভাবিকভাবেই অভিভাবকদের আগ্রহ ছিল তিনি একজন বড় আমলা হবেন। বিভিন্ন সমস্যার চাপে পিষ্ট অভিভাবকদের অব্যবহিত উজ্জ্বল ভুবনের প্রতি এভাবে আগ্রহ থাকেই; কিন্তু তিনি আমলা হননি। তিনি আমলা হলে হয়তো স্বাভাবিকতার স্রোতেই বিলীন হয়ে, একেবারে মিশে যেতে পারতেন, এরূপ ব্যতিক্রমী নক্ষত্র হিসেবে তাঁকে কখনো পাওয়া যেত না। লেখালেখির আগ্রহ, আত্মপ্রকাশের অভ্যাস তাঁর ছিল শৈশব থেকেই, ব্যতিক্রমী হয়ে ওঠার সূচনাও ছিল সেখানে। সৃষ্টিশীল কিছু আকাঙ্ক্ষা তাঁকে সাহিত্যের ছাত্ররূপে গঠন করে তোলে, ব্যতিক্রমী হবার শুরু সেখান থেকে। কেবল সাহিত্যের ভুবনে এলেই ব্যতিক্রম হয় না। প্রকৃত ব্যতিক্রম হয় বিচিত্র দিকে সৃষ্টিশীল হয়ে ওঠার ক্ষমতার ওপর, সে ক্ষমতার উন্মেষ শৈশব থেকেই, চূড়ান্ত বিকাশপ্রাপ্ত হয়ে গেছে কি না সেকথা বলা ঠিক হবে না, বরং বিকাশের গতি ক্রমপ্রবহমান, আরো অনেক দূর নিয়ে যাবে তাঁকে, তাঁকে যেতেও হবে। এসবের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে তাঁর শিক্ষার পশ্চাদভূমি এবং পেশাজীবন একত্রে। তিনি ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যে অনার্স, এমএ ও পিএইচ ডি ডিগ্রিপ্রাপ্ত, পেশাজীবনের বিকাশও একে কেন্দ্র করে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যের অধ্যাপক ছিলেন, স্বাভাবিক অধ্যাপনার জীবন থেকে অবসর নেবার পর এখন এই মুহূর্তে ইমেরিটাস অধ্যাপক হিসেবে বিশেষ সম্মানে ভূষিত হয়ে আছেন। তাঁর সক্রিয় পেশাজীবনের দুটো দিক, এক. অধ্যাপনা, দুই. সৃষ্টিশীল লেখার ভুবনে অব্যাহত ও উত্তরোত্তর আত্মপ্রকাশ। অধ্যাপনার জীবনে তেমন বড় উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হয়তো কিছু নেই, হয়তো আছেও, তবে তাঁকে গতানুগতিক সীমাবদ্ধতার মধ্যে বন্দি করে তোলা ঠিক হবে না। কথাটি আসে একারণে যে, বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন বিষয়ে কিছু অধ্যাপক ছিলেন, আছেন এবং থাকবেনও—যাঁরা তাঁদের নিজেদের সময়কে অতিক্রম করে আসতে পেরেছেন, যাঁরা পরবর্তী প্রজন্মের মানুষের স্মৃতির মধ্যে বেঁচে ছিলেন, বেঁচে আছেন এবং হয়তো বেঁচে থেকেও যাবেন। কারণ অনেক, তথাপি দুটো বিষয় বিশেষভাবে লক্ষণীয়, এক. অধ্যাপনার যোগ্যতা, দুই. কোনো অনমনীয় আদর্শিকতা। আসলে দুটো একত্রে মিলেই কারো পরিপূর্ণতা এনে দেয়। এখানেও অধ্যাপনার যোগ্যতার সঙ্গে আদর্শিকতা মিলেই সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর পরিপূর্ণতা সৃষ্টি হয়েছে। অধিকাংশ মানুষ, অধ্যাপকসহ, বিস্মৃতির অন্ধকারে হারিয়ে যায়, কেবল কেউ কেউ সে অন্ধকার অতিক্রম করে বেরিয়ে এসে জনগণের ভালোবাসার সঙ্গে যুক্ত হয়ে বেঁচে ওঠেন, বেঁচেও থাকেন। কথাগুলো আরো গুরুত্বপূর্ণ এ কারণে যে, জীবনের বহু বিচিত্র ক্ষেত্রের মতো অধ্যাপকদের মধ্যেও অনেকে, হয়তো অধিকাংশ, রাজনীতি ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার নিকট বেচাকেনার পণ্য হয়ে ওঠেন, কেবল বিরল কেউ এর বাইরে থাকতে পারেন। আমাদের এত কথা বলার উপসংহার আসলে এখানে যে, সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী অন্যতম ব্যতিক্রমী তাঁদের মতো যাঁরা কখনো বেচাকেনার পণ্য হয়ে ওঠেননি, এরূপ বিপণীকেন্দ্রে তিনি কখনো আসেননি, সুযোগ-সুবিধার জন্য কাঙালিপনা করতে তাঁকে কখনো দেখা যায়নি। তাঁর অধ্যাপনা জীবনের এ অংশটি অত্যন্ত স্বচ্ছ, এগুলো অবশ্য তাঁর জীবনের অন্যান্য দিকের সঙ্গে যুক্ত থেকেই। তাঁর অধ্যাপনার সঙ্গে বৈদগ্ধের সম্পর্ক নিবিড়, সেখানেও সৃষ্টিশীলতা অনেক। তিনি ইংরেজি সাহিত্যের ছাত্র, পেশাগত জীবনের সবটুকুই অধ্যাপনার সঙ্গে যুক্ত থেকে, পাশাপাশি সক্রিয় থেকেছে, হয়তো সর্বোচ্চমাত্রায় সক্রিয় থেকেছে একটি সৃষ্টিশীল বিশ্ব, লেখালেখির সৃজনশীল ভুবন, এখানেও তাঁর বিশেষ বৈশিষ্ট্য যে, এ ভুবনটি মোটেই সাধারণ নয়। এটা আরো বিস্ময়কর এজন্য যে, তাঁর লেখালেখির ভুবন সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমী, ইংরেজি বা বাংলা সাহিত্যের প্রচলিত, প্রথাবদ্ধ ধারাবাহিকতা সেখানে নেই। এমনকি সাহিত্য নিয়ে কখনো আলোচনার ক্ষেত্রেও বাধাধরা পূর্বানুবৃত্ত পথ থেকে তিনি বেরিয়ে এসেছেন, তাঁর অধ্যাপনার পেশা তাঁকে কোথাও সীমাবদ্ধ বা খণ্ডিত করে তোলেনি। তাঁর লেখালেখির সর্বমোট উপসংহারকে এককথায় সংক্ষেপিত করা হলে তা স্থিত হয় মাত্র তিনটি পরিভাষিকতারমধ্যে, সমাজ, সংস্কৃতি ও রাজনীতি, তিনটি বিষয়ই মিলিত আকারে এবং সেখানেও তা পূর্বানুবৃত্ত বাধা পথ থেকে অনেক দূর অতিক্রম করে এসেছে। কীভাবে তা হয়েছে সে কথাগুলো বলার আগে তাঁর সর্বমোট সৃষ্টিভুবনকে দুটো দিকে বিশেষায়িত করে নেওয়া যায়—এক. বিষয়বস্তু, দুই. রচনারীতি, গদ্যশৈলী, প্রকাশের অপরূপ ক্ষমতা—দুটো ক্ষেত্রেই তাঁর অনন্যসাধারণ বৈশিষ্ট্য লক্ষ করা যাবে।
সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর সাহিত্যচর্চার সুনির্দিষ্ট বিষয়বস্তু সেভাবে কিছু নেই, সমকালের, অপেক্ষাকৃত সাম্প্রতিক কালের কথা বিশেষভাবে প্রাধান্য পেয়েছে, সেসবের অন্তর্নিহিত সত্য স্বরূপকে আবিষ্কার করে নিয়ে এসে সমাজ সংস্কৃতি রাজনীতির পটভূমিতে স্থাপন করেছেন, ফলে সকল ক্ষেত্রেই তাঁর মতো করে উপসংহার সৃষ্টি হয়ে ওঠে। কেবল সমাজ, সংস্কৃতি ও রাজনীতি বললে সবটুকু বলা হয় না, সবকিছুই একটি বর্ণময় প্রগতিশীল ভুবনে স্থাপিত হয় সেকারণে কিছু উপসংহারের দিকে তা অগ্রসর হয়ে আসে। কী সে উপসংহার তা এককথায় উপস্থাপন করা কঠিন, সংক্ষেপায়িত করলে তা দাঁড়ায়, এক. সেক্যুলারিজম বা ইহজাগতিকতা, দুই. শ্রেণিসংঘাতের পটভূমিতে প্রলেতারীয় মানুষের কথা, সমাজতন্ত্রের মধ্য দিয়ে সেক্যুলার যে ভুবনে মানুষের সম্পর্ক সৃষ্টি হয়, তিন. সেক্যুলার এই পৃথিবীকে সেক্যুলার মানুষের জন্য নবরূপে সৃষ্টি করে তোলা, এখানেই তাঁর সমগ্র সৃষ্টিকর্মে মানুষের কথা আছে, সমাজের কথা আছে, সংস্কৃতির কথা রাজনীতির কথা আসে। কোনোটি থেকে কোনোটি বিচ্ছিন্ন নয় তথাপি প্রত্যেকটির পৃথক ভুবন আছে আবার এগুলো একত্রে মিলিয়ে নিয়েই সম্পূর্ণতা, সমগ্রতা সৃষ্টি হয়ে ওঠে।
সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর রচনার অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য হলো—এখানে মানুষের কথা পূর্বানুবৃত্তভাবে এসেছে, কেবল এসেছে বলা হলে কথার শেষ হয় না, ইহজাগতিক বা সেক্যুলার মানুষই এখানে সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। এ পৃথিবী আসলে এ মানুষের জন্যই, এ মানুষই সকল প্রকার এবং সর্বোচ্চ অধিকারের দাবি নিয়ে সামনে এসেছে। আরো গভীরভাবে লক্ষণীয় হলো—এ মানুষের পেছনে সমাজ বিকাশের সমগ্র ইতিহাস একত্রে দাঁড়ানো, একদা সামন্ত যুগের বন্ধনের নিকট থেকে মুক্তি পাবার আগেই ধনতন্ত্র কিংবা পুঁজিবাদের নিকট তা পড়েছে বন্দিদশায়, অবশ্যম্ভাবীরূপেই এ মানুষের মুক্তির জন্য বিকল্প সৃষ্টি হয়েছে সমাজতন্ত্রের মধ্যে তবে ধনতন্ত্র বা পুঁজিবাদ এ মানুষকে মুক্তি দেবার জন্য সৃষ্টি হয়নি। ধনতন্ত্রের বা পুঁজিবাদের বন্ধন ছিঁড়ে, এর দুর্গপ্রাকার ভেঙে দিয়ে যে মানুষ মুক্তির প্রার্থনা করেছে সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী সে মানুষেরই জয়গান করেছেন, তাদের অভিনন্দিত করেছেন, সে মানুষের আন্তরিক ও বিশ্বস্ত সঙ্গী হয়েছেন। সকল অবস্থায় কিংবা পরিস্থিতিতে তিনি এ মানুষের সাফল্যকে অনুসরণ করেছেন, প্রতিবন্ধকতা কিংবা প্রতিরোধগুলোকে চিহ্নিত করেছেন, এ মানুষ কখনো সাফল্যের দিকে এগিয়ে এলে তাদের আন্তরিকভাবেই বিপুল অভিনন্দিত করেছেন। পৃথিবী সৃষ্টির পর এ পৃথিবীতে মানুষের আসার এবং অধিকার পেয়ে যাবার পর সভ্যতার বিভিন্ন অর্জনের প্রতিবন্ধকতাগুলোকে চিহ্নিত করে তোলাই হলো সে প্রতিবন্ধকতাগুলো ভেঙে ফেলার, সেগুলো অতিক্রম করে আসার প্রাথমিক শর্ত। মানুষের কিছু সফল পূর্বসূরি মাত্র, পূর্ব প্রজন্মের কিছু মানুষ, কিছু
বুদ্ধিবৃত্তিক নেতৃত্ব মাত্র সে কাজে সাফল্য এনেছেন, মানুষকে ইহজাগতিক সাফল্যের মিছিলে এগিয়ে নিয়ে যেতে পেরেছেন। মানুষের এই যে এগিয়ে আসা তা হলো কিছু অগ্রসর মানুষের সম্মিলিত প্রয়াসের ফল। এসকল সম্মিলিত প্রয়াসের মধ্যেই তাদের পৃথক পৃথক সাফল্যের ক্ষেত্রগুলোকেও একত্রে চিহ্নিত করা যায়। সমাজ, সংস্কৃতি ও রাজনীতি নিয়ে অন্তরঙ্গ অগ্রসর চেতনাভুবন সৃষ্টি এরূপ সম্মিলিত প্রয়াসসমূহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আসলে সভ্যতাকে এগিয়ে নেবার সকল দিকই অশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কেউ একটি ক্ষেত্রে সফল হয়েছেন আবার অন্য কেউ সফল হয়ে থাকতে পারেন অন্য কোনো ক্ষেত্রে। এগুলোকে একত্রে নিয়েই মানুষের অগ্রযাত্রার ইতিহাস সৃষ্টি হয়। কোনো কিছুই ছোট বা গুরুত্বহীন নয়, কিছু করতে পারাটাই বড় কথা, সকলেই পারে না, কেউ কেউ পারে এবং সফল হয়। সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর সাফল্য এসেছে সমাজ, সংস্কৃতি ও রাজনীতিকথা নিয়ে চিন্তাভুবনের মধ্যে অগ্রসর হয়ে যেতে, কিছু বিরল মানুষের অন্যতম হতে পেরে তিনি ইতিহাস সৃষ্টি করে দিয়েছেন। এখানেও প্রকাশের বা আত্মপ্রকাশের দিক হলো দুটো—এক. বিষয়, দুই. সে বিষয়ে প্রকাশ বা উপস্থাপন, পূর্বেই এটা উল্লেখ করা হয়েছে। বিষয় হলো সমাজ, সংস্কৃতি ও রাজনীতি, এগুলোর প্রকাশ একত্রে মিলে আবার পৃথকভাবেও, কারো হাতে এগুলোর মধ্যে সম্পূর্ণ ঐক্যরূপ এসেছে আবার কখনো গুরুত্বের অপেক্ষাকৃত তারতম্য থেকে থাকতে পারে। আসলে বিষয়গুলো এমনভাবে মিশ্রিত যে কোনো লেখকের হাতে এসবের মধ্যে প্রকাশের গুরুত্বের তারতম্য কোথায় কীভাবে আসছে তা সূক্ষ্মভাবে নিরূপণ করা কখনো জটিল হয়ে ওঠে সন্দেহ নেই, শুরু যেখান থেকেই হোক না কেন প্রকাশের ভুবনে এসে সবই বিচ্ছিন্নভাবে এবং বিভিন্ন মাত্রায় স্পর্শ করে যায়। সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী সাহিত্যের ছাত্র, আরো বিশেষায়িতভাবে ইংরেজি সাহিত্যের ছাত্র, ইংরেজি সাহিত্যের অধ্যাপক এবং প্রথমাবধি, সাহিত্যচর্চা করছেন বাংলা ভাষায় এবং বাংলায় সমাজ, সংস্কৃতি ও রাজনীতিযুক্ত বিষয় নিয়ে, কিন্তু প্রথাসিদ্ধ বাংলা সাহিত্য সমালোচনা ইত্যাদি বিষয় নিয়ে নয় এটা উল্লেখ করার মতো। এমনকি সাহিত্যের কথা যেখানে বিষয় হয়েছে সেখানেও সে অব্যবহিত বিষয় অতিক্রম করে তা সমাজ, সংস্কৃতি ও রাজনীতির মধ্যে এসে উপনীত হয়েছে। এরূপ উত্তরণ একেবারেই যে নতুন তা নয়, তবে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি ও উপসংহারের মধ্যে সম্পূর্ণ নতুনত্ব আছে, অবিকল এরূপ পরিস্থিতি অন্য কারো মধ্যে নেই। এ কারণেও সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী একক এবং অনন্য, অব্যবহিত নিকটে, সামনে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে কিংবা পশ্চাতে আর কেউ তাঁর মতো নেই, তিনি এককভাবেই তাঁর নিজস্ব অপরূপ দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করে নিতে পেরেছেন।
সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী সাহিত্যের ছাত্র, কিন্তু সরাসরি সাহিত্য বিষয়ে তাঁর রচনার সংখ্যা বেশি নেই। এমনকি সাহিত্য বিষয়ে তাঁর রচনাও গতানুগতিক সমালোচনা সাহিত্যের প্রথাদাসত্ব অতিক্রম করে গদ্যসাহিত্যে বা প্রবন্ধ সাহিত্যে রূপ নিয়েছে। কবিতার তুলনায় গদ্য রচনার ভুবন অপেক্ষাকৃত বিশাল ও দিগন্তবিস্তারী, ফলে গদ্য রচনার অর্থই যেমন সাহিত্য নয় তেমনি সকল গদ্য রচনাই সাহিত্য পদবাচ্য নয় সে বিষয় নিশ্চিত। কবিতা রচনা সাহিত্য সৃষ্টির অন্তর্গত তবে মান সম্পর্কে ব্যতিক্রম অনেক, কিন্তু গদ্যরচনা এর তুলনায় আমূল পৃথক। কোনো কোনো গদ্যরচনা সাহিত্য কিন্তু সকল গদ্যরচনা সাহিত্য নয়। যে সকল গদ্যরচনা সাহিত্য সেখানেও কবিতার অনুরূপ মান এর ব্যতিক্রম অনেক। সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর গদ্যরচনার ক্ষেত্রে এটা অনেক বেশি উল্লেখযোগ্য একারণে যে তাঁর অধিকাংশ লেখা সমাজ, সংস্কৃতি ও রাজনীতি সম্পর্কযুক্ত। এখানে সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর হাতে যা উচ্চমানের সাহিত্য হয়েছে, অপর কোনো দুর্বল ক্ষমতাহীন লেখকের হাতে তা কখনো সাংবাদিকতা, পাঠ্যপুস্তক, গতানুগতিক সমালোচনা গ্রন্থ, বিষয়ভিত্তিক নোট বই হয়ে উঠতে পারে, প্রকৃতপক্ষে হয়েছেও সেভাবে। সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী ব্যতিক্রম এখানেও এবং এজন্য যে, তাঁর বক্তব্যগুলো মৌলিক, সৃষ্টিশীল, প্রকাশশৈলী উচ্চমানের শৈল্পিকতামণ্ডিত, অবশ্যম্ভাবী নিজস্বরূপে, এরূপ দ্বিতীয় আর কোনো দৃষ্টান্ত এখানে নেই, এখনো নেই। সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী সম্রাটের মতো তাঁর নিজস্ব ভুবনে, তাঁর এ অবস্থান এবং অর্জন এখনো বিকল্পহীন।
দৃশ্যত কোনো বিষয়বস্তু এবং তা নিয়ে লেখা যেখান থেকেই শুরু হোক না কেন বিভিন্ন মাত্রায় সমাজ, সংস্কৃতি ও রাজনীতি সেসবের সঙ্গে ক্রমেই এসে যুক্ত হয়, সকল বিষয়ের মিলিতরূপে তা একধরনের মৌলিকত্বপ্রাপ্ত হয়, সেভাবে তুলনাহীন অনিন্দ্য উপসংহারও সৃষ্টি করে তোলে। সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর রচনায় সমাজ গুরুত্ব পেয়েছে তা ঠিক, তবে সমাজ প্রসঙ্গের কথা বলা হচ্ছে আসলে একে প্রকাশ করার জন্য এবং পাঠকের উপলব্ধির সুবিধার জন্য, প্রকৃতপক্ষে তাঁর লেখাগুলো আর্থসামাজিক একপ্রকার চিন্তাভুবনের দ্বার উন্মুক্ত করে দেয়, কোনো প্রকার পরিভাষিকতা দেবার জন্যই একে সমাজ বলা হচ্ছে। বিশেষ অর্থে তা হলো ইহজাগতিক মানুষের কথা, এ মানুষ একাকী নিঃসঙ্গ বাস করে না বলে, বিভিন্ন মানুষের পারস্পরিক মিথষ্ক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এ মানুষের বিকাশ সম্পূর্ণতা পায় বলে একে পারিভাষিকতা দিয়ে সমাজ বলা হচ্ছে। সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর রচনায় এভাবে মানুষ এসেছে, ইহজাগতিক মানুষ এসেছে এবং মানুষের কথাই প্রধান হয়েছে বলে তাকে একত্রে সে মানুষের বিকাশের ক্ষেত্র সমাজের কথা বলা হচ্ছে। এর সঙ্গে নিবিড়ভাবে সংযুক্ত প্রসঙ্গ হলো সংস্কৃতি, এ সমাজ যেমন এ ইহজাগতিক মানুষের অস্তিত্বের প্রকাশ তেমনি এ সংস্কৃতিও হলো সেরূপ সামাজিক মানুষের ইহজাগতিক আত্মপ্রকাশের কথা, পারস্পরিক সম্পর্কের মিথস্ক্রিয়ার কথা, একত্রে। সুতরাং ইহজাগতিক মানুষ আছে বলে সমাজ আছে বলে সংস্কৃতি এসেছে, এ সমাজ ও সংস্কৃতি হলো ইহজাগতিক সামাজিক মানুষের সামগ্রিক আত্মপ্রকাশের কথা, সম্মিলিতভাবেই। সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর রচনায় এরপরেই নিবিড়ভাবে আসে রাজনীতির কথা, একমাত্র তাঁর লেখাতেই রাজনীতির তাত্ত্বিকতা পূর্ণ সমগ্রতা নিয়ে এভাবে এসেছে। সমাজ, সংস্কৃতি ও রাজনীতি নিয়ে এরূপ মিলিত দৃষ্টান্ত আর নেই, তাঁর মতো করে আর যে নেই তা নিশ্চিতভাবেই বলা যায়। তাঁর রচনায় রাজনীতির একটি বিশেষায়িত দিক আছে যা অন্য কারো সঙ্গে মেলে না, প্রকৃতই মেলে না। সাধারণভাবে রাজনীতির ভুবনটি বেশ বড়; সমাজ, সংস্কৃতি, রাজনীতির সকল ভুবনই অত্যন্ত বড়, তবে রাজনীতির কথাগুলো হয়তো আরেকটু বড়, সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর নিজের মতো করে নিয়ে। এক হিসেবে রাজনীতি হলো অনেকটা শিক্ষিত মধ্যবিত্তের জীবনকেন্দ্রিক, তাদের নিবিড় উপলব্ধিকেন্দ্রিক, সেখান থেকে প্রসারিত হয়ে সমাজ ও জীবনের বিভিন্ন প্রান্তিকে পৌঁছে যায়। সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর লেখায় রাজনীতিকতা হলো তাঁর উপলব্ধিকৃত সমাজ সংস্কৃতির সঙ্গে মিলিয়ে নিয়ে, এর ফলে তাঁর পূর্ণ উপলব্ধিভুবনের সঙ্গে তা যুক্ত হয়ে তাঁর ঈস্পিত মানুষের নিকট, আরো বিশেষায়িতরূপে প্রলেতারীয় মানুষের নিকট পৌঁছে যায়। সে অর্থে সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর সমগ্র সৃষ্টিকর্মে রাজনীতির বাণীরূপ আসলে প্রলেতারীয় মানুষের জন্য এবং মার্কসীয় শ্রেণিসংঘাতের বা শ্রেণিদ্বন্দ্বের ওপর ভিত্তি করে মানুষের বিজয়ের কথা সেখানে আছে, এ মানুষ কোথাও কখনো ধর্ম, বর্ণ, ভাষা এবং অন্য কোনো সীমাবদ্ধতার মধ্যে বন্দি হয়ে নেই। মানুষের বিজয়ের কথা, বিজয়ের আশাবাদ সেখানে আছে, একারণে তাঁর রচনায় কখনো নৈরাশ্য নেই, ব্যক্তিগত জীবনের চূড়ান্ত দুঃখের দিনের দুঃখের কথার মধ্যেও কখনো তাঁর আশাবাদ নিঃশেষিত হয়ে যায়নি। ট্র্যাডিশনাল রাজনীতিকতার এবং অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিকতার সঙ্গে এগুলো মিলবে না। একারণে কখনো কারো কাছে তা হয়তো ইউটোপীয় বলে মনে হয়েও থাকতে পারে, কিন্তু প্রকৃতই তা নির্বস্তুক অসম্ভবতার মধ্যে নিঃশেষিত হয়ে যায় না, কখনো হতাশা একে আচ্ছন্ন করে না কিংবা ঢেকে দেয় না। এগুলো তাঁর গভীরমূল বিশ্বাস এবং উপলব্ধির অন্তর্গত, এখানেও যে তিনি সমকালীন কোনো প্রথাবদ্ধ রাজনীতির এবং অন্যান্য মঞ্চে নিজেকে বিলীন করে দেননি, নিজস্ব কিছু অপরূপ বৈশিষ্ট্য কিংবা ব্যতিক্রম সর্বত্রই বিদ্যমান রেখেছেন। একারণেও রাজনীতির বিভিন্ন টানা-পোড়েনের মধ্যে, সুযোগ-সুবিধার বিকিকিনির মধ্যে তাঁকে কোথাও কখনো পাওয়া যায়নি, এরূপ ব্যতিক্রম এখানেও হয়তো বিরল, হয়তো আর নেইও। সামগ্রিকভাবে এগুলো আরো লক্ষণীয় ও বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত একারণে যে এরূপ ব্যতিক্রম এখানে আমাদের সময়ে ও পরিমণ্ডলের মধ্যে আর পাওয়া যায়নি। তাঁর এ রাজনীতিকতা হলো অবশ্যম্ভাবীরূপেই এখানকার প্রলেতারীয় মানুষের একত্রে সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর নিজস্ব উপলব্ধির ভুবনে জন্ম ও বিকাশপ্রাপ্ত, কখনো তাঁর এ ঈপ্সিত সমাজ, সংস্কৃতি ও রাজনীতি একত্রে এদেশের মাটিতে প্রায়োগিকতা পেলে, যদি পায় কখনো, তা হবে সমগ্র ইতিহাসের পটভূমিতে চিরকালীন স্মৃতিতে ধারণ করে রাখার মতো, তিনি তাঁর এ উপলব্ধির সমগ্রতা থেকে কখনো যে সরে যাননি এতে তাঁর গভীর আস্থা ও আত্মপ্রত্যয়ের দৃষ্টান্ত মেলে। সুতরাং সমাজ সংস্কৃতি ও রাজনীতি বিষয়ে সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর উপলব্ধির ভুবন তাঁর নিজস্ব, কেবল যে সমকালীন মানুষকে তিনি কিছু দিয়ে গেলেন তা-ই নয়। একথা বিশ্বাস করতে খুবই আগ্রহ জন্মে যে একদিন এরূপ ভুবনের সমগ্রতার মধ্যেই এ মানুষের আত্মসাক্ষাত্কার ও আত্মজাগরণ ঘটবে। সমাজ সংস্কৃতি ও রাজনীতির এ মিলিতরূপের মধ্যে আছে এ ভুবনের পূর্ণ উত্তরাধিকার, বাঙালি মানুষের, হয়তো পূর্ব বাংলার, একালের বাংলাদেশের মানুষের বেশি করে, হয়তো সম্পূর্ণরূপেই। সুতরাং এদেশের মাটিতে সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী আছেন এবং থাকবেন, তাঁর মতো এরূপ বিরল দৃষ্টান্তময় উপস্থিতি আর হয়তো নেই। তাঁর সমগ্র লেখার ভুবনকে সামনে নিলে এখানকার কথাগুলো নিয়ে আরো অনেক অনেক অগ্রসর হয়ে যাবার সুযোগ আছে, সেখানে থেকে আরো বহুমাত্রিক বর্ণময় ভুবনে উপনীত হবার সুযোগও বিস্তর রয়েছে, কোনো সম্ভাবনাময় গবেষক হয়তো এভাবে কোনো নতুন পৃথিবীর নিকট পৌঁছাতে আগ্রহী হবেন। কিছু সীমাবদ্ধতার কারণে আমরা এখানে সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর রচনারীতি কিংবা প্রকাশশৈলী বিষয়ে কিছু কথা নিয়ে এসে আপাতত শেষ করতে চাই।
সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর রচনারীতি তাঁর সমগ্র বিষয়বস্তুর সঙ্গে যুক্ত হয়ে এবং তাঁর মতো করেই, এরূপ আর নেই। তাঁর রচনারীতির মধ্যে নতুন নতুন বর্ণ সংযুক্ত হয়েছে অনেক, বিস্ময়ের ব্যাপার হলো রচনারীতি নিয়ে তাঁর বিভিন্ন পরীক্ষার মধ্যে কখনো ছন্দপতন হয়নি। তাঁর রচনারীতির দুটো দিক, এক. শব্দের ব্যবহার, দুই. বাক্যের গঠন, দুয়ে মিলে পূর্ণতার দিকে নিয়ে এক অপরূপ ভুবন গড়ে তোলে। তাঁর ব্যবহূত শব্দ ট্র্যাডিশনাল কিন্তু সেসবের ব্যবহার কিংবা প্রায়োগিকতা সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর নিজস্ব অভিজ্ঞতার ভুবন থেকে, এখানেই তাঁর অপরূপ বৈশিষ্ট্য এবং অন্যের সঙ্গে তাঁর মিল নেই। এ পর্যন্ত বাংলা ভাষার ব্যবহূত, এবং ব্যবহূত একই শব্দ সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর হাতে তাঁর ব্যক্তিসত্তার সঙ্গে যুক্ত হয়ে এবং তাঁর নিজস্ব ভুবনে এসে কী সমৃদ্ধ হতে পারে তা এখানে, তার প্রায় সকল রচনাতেই পাওয়া যাবে। এখানেই লক্ষ করা যাবে, বাংলা ভাষার চিরাচরিত একই শব্দ সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর হাতে এসে কীভাবে তাঁর নিজস্ব হয়ে উঠতে পারে কীভাবে তার ভুবন গড়ে তুলে ব্যক্তিত্বের প্রকাশরূপ সৃষ্টি করেও তুলতে পারে তা এখানে পাওয়া যাবে। তাঁর ব্যবহূত শব্দ বাক্যগঠন তাঁর নিজস্ব, দুয়ে মিলে তাঁর এ নিজস্বতা, অন্য কারো নয়। সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী সম্পূর্ণ একক তাঁর নিজস্ব ভুবনে, তাঁর কোনো বিকল্প নেই, তিনি অদ্বিতীয় ব্যতিক্রমী নক্ষত্র এখানেও। তাঁর বাক্যগঠন ও বাংলা শব্দের ব্যবহার একত্রে মিলেই, এরূপ সম্ভব হয়েছে তাঁর বক্তব্য ও অনুভূতি প্রকাশের সঙ্গে যুক্ত হয়ে, এভাবে না হলে তাঁর মধ্যে হয়তো ব্যতিক্রম সৃষ্টি হয়ে উঠত না। এগুলো মিলে তাঁর সৃষ্টিভুবনের পরিপূর্ণতা, এসবের মধ্য দিয়ে সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী আছেন এবং থাকবেন, হয়তো শুভ্র সমুজ্জ্বল হয়ে থেকেও যাবেন।
সকল বড় প্রতিভাই বিকল্পহীন, সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর বিকল্প যে হতে পারেনি এতেই তাঁর প্রকৃত সৃষ্টির ভুবন সুচিহ্নিত হয়। সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী তাঁর লেখালেখির সঙ্গে একত্রে সৃষ্টি হয়ে আছে, একটি বর্ণাঢ্য সময় এবং ভুবনকেও তিনি সৃষ্টি করে তুলেছেন। আমাদের সৌভাগ্য এখানেও যে আমাদের মধ্যে, আমাদের নিকটে, আমাদের সামনে তাঁকে আমরা পেয়েছি।
গত ২৩ জুন অসামান্য সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর ৮৩তম জন্মবার্ষিকী পালিত হয়েছে। তাঁর প্রতি অফুরন্ত শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জ্ঞাপন করছি।
