গাছের সঙ্গে সখ্য আমার অনেক দিনের। মাঝেমধ্যে বনবাদাড়ে ঘোরাঘুরি করি। একদিন হঠাত্ চোখে পড়ে নানা ফুলের সমাহার। গাছটি আকারে ছোট। শাখা-প্রশাখার ডগায় ছোট আকারের ফুল। দেখেই মুগ্ধ হই।
আসলে এটি ছোট আকারের বৃক্ষ, গুল্মজাতীয় উদ্ভিদ। গাছটি নানা প্রতিকূলতার মাঝেও টিকে থাকতে পারে।
নিশিন্দা চার বা পাঁচ মিটার পর্যন্ত উঁচু হতে পারে। পাতা উজ্জ্বল সবুজ। গাছের পাতা দুই থেকে তিন সেন্টিমিটার লম্বাটে হয়। নিশিন্দা ফুল আকারে ছোট, ফুলের রং নীলচে বেগুনি। জুন থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে নিশিন্দা গাছে ফুল ফুটতে দেখা যায়।
নিশিন্দাকে সামালু, নিশিন্দে ও নিগুণ্ডী নামেও ডাকা হয়। সংস্কৃত নাম সিন্দুভার, ইন্দ্রাণী ও নীলা নির্গুণ্ডি। চাকমা ভাষায় নিশিন্দা হলো ‘গাউর বো’, মারমারা বলে ‘চয়েং মাইন’।
নিশিন্দার কার্যকর ঔষধি গুণাগুণ আছে। পাতা, ফুল, ফল, মূল ভেষজ হিসেবে ব্যবহার হয়ে থাকে চর্মরোগ, সর্দি ও হাঁপানি রোগে। তাছাড়া জ্বর, বাতজ্বর, আমাশয়, শরীরের মেদ, ঋতুস্রাব, মুখের ঘা নিশিন্দার ব্যবহারে উপশম পাওয়া যায়। গাঁও-গ্রামের অনেকে নিশিন্দার পাতা বেঁটে শরীরে মালিশ করে রোগমুক্তি পান। আবার পাতা সেদ্ধ করা পানি দিয়ে কেউ কেউ গোসল করেন।
এই গাছের পাতা, শেকড়, ফুল, ফল সবকিছু কাজে লাগে। গরম পানিতে পাতার নির্যাস ক্রনিক ব্যথা, বাত, মাথাব্যথা উপশম হয়। ঠান্ডাজনিত রোগে বিশেষ কার্যকর। গাছের ডালপালা পোকামাকড়রোধী হিসেবে কাজ করে।
পত্রঝরা এই গুল্ম উদ্ভিদের আদি নিবাস ইন্দোনেশিয়া, নিউগিনি এবং উত্তর অস্ট্রেলিয়া। বর্তমানে বাংলাদেশে কখনো রাস্তার ধারে, জমির আইলে, পতিত জমিতে, বনে-জঙ্গলে ও পুরোনো পুকুরপাড়ে, সাগরের নুড়ি বালুকাময় স্থানে এবং চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামসহ সবখানে নিশিন্দা জন্মাতে দেখা যায়।
