রেলের লালমনিরহাট বিভাগ
স্টাফ রিপোর্টার, বগুড়া
রেলওয়ের লালমনিরহাট বিভাগের বগুড়াসহ উত্তরাঞ্চলের ৯ জেলায় ব্রিটিশ শাসনামলে নির্মিত ৪১১টি রেলব্রিজের অর্ধেকই মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গেছে। চুন আর সুরকির মিশ্রণযুক্ত ইটের গাঁথুনি দিয়ে নির্মিত ব্রিজগুলোর মেয়াদকাল সর্বোচ্চ ৬০ বছর ধরা হলেও এগুলোর বয়স অনেক আগেই প্রায় ১২০ বছর পেরিয়ে গেছে।
রেলওয়ের কর্মকর্তারা জানান, অনেক ব্রিজের গার্ডার দুর্বল হয়ে পড়েছে। তার পরও সেগুলো মেরামত করা হচ্ছে না। কেবল যখন পিলারের নিচ থেকে মাটি সরে যাওয়ার মতো ভয়াবহ ঘটনা জনগণের চোখে পড়ছে, কেবল তখনই ব্রিজগুলো মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
রেলওয়ের হিসাব অনুযায়ী, উত্তরাঞ্চলে ১৮৯২ সালে রেললাইন স্থাপন শুরু হয়। পশ্চিমাঞ্চলের অধীন লালমনিরহাট বিভাগের আওতায় বগুড়ার সান্তাহার থেকে গাইবান্ধা, রংপুর, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, লালমনিরহাট, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় পর্যন্ত ৯ জেলায় ৫০০ দশমিক ৬১ কিলোমিটার রেলপথ রয়েছে। দীর্ঘ এই রেলপথে আগে আন্তঃনগর, মেইল ও লোকাল মিলে ৩২ জোড়া বা ৬৪টি ট্রেন চলাচল করত। তবে ইঞ্জিন ও কোচ সংকটে ৯ জোড়া বা ১৮টি ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমানে যে ২৩ জোড়া বা ৪৬টি ট্রেন চলাচল করছে তার মধ্যে সাত জোড়া বা ১৪টি আন্তঃনগর। বাকি ১৬ জোড়া বা ৩২টি ট্রেনের মধ্যে ১১ জোড়া মেইল এবং অন্য পাঁচ জোড়া বা ১০টি লোকাল।
রেলওয়ে বগুড়ার সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী আবু মুসা জানান, ইটের গাঁথুনি দিয়ে নির্মিত ব্রিগুলোর মেয়াদ গড়ে ৬০ বছর। আর আরসিসির ব্রিজগুলোর মেয়াদ ১০০ বছর। তিনি আরো জানান, বগুড়ায় করতোয়া নদীর ওপর নির্মিত ব্রিজের গার্ডারগুলো শক্তিশালী করা প্রয়োজন। এরই মধ্যে কর্মকর্তারা ব্রিজটি পরিদর্শনও করেছেন।
সোনাতলা-বগুড়া রুটে নিয়মিত ট্রেনে যাতায়াতকারী সোনাতলা সরকারি নাজির আকতার কলেজের কর্মচারী মোশারফ হোসেন মজনু জানান, ২৯ কিলোমিটার রেলপথে একাধিক রেলসেতু রয়েছে। এর মধ্যে বগুড়া স্টেশনের কাছাকাছি করতোয়া নদীর ওপর নির্মিত সেতুর ওপর যখন ট্রেন ওঠে তখন মনে হয় পুরো সেতুটি যেন কাঁপতে থাকে। তিনি বলেন, সোনাতলা থেকে বগুড়ায় সড়কপথে যানবাহন থাকলেও সময় বেশি লাগে, তেমনি ভাড়াও কয়েক গুণ বেশি গুনতে হয়। যে কারণে ঝুঁকি সত্ত্বেও ট্রেনে চলাচল করি।
বগুড়ার সান্তাহার থেকে দিনাজপুরগামী আন্তঃনগর দোলনচাঁপা এক্সপ্রেসের চালক আশরাফুল আলম জানান, ব্রিজের অবস্থা যা-ই হোক না কেন, তাদের ট্রেনের গতি কমানোর সুযোগ নেই। তিনি বলেন, এই দোলনচাঁপা এক্সপ্রেস ট্রেনটি ঘণ্টায় ৬৫ কিলোমিটার গতিতে চালানোর নির্দেশ রয়েছে। আমাদেরকে যে গতিসীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে তার কম বা বেশি করার সুযোগ নেই।
রেলওয়ের লালমনিরহাট বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন জানান, তার বিভাগের অধীন ৪১১টি ব্রিজের অর্ধেকেরই মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গেছে। তবে তাতে ভয়ের কিছু নেই। কিছু কিছু ব্রিজ সংস্কার আবার কোথাও কোথাও নতুন ব্রিজও নির্মাণ করা হচ্ছে। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। এরই মধ্যে তিনটি ব্রিজের সংস্কার ও মেরামত শেষ হয়েছে।
