রাশিয়ার ভাড়াটে ভাগনার গ্রুপকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করতে প্রস্তুত যুক্তরাজ্য। এমনকি সংগঠনটির সদস্য হওয়া বা সমর্থন করাকেও অবৈধ হিসেবে বিবেচনা করা হবে বলে বুধবার ব্রিটিশ সরকার বলেছে। খবর রয়টার্সের।
বুধবার ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ভাগনারকে সন্ত্রাসী সংগঠন ঘোষণা বিষয়ক একটি খসড়া প্রস্তাব সংসদে পেশ করা হয়েছে। এটি কার্যকর হলে ভাগনারের সম্পদকে সন্ত্রাসী সম্পত্তি হিসেবে তালিকাবদ্ধ করা এবং বাজেয়াপ্ত করা বৈধতা পাবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুয়েলা ব্রাভারম্যান ভাগনারকে ‘হিংসাত্মক এবং ধ্বংসাত্মক’ বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, সংগঠনটি বিদেশে ভ্লাদিমির পুতিনের এবং রাশিয়ার হয়ে সামরিক হাতিয়ার হিসেবে কাজ করত।
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে ভাগনারের অস্তিত্ব নেই। তাই এতে মন্তব্য করার কিছু নেই।
ইউক্রেন, মধ্যপ্রাচ্য এবং আফ্রিকা জুড়ে ভাগনার লুটপাট, নির্যাতন এবং বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডে জড়িত বলে ব্রিটিশ বিবৃতিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি এটিকে বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি বলে অভিহিত করা হয়েছে।
আদেশটি ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এরপর থেকে ভাগনারের সঙ্গে যুক্ত হওয়া বা প্রচার করা, এর সভা আয়োজন করা বা সম্বোধন করা এবং জনসমক্ষে এর লোগো বহন করা একটি ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এর ফলে ১৪ বছর পর্যন্ত জেল হতে পারে৷
বিরোধী লেবার পার্টির পররাষ্ট্র বিষয়ক মুখপাত্র ডেভিড ল্যামি বলেছেন, এই পদক্ষেপটি দীর্ঘদিনের ওভারডিউ ছিল। পুতিনকে তার আগ্রাসনের জন্য বিচারের আওতায় আনার লক্ষ্যে সরকারের এখন চাপ দেওয়া উচিত।
ভাগনার সিরিয়া এবং উত্তর ও পশ্চিম আফ্রিকার বেশ কয়েকটি দেশে কাজ করেছে। এটি রাশিয়ার কারাগার থেকে হাজার হাজার অপরাধীকে ইউক্রেনে যুদ্ধ করার জন্য নিয়োগ করেছিল।
জুন মাসে গ্রপের প্রধান ইয়েভজেনি প্রিগোশিনের নেতৃত্বে এটি রাশিয়ায় একটি সংক্ষিপ্ত বিদ্রোহ শুরু করে। ২৩ আগস্ট প্রিগোশিন এবং শীর্ষ লেফটেন্যান্টরা এক বিমান দুর্ঘটনায় নিহত হন।
ব্রিটেন ২০২০ সালে প্রিগোশিনকে, ২০২২ সালের মার্চ মাসে সম্পূর্ণরূপে ভাগনারকে এবং চলতি বছরের জুলাই মাসে সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক, মালি এবং সুদানের গ্রুপের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি এবং ব্যবসার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।
