বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৫ ফাল্গুন ১৪৩০
দৈনিক ইত্তেফাক

নিলাম দর থেকে কম দামে বাজারে চা-পাতা বিক্রি!

অনুসন্ধানে নেমেছে চা-বোর্ড

আপডেট : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ০২:০৯

বাজারে চা-পাতা বিপণনে ব্যাপক অনিয়ম চলছে। নিলাম দর থেকে কম দামে খুচরা বাজারে দেদার চা-পাতা বিক্রি হচ্ছে। নিলামে কেজি ২০০ টাকার ওপরে বিক্রি হলেও খুচরা বাজারে কেজি ১৮০ টাকার কমে চা-পাতা বিক্রি হচ্ছে। কীভাবে এত কম দামে চা-পাতা বিক্রি হচ্ছে তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিক্রেতারা এসব চা-পাতা কোথা থেকে সংগ্রহ করছে তা জানতে চা-বোর্ড মাঠে নেমেছে। ইতিমধ্যে নগরীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে কয়েক হাজার কেজি চা-পাতা জব্দ ও জরিমানা আদায় করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, কম দামে নিম্নমানের চা-পাতা বিক্রির কারণে দেশের চায়ের বাজার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

এদিকে নিম্নমানের চা-পাতায় বাজার সয়লাব হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নামে প্যাকেটজাত ও খোলা চা-পাতা বিভিন্ন স্থানে দেদার বিক্রি হচ্ছে। বাজারজাত এসব চা-পাতা বিক্রেতাদের কোনো ট্রেড লাইসেন্স নেই, বিএসটিআই ও চা-বোর্ডের লাইসেন্স নেই, ব্যবহার করা হচ্ছে অবৈধ ট্রেডমার্ক। কোথা থেকে তারা চা-পাতা কিনেছে তারও প্রমাণপত্র নেই। চা-বোর্ডের কর্মকর্তারা বলেন, কীভাবে তারা এত কম দামে চা-পাতা বিক্রি করছে এবং কোথা থেকে তা সংগ্রহ করছে তা জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। কম দামে চা-পাতা বিক্রির কারণে আমাদের দেশীয় বিভিন্ন ব্র্যান্ডের চা-পাতার বাজার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

অভিযান পরিচালনাকারী চা-বোর্ডের উপসচিব মোহাম্মদ রুহুল আমীন ইত্তেফাককে বলেন, চা-পাতা বাজারজাতকরণে নানা অনিয়ম চলছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান থেকে লাইসেন্স না নিয়ে বিভিন্ন নামে প্যাকেটজাত করে বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে বৈধ চা ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ ও শ্রীমঙ্গলে দেশীয় বাগানে উৎপাদিত চা-পাতার নিলাম হাউজ রয়েছে। এখন পঞ্চগড়েও নিলাম হাউজ চালু হয়েছে। এসব নিলাম হাউজে বাগানের চা-পাতা নির্ধারিত দামে বিক্রি হয়ে থাকে। খুচরা বাজারে প্যাকেটজাত ও খোলা দুই ধরনের চা-পাতা বাজারজাত হচ্ছে। দেশে চা-বোর্ডের নিবন্ধিত ১৬৭টি চা-বাগান রয়েছে। বাগানগুলোতে দেশের চাহিদা অনুপাতে চা উৎপাদন হচ্ছে। চা-বোর্ড বছরে ১০২ মিলিয়ন কেজি চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। তার বিপরীতে প্রায় ৯৩ মিলিয়ন চা-পাতার উৎপাদন হচ্ছে। এক সময় বিপুল পরিমাণ চা-পাতা রপ্তানি হলেও দেশীয় বাজারে চায়ের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় রপ্তানি কমে গেছে। দেশীয় বাগানে উৎপাদিত চায়ের মান অনেক উন্নত।

চা-বোর্ড সূত্র জানায়, বাগানমালিকরা তাদের বাগানে মোট উৎপাদনের ২৫ শতাংশ চা-পাতা খোলা বা প্যাকেটজাত করে বিক্রি করতে পারবেন। তবে এই জন্য চা-বোর্ডের অনুমোদন নিতে হবে।

অভিযোগ উঠেছে, অসাধু ব্যবসায়ীরা সীমান্ত দিয়ে অবৈধ পথে চা-পাতা এনে দেশে বাজারজাত করছেন। এসব চা-পাতা তারা নকল ব্র্যান্ডে প্যাকেটজাত করে এবং খোলাভাবে বিক্রি করছে। তারা দেশীয় মার্কেট থেকেও কম দামে চা-পাতা বিক্রি করছে। এতে কম দামে পাওয়ায় ক্রেতারাও নিম্নমানের এসব চা-পাতা কিনে নিচ্ছে। সম্প্রতি নগরীর চাক্তাই খাতুনগঞ্জ, বহদ্দারহাট, পাহাড়তলিসহ বিভিন্ন স্থানে চা-বোর্ড অভিযান পরিচালনা করেছে। অভিযানে দেখা গেছে, সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের লাইসেন্স, ট্রেডমার্ক ছাড়াই বাজারে চা-পাতা বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে বর্তমানে অনুমোদিত বিভিন্ন ব্র্যান্ডের প্যাকেটজাত চা-পাতা প্রতি কেজি ৩৬০ থেকে ৩৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্যাকেটজাত চা-পাতার দাম এত বেশি হওয়ার কারণে ক্রেতারা কম দামের চা-পাতা কিনতে বেশি আগ্রহী হচ্ছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশের চা-শিল্প।

ইত্তেফাক/এমএএম