ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল ম্যাচকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় সংঘবদ্ধ হামলায় মা ও মেয়েসহ অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত দুইজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার (২০ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার পুঁইছড়ি ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মওলার পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন ময়ুরা খাতুন (৫৫) ও তার মেয়ে রাবিয়া খাতুন (১৫)। চিকিৎসকরা জানান, ময়ুরা খাতুনের মাথায় চারটি এবং রাবিয়া খাতুনের মাথায় সাতটি সেলাই দিতে হয়েছে। তারা বর্তমানে চমেক হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের ২৮ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার (১৯ জুলাই) রাতে অনুষ্ঠিত আর্জেন্টিনা-স্পেন বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচকে কেন্দ্র করে স্থানীয় যুবক রাকিবের সঙ্গে অভিযুক্ত মোরশেদুল ইসলামের গ্রুপের এক সদস্যের কথাকাটাকাটি হয়। এ ঘটনার জের ধরে পরদিন সকালে মোরশেদুল ইসলাম ও তার ভাই মোহাম্মদ হাবিবের নেতৃত্বে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল রাকিবের বাড়িতে যায়। এ সময় প্রতিবেশীরা তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র নিয়ে এলোপাতাড়ি হামলা চালায়।
হামলায় ময়ুরা খাতুন, তার মেয়ে রাবিয়া খাতুনসহ অন্তত পাঁচজন আহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে প্রথমে বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ভুক্তভোগী রাকিবুল ইসলাম দাবি করেন, অভিযুক্তরা তাকে মারধর করছিলেন। এ সময় প্রতিবেশী ময়ুরা খাতুন ঝামেলা থামানোর চেষ্টা করলে হামলাকারীরা তার ওপর চড়াও হয়। মাকে রক্ষা করতে গেলে রাবিয়াকেও কুপিয়ে আহত করা হয়।
আহত ময়ুরা খাতুনের ছেলে মোহাম্মদ রাসেল অভিযোগ করেন, হামলার পর অভিযুক্তরা মামলা না করতে তাদের পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। নিরাপত্তাহীনতার কারণে তারা আতঙ্কে রয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযুক্ত মোরশেদুল ইসলাম এলাকায় একটি কিশোর গ্যাংয়ের নেতৃত্ব দেন। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মোরশেদুল ইসলাম ও মোহাম্মদ হাবিবের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
বাঁশখালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুধাংশু শেখর হালদার বলেন, বিশ্বকাপ ফুটবলকে কেন্দ্র করে স্থানীয় একটি চায়ের দোকানে কয়েকজনের মধ্যে উচ্চস্বরে চিৎকার-চেঁচামেচি হয়। পরে ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে হামলার ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। তিনি জানান, আহতদের লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

