পার্বত্য এলাকায় অস্থিরতা সৃষ্টিতে নতুন চক্রান্ত

আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ১৩:৪৬

তিন পার্বত্য জেলায় নতুন করে অস্থিরতা সৃষ্টির পেছনে নতুন করে চক্রান্ত করা হচ্ছে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নারীদের অপহরণ ও নির্যাতন করে পাঁচটি সন্ত্রাসী সংগঠন এই চক্রান্তে মেতেছে। আবার তারাই জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার কাছে পার্বত্য অঞ্চলে কর্তব্যরত সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে অপপ্রচারে লিপ্ত বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাদের অপকর্মের সর্বশেষ উদাহরণ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আদিবাসী এক ছাত্রীকে অপহরণের ঘটনা। এই অপহরণের পেছনে জেএসএসের (মূল) সদস্যরা জড়িত বলে জানা গেছে। তারা চায় না বাঙালি ছেলে-মেয়েদের সঙ্গে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মেয়েরা চলাফেরা করুক। যদিও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যৌথ অভিযান চালিয়ে ঐ ছাত্রীকে উদ্ধার করেছে। এ সময় এক জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত সন্ত্রাসী ঘটনার সত্যতা স্বীকারও করেছেন। বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

তিন পার্বত্য জেলায় চাঁদাবাজি, অপহরণ, খুন, নারী নির্যাতনসহ নানা ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করছে পাহাড়ি পাঁচ সংগঠন। এগুলো হচ্ছে—জেএসএস (মূল), জেএসএস (সংস্কার), ইউপিডিএফ (মূল) ও ইউপিডিএফ (সংস্কার) এবং কুকি-চিন  (কেএনএফ)। এই সন্ত্রাসী সংগঠনের সদস্যরা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের ওপর নানা ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করে আসছে। গত বুধবার রাতে চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় বান্দরবানের বম সম্প্রদায়ের ওপর হামলা চালিয়েছে কেএনএফের সদস্যরা। তারা বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুরসহ গবাদিপশু নিয়ে গেছে।

বম সম্প্রদায়ের লোকজন বলেছেন, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও বাঙালিরা মিলেমিশে পাহাড়ে শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শক্ত অবস্থানের কারণে পাহাড়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ও পাহাড়ি-বাঙালিদের মধ্যে একটি সুসম্পর্ক গড়ে উঠেছে। কমেছে চাঁদাবাজিও। কিন্তু এই শান্তিপূর্ণ অবস্থানকে মেনে নিতে না পেরে কেএনএফ বম সম্প্রদায়ের ওপর হামলা করে পরিস্থিতিকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করছে।

এদিকে পাঁচ পাহাড়ি সন্ত্রাসী সংগঠনের নেতারা চাঁদাবাজিসহ নানা উপায়ে উপার্জিত অর্থ বিদেশে পাচার করে সম্পদের পাহাড় গড়ছেন। তাদের সন্তানরা এ দেশে লেখাপড়া করেন না। এ কারণে তারা নানা লোমহর্ষক ঘটনা ঘটিয়ে পাহাড়ে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টিতে তত্পরতা অব্যাহত রেখেছেন।

তবে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর লোকজন ও বাঙালিরা বলছেন, সরকার পাহাড়ে নানা উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড গ্রহণ করেছে। রাঙ্গামাটির নানিয়ার চরে নদীর ওপর ব্রিজ হয়েছে। পাহাড়ের দুর্গম এলাকায় সড়ক ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হয়েছে। যেখানে বিদ্যুত্ ছিলা ন, সেখানেও বিদ্যুত্ গিয়েছে। এমনকি তাদের ছেলেমেয়েরা বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে উচ্চপদে প্রতি বছর চাকরিতে যোগদান করছে। অন্য ৬৩ জেলার চেয়ে পার্বত্য অঞ্চলের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সন্তানরা কোনো অবস্থায় পিছিয়ে নেই।

পাহাড়িরা বলছেন, শান্তিচুক্তির প্রায় সব দফা বাস্তবায়ন করেছে সরকার। কিন্তু জেএসএস নেতা সন্তু লারমা একটি দফার পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এখনো করতে পারেন নাই। উলটো তারা বিদেশিদের কাছে অপপ্রচার চালাচ্ছে। বিদেশি স্বার্থান্বেষী মহল পাহাড়ে প্রকৃত চিত্র কী, তারা আসলে কখনো তলিয়ে দেখেনি। কিংবা তারা এটাকে নিয়ে অন্য খেলা খেলছে।

পাহাড়িরা আরো বলছে, পাঁচটি সংগঠনের সদস্যরা নারী অপহরণ, নির্যাতনসহ নানা ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করে বাঙালি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। যদিও পাহাড়িরা এগুলো অস্বীকার করছে। কিছুদিন আগে কাপ্তাই এলাকায় একটি নারী নির্যাতনের ঘটনায় ভিকটিমকে দিয়ে মিথ্যা বলানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু ঐ নারী ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নেতাদের কাছে প্রকাশ্যে বলেছেন, এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। তাকে দিয়ে সন্ত্রাসীরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে মিথ্যা বলানোর চেষ্টা করেছে। তারা বলেন, আমাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করতে এই সন্ত্রাসী সংগঠনের সদস্যরা অপপ্রচার চালাচ্ছে। পাহাড়ে এই সংগঠনগুলোর কোনো প্রয়োজন নেই। আমরা শান্তিতে আছি। এই সংগঠনগুলোর কার্যক্রম বন্ধের দাবি জানান তারা।

ইত্তেফাক/এসকে