১৬ বছরে ক্রসফায়ারের নামে সাড়ে ৪ হাজারেরও বেশি মানুষকে হত্যা: আইনমন্ত্রী

আপডেট : ০৫ আগস্ট ২০২৬, ২০:৫৬

বিগত ১৬ বছরের শাসনামলে বিনা বিচারে 'ক্রসফায়ারের' নামে সাড়ে চার হাজারেরও বেশি মানুষকে পাখির মতো গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে বাংলাদেশ আবৃত্তি ফেডারেশনের ত্রিবার্ষিক উৎসব ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মরণে আয়োজিত বিশেষ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, একই সময়ে ৭০০-এর বেশি মানুষ গুমের শিকার হয়েছেন, যাদের স্বজনরা আজও প্রিয়জনদের ফিরে আসার অপেক্ষায় দিন গুনছেন। এছাড়া বিরোধী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে ৬০ লাখের বেশি মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও গায়েবি মামলা দেওয়া হয়েছিল। এমনও ঘটনা ঘটেছে, যেখানে বহু আগে মারা যাওয়া ব্যক্তি, হজে থাকা মানুষ কিংবা দুই হাত হারানো প্রতিবন্ধী ব্যক্তির বিরুদ্ধেও বোমা হামলার অভিযোগ আনা হয়েছিল।

তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান কোনো আকস্মিক ঘটনা ছিল না। এটি ছিল দীর্ঘ ১৬ বছরের অত্যাচার, ত্যাগ ও সংগ্রামের এক যৌক্তিক ও সফল পরিণতি। যারা জীবন দিয়েছেন, গুম হয়েছেন কিংবা মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছেন তাদের আত্মত্যাগের ধারাবাহিকতার মধ্য দিয়েই জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান সফল হয়েছে।

সংস্কৃতিচর্চা প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি জানতে পারেন যে বাংলাদেশে আবৃত্তির কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ও স্বতন্ত্র স্বীকৃত শাখা ছিল না। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই আইন সংশোধনের মাধ্যমে নৃত্য ও সংগীতের মতো আবৃত্তিকে শিল্পের একটি স্বতন্ত্র শাখা হিসেবে প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। আবৃত্তি মানুষকে মানবিক ও মুক্তচিন্তার অধিকারী করে তোলে উল্লেখ করে তিনি বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে সাংস্কৃতিক আন্দোলনের পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

 
ইত্তেফাক/এমএসআর