পরীক্ষাকেন্দ্রে ঢুকে পরিদর্শককে মারধর, দর্শক পুলিশ

আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ০৭:৪০

পরীক্ষা চলাকালীন কেন্দ্রের আশপাশে ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে শহীদ ভবানী প্রসাদ সাহা সরকারি কলেজের কয়েক জন পরীক্ষার্থী ও বহিরাগত একদল সন্ত্রাসী এইচএসসি পরীক্ষাকেন্দ্রে ঢুকে কক্ষ পরিদর্শককে পিটিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। হামলার শিকার ঐ পরিদর্শক ঘটনার সময় পুলিশ নীরব দর্শকের ভূমিকায় ছিল বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এ ঘটনায়  ডিউটিরত  কক্ষ পরিদর্শকদের মধ্যে আতঙ্ক  ও তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। আগামী পরীক্ষা থেকে কেন্দ্রে ডিউটি করবেন না বলে বিভিন্ন কলেজের প্রভাষকরা (পরিদর্শক) জানিয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলা সদরের মির্জাপুর এস কে (সদয় কৃষ্ণ) সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় পরীক্ষাকেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।

হামলার শিকার ড. আয়েশা রাজিয়া খোন্দকার স্কুল অ্যান্ড কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রভাষক মুহাম্মদ নাহিদ আফসার অভিযোগ করেন, বৃহস্পতিবার ছিল উত্পাদন ব্যবস্থাপনা ও বিপণন পরীক্ষা। তিনি মির্জাপুর এস কে পাইলট (সদয় কৃষ্ণ) সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় এইচএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রের ৫ নম্বর কক্ষে কক্ষ পরিদর্শকের দায়িত্ব পালন করছিলেন। দুপুর ১টার দিকে পরীক্ষা শেষ হওয়ার পূর্ব মুহূর্তে শহীদ ভবানী প্রসাদ সাহা সরকারি কলেজের কয়েক জন পরীক্ষার্থী ও তাদের সহযোগী বহিরাগতরা মিলে তার ওপর হামলা চালায়। তার পাশেই পুলিশ থাকলেও প্রয়োজনীয় কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। হামলা চালিয়ে সন্ত্রাসীরা দ্রুত সটকে পরে। কেন তাকে পিটিয়েছে তিনি বুঝতে পারছেন না।  তিনি এই ঘটনা কেন্দ্র সচিব ও ভারতেশ্বরী হোমসের অধ্যক্ষ মন্দিরা চৌধুরীকে জানান।

এদিকে এই ঘটনায় ভারতেশ্বরী হোমস, মির্জাপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও শহীদ ভবানী প্রসাদ সাহা সরকারি কলেজ পরীক্ষাকেন্দ্রের প্রভাষকদের (কক্ষ পরিদর্শক) মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ও ক্ষোভ দেখা দেয়। ঘটনার সুষ্ঠু বিচার না হওয়া পর্যন্ত তারা আগামী পরীক্ষা থেকে ডিউটি পালন করবেন না বলে জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে কেন্দ্র সচিব ও ভারতেশ্বরী হোমসের অধ্যক্ষ মন্দিরা চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, একজন নিরীহ কক্ষ পরিদর্শকের ওপর অন্যায়ভাবে হামলা চালিয়েছে। পাশেই পুলিশ ছিল। কিন্তু তারা এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। এটা খুবই দুঃখজনক। এটা কখনো মেনে নেওয়া হবে না। তিনি ঘটনাটি উপজেলা নির্বাহী অফিসারও জেলা প্রশাসককে জানিয়েছেন। তিনি লিখিত আকারেও অভিযোগ দেবেন বলে উল্লেখ করেন। এ ব্যাপারে মির্জাপুর থানায় যোগাযোগ করা হলে ডিউটি অফিসার বলেন, এখন পর্যন্ত লিখিত অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে এ বিষয়ে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইত্তেফাক/এএইচপি