টাঙ্গাইলের গোপালপুর ও ভূঞাপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে জারি করা ১৪৪ ধারা অমান্য করে আবারও সংঘর্ষ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত তিনটি বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে এবং বেশ কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর চালানো হয়েছে।
শুক্রবার (৫ জুন) সকালে নলীন বাজার ও জগৎপুরা এলাকায় আবার হামলার ঘটনা ঘটে।
এর আগে বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাতে দুই পক্ষের সংঘর্ষে একজন নিহত হন। এ ঘটনায় ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাত ১২টার পর স্থানীয় প্রশাসন এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে।
তবে নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও শুক্রবার সকালে ২য় দফায় মাইকিং করে সহিংসতার ডাক দেয় সংঘর্ষে জড়িতরা। স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, অন্তত তিনটি বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে এবং কয়েকটি দোকানপাটে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়েছে। এতে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
স্থানীয়দের দাবি, উভয় পক্ষের লোকজন বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়ে নতুন করে সংঘর্ষের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২২ এপ্রিল দোকানে বাকিতে পণ্য নেওয়াকে কেন্দ্র করে গোপালপুর উপজেলার গোলপেঁচা এবং ভূঞাপুর উপজেলার জগৎকুড়া গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে প্রথম দফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সেই বিরোধের জের ধরে বৃহস্পতিবার বিকেলে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আবারও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে দুই পক্ষ।
সংঘর্ষে অন্তত ১০টি বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এতে কালাম তালুকদারসহ কয়েকজন গুরুতর আহত হন। পরে ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক কালাম তালুকদারকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্য আহতদের টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ভূঞাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহবুব হাসান বলেন, প্রথমে সংঘর্ষটি দুই গ্রামের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন তা আশপাশের এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়ছে। ১৪৪ ধারা জারি থাকার পরও নতুন করে সংঘর্ষ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
তিনি সবাইকে আইন মেনে চলার আহ্বান জানান এবং বলেন, সীমিত জনবল নিয়েও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে।
বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

