মাঠ পর্যায়ে ভ্যাট-ট্যাক্স ইস্যুতে হয়রানি বন্ধের দাবি ব্যবসায়ীদের

আপডেট : ২৭ জুন ২০১৯, ২১:৪১

ইত্তেফাক রিপোর্ট

মাঠ পর্যায়ে ব্যবসায়ীরা আয়কর ও ভ্যাট কর্মকর্তাদের হাতে হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ব্যবসায়ের সুষ্ঠু পরিবেশের স্বার্থে তারা এ হয়রানি বন্ধের দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়নকালে ব্যবসায়ীদের ভ্যাটমুক্ত সীমার মধ্যে থাকা না থাকা কিংবা টার্নওভার করের তালিকায় আসার ক্ষেত্রে হিসাবের মানদণ্ড নির্ধারণ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এক্ষেত্রে হয়রানি বাড়ার শঙ্কা করছেন তারা। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি হোটেলে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব উদ্বেগের কথা জানান বিভিন্ন খাতের ব্যবসায়ী নেতারা। গত ১৩ জুন সংসদে উপস্থাপিত প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর নিজেদের মতামত জানাতে ঐ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এফবিসিসিআই সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিমের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশী। এ সময় বিভিন্ন খাতের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ব্যবসায়ী নেতা তাদের দাবি তুলে ধরেন। আগামী রবিবার সংসদে ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট পাশ হওয়ার কথা রয়েছে।

এফবিবিসিসিআই সভাপতি শেখ ফজলে  ফাহিম বলেন, আমরা অহরহ বিভিন্ন চেম্বার ও অ্যাসোসিয়েশন থেকে অবহিত হচ্ছি যে, মাঠপর্যায়ে কর কর্মকর্তারা বিভিন্ন কৌশলে অপকৌশলে ব্যবসায়ীদের হয়রানি করার চেষ্টা করছে। প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছেন। সুতরাং সব ধরনের হয়রানি বন্ধ করতে হবে। ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার আগে অবশ্য সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী সমিতি ও এফবিসিসিআইকে অবহিত করতে হবে। এছাড়া জব্দ কিংবা আটক করার স্বেচ্ছা ক্ষমতা ও ব্যাংক হিসাব জব্দ করার ক্ষমতা বাতিলের পাশাপাশি কর্মকর্তাদের প্রণোদনার আকারে বাড়তি অর্থ দেওয়ার ব্যবস্থা বাতিলের দাবিও জানান তিনি।

আলোচনায় অনেক ব্যবসায়ী মাঠপর্যায়ে ভ্যাট ও ট্যাক্স কর্মকর্তাদের হয়রানির ইস্যুটি তুলে ধরে এর প্রতিকার চান। এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, সরকার ব্যবসা সহজ করার চেষ্টা করছে। ৯৯ শতাংশ ব্যবসায়ী নিয়ম মেনে ব্যবসা করেন। সরকারের ভালো উদ্যোগকে ব্যাহত করতে একশ্রেণির লোক এসব করছে বলে অভিযোগ তোলেন তিনি।

আলোচনায় প্রস্তাবিত বাজেটে সংশোধনের লক্ষ্যে এফবিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে আয়কর, ভ্যাট ও শুল্ক বিষয়ে বেশকিছু প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানো, কর্পোরেট করহার কমানোর পাশাপাশি শিল্পের কাঁচামাল ও মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানিতে বহুল আলোচিত অগ্রিম কর (এটি) প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। ১৫ শতাংশের বাইরে হ্রাসকৃত হারে আদায় হওয়া ভ্যাটেও (পাঁচ, সাড়ে সাত ও ১০ শতাংশ) উপকরণ কর রেয়াত দেওয়ার দাবি জানানো হয়। কোম্পানির অবণ্টিত মুনাফায় (রিটোইনড আর্নিংস) ও স্টক ডিভিডেন্ডে প্রস্তাবিত কর প্রত্যাহার, জোগানদারের ভ্যাট সাড়ে সাত শতাংশ থেকে কমিয়ে পাঁচ শতাংশ, ভ্যাটের পৃথক নিবন্ধনের পরিবর্তে কেন্দ্রীয় নিবন্ধন করা, রাজস্ব বিরোধ নিয়ে আপিলের ক্ষেত্রে একবারই সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ রাখা, রপ্তানির প্রণোদনায় অগ্রিম কর পূর্বের ন্যায় তিন শতাংশে আনা, রপ্তানির কর ০.২৫ শতাংশে রাখাসহ বেশকিছু দাবি তুলে  ধরা হয়।

এ সময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়কারী আবুল কালাম আজাদ, এফবিসিসিআইয়ের সহ-সভাপতি মুনতাকিম আশরাফ, সিদ্দিকুর রহমান, বিজিএমইএ সভাপতি ড. রুবানা হক, চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মাহবুবুল আলম, প্লাস্টিক দ্রব্য প্রস্তুতকারক সমিতির সভাপতি জসিম উদ্দিন,  ব্যাংকারদের সংগঠন এবিবি’র সভাপতি সৈয়দ মাহবুবুর রহমান, ঢাকা চেম্বারের সভাপতি ওসামা তাসীর, উইমেন এন্টারপ্রেনার নেটওয়ার্ক ডেভেলপমেন্টের (ওয়েন্ড) সভাপতি ড. নাদিয়া বিনতে আমিন প্রমুখ।