বিবিএসের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ
ইত্তেফাক রিপোর্ট
দেশে হস্তচালিত তাঁত ক্রমাগতভাবে কমেছে। এ পেশায় আয় কম, হস্তশিল্প হতে যান্ত্রিক শিল্পের পরিবর্তন, পর্যাপ্ত মূলধনের অভাব, তাঁত শিল্পে নিয়োজিত শ্রমিকের অভাব, বাজারজাতকরণের সমস্যা ইত্যাদি কারণে তাঁত শিল্প দিন দিন সংকুচিত হয়ে আসছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো ‘তাঁত শুমারি ২০১৮’ এর চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করেছে। এতে দেখা গেছে, দেশে হস্তচালিত তাঁত ইউনিট কমে ১ লাখ ১৬ হাজার ১১৭টিতে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে তাঁত ইউনিটে জনবলের সংখ্যা কমেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিবিএস ভবনে চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব সৌরেন্দ্র নাথ চক্রবর্তী এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব গুলনার নাজমুন নাহার। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) মহাপরিচালক ড. কৃষ্ণা গায়েন।
এছাড়াও তাঁত শিল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন। প্রতিবেদনে দেখা যায়, তাঁত ইউনিট ও জনবলের সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে কমছে। বর্তমানে তাঁত ইউনিট ১ লাখ ১৬ হাজার ১১৭টি। অথচ ২০০৩ সালে তাঁত ইউনিটের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫১২টি। ১৯৯০ সালে তাঁত ইউনিটের সংখ্যা ছিল ২ লাখ ১২ হাজার ৪২১টি। একই সঙ্গে কমেছে তাঁত ইউনিটের জনবলের সংখ্যা। বর্তমানে তাঁত ইউনিটে মাত্র ৩ লাখ ১৬ হাজার ৩১৫ জন কর্মরত রয়েছে। অথচ ২০০৩ সালে এ সংখ্যা ছিল ৮ লাখ ৮৮ হাজার ১১৫ জন। অথচ ২০০৩ সালে তাঁত ইউনিটে ১০ লাখ ২৭ হাজার ৪০৭ জন কর্মরত ছিল। তাঁত শুমারি প্রকল্পের পরিচালক মহিউদ্দিন আহমেদ শুমারির চূড়ান্ত ফলাফল নিয়ে একটি সংক্ষিপ্ত উপস্থাপনা তুলে ধরেন। এতে তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) দেশব্যাপী ১৯৯০ ও ২০০৩ সালে ১ম ও ২য় তাঁত শুমারি পরিচালনা করে। সরকার ২০১৮ সালে দেশব্যাপী ৩য় বারের মতো তাঁত শুমারি পরিচালনা করে।
বিবিএস সচিব সৌরেন্দ্র নাথ চক্রবর্তী বলেন, ঐতিহ্যগতভাবে তাঁতের পোশাক আমাদের সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যের একটি অংশ। চূড়ান্ত ফলাফলে দেখা যায়, বাংলাদেশে তাঁত খানার মোট সংখ্যা অতীতের তুলনায় হ্রাস পেয়েছে।
প্রতিবেদনে দেখা যায়, দেশের রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলায় পুরুষের তুলনায় নারীরা বেশি নিয়োজিত রয়েছে এ পেশায়। চট্টগ্রাম ও রাজশাহী বিভাগে তাঁত শিল্পের প্রাধান্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এ দুই বিভাগে দেশের মোট তাঁত ইউনিট ৭৩ দশমিক ০৮ শতাংশ এবং শুধু চট্টগ্রাম বিভাগে এ হার ৫৬ দশমিক ১৩ শতাংশ। শহর এলাকা থেকে পল্লি এলাকায় তাঁত ইউনিটের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি। এ সংখ্যা পল্লি এলাকায় প্রায় ৮৮ দশমিক ৪৬ শতাংশ এবং শহর এলাকায় মাত্র ১১ দশমিক ৫৪ শতাংশ।
