শামীম হামিদ, বার্মিংহাম (ইংল্যান্ড) থেকে
যদি প্রশ্ন করা হয় এবারের বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ কে? অনেকে হয়তোবা ভারত, পাকিস্তান বা অন্য কোনো টিমের নাম বলবেন। আবার অনেকেই বলবেন বিশ্বকাপে বাংলাদেশের বড় শত্রু আসলে ইনজুরি।
ইনজুরি ভোগাচ্ছে বাংলাদেশ দলকে। টিমের এমন কেউ নেই যে ন্যূনতম চোট পায়নি। ইনজুরি নিয়েই লড়াই করে যাচ্ছে ওরা। প্রতিটি আঘাত তাদেরকে নতুনভাবে উজ্জীবিত করছে।
ইংল্যান্ড ম্যাচের দিন উরুর মাংসপেশীতে টান পড়েছিল সাকিবের। তবে এতে দমে যাননি বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার। আঘাত নিয়েই এই বিশ্বকাপে নিজের প্রথম সেঞ্চুরিটা পেয়েছিলেন তিনি। ইনজুরির কারণে শ্রীলঙ্কার সাথে পরের ম্যাচটি খেলা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে তার। তার সাহসের প্রশংসা করেছিলেন প্রধান কোচ স্টিভ রোডস। সেই আহত বাঘ সাকিব এখনো পর্যন্ত এই বিশ্বকাপে দুই সেঞ্চুরি ও তিন ফিফটিতে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক (৪৭৬)।
সাকিবের পর বাংলাদেশের হয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান করেছেন মুশফিক (৩২৭)। টনটনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচের আগে নেটে অনুশীলনের সময় মোস্তাফিজের একটি বলে হাতে আঘাত পান তিনি। ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে তেমন একটা সুবিধা করতে না পারলেও অস্ট্রেলিয়ার সাথে পরের ম্যাচে জ্বলে উঠেছিলেন এই উইকেট কিপার ব্যাটসম্যান। মাত্র ৯৭ বলে ১০২ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেছিলেন তিনি। আফগানিস্তানের সাথে তার পরের ম্যাচটিতেও করেন ৮৩ রান। ওপেনার তামিম ওভালে দক্ষিণ আফ্রিকার সাথে প্রথম ম্যাচে সুবিধা করতে পারেননি। একই মাঠে নিউজিল্যান্ড ম্যাচের আগেরদিন হাতের কব্জিতে আঘাত পান তিনি। ঐ ব্যথা নিয়েই নামেন খেলতে। ব্যাট হাতে করেন ২৪ রান। উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান মার্টিন গাপটিলের ক্যাচটিও নেন তিনি।
বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সর্বশেষ ইনজুরিতে পড়েছেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। অস্ট্রেলিয়া ম্যাচে ব্যাটিংয়ের সময় পায়ের মাংসপেশিতে টান পড়ায় ভারতের সাথে পরের ম্যাচে অনিশ্চিত এই ব্যাটসম্যান অলরাউন্ডারের।
বাংলাদেশের দুই পেসার কাটার মাস্টার মোস্তাফিজ এবং সাইফুদ্দিনই ইনজুরি নিয়ে খেলছেন। পিঠের ব্যথার জন্য এক ম্যাচ খেলতেই পারেননি সাইফুদ্দিন। মোস্তাফিজের হ্যামস্ট্রিংয়েও সমস্যা। অথচ এই দুইজনই এখনো পর্যন্ত ১০টি করে উইকেট নিয়েছেন এই বিশ্বকাপে। অস্ট্রেলিয়া ম্যাচের আগে ট্রেন্ট ব্রিজে অনুশীলনে নামার আগে মিরাজও মাথায় ব্যথা পেয়েছিলেন।
ইনজুরি নিয়ে খেলতে হচ্ছে অধিনায়ক মাশরাফিকেও। নিজের নামের প্রতি তেমন একটা সুবিচার করতে না পারলেও যুদ্ধের ময়দানে দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার কাজটি নিপুণভাবেই করে যাচ্ছেন অধিনায়ক।
দলের প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু মনে করেন, বিশ্বকাপের মতো বড় দৈর্ঘ্যের একটা টুর্নামেন্টে বোলারদের ছোটো বড়ো ইনজুরিতে পড়াটাই স্বাভাবিক। তবে ইনজুরি নিয়েও ছেলেরা যেভাবে সাহসের সাথে প্রতিপক্ষকে সামাল দিচ্ছে সেটা সত্যি প্রশংসনীয়। রিয়াদ চোট পাওয়ার পর মাশরাফিও অনেকটা একই রকম মন্তব্য করেছিলেন। তিনি অবশ্য বলেছিলেন রিয়াদকে নিয়ে, ‘রিয়াদ অনেক সাহসী। আমার মনে হয় যদি সে সামান্যতম খেলার অবস্থায়ও থাকে তাহলে ভারতের সাথে সে খেলবেই।’
মাশরাফির এই কথাটা শুধু রিয়াদের বেলায় না, পুরো বাংলাদেশ টিমের জন্যই প্রযোজ্য, সেটা কি আর ব্যাখ্যা করার অপেক্ষা রাখে!
