আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ১২টি পর্যবেক্ষক টিম পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রতি টিমে দুইজন করে পর্যবেক্ষক থাকবেন। তারা দেশের বিভিন্ন স্থানে নির্বাচন দেখবেন। এছাড়া আভ্যন্তরীণভাবে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন এমন পর্যবেক্ষকদের জন্য তহবিল দেবে দেশটি। গতকাল শনিবার ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে। তবে ভারতীয় হাইকমিশনের কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সহযোগিতার অনুরোধ ছাড়া পর্যবেক্ষক পাঠানোর পরিকল্পনা নেই।
মার্কিন দূতাবাসের রাজনৈতিক কর্মকর্তা উইলিয়াম মোয়েলার রয়টার্সকে বলেন, পর্যবেক্ষক টিমগুলো দেশের বিভিন্ন আসনের নির্বাচন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে। বাংলাদেশ সরকার জোর দিয়ে বলেছে যে, তারা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করার পরিকল্পনা নিয়েছে। এমন সিদ্ধান্তকে আমরা স্বাগত জানাই। একইসঙ্গে যারা নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে চান তাদের জন্য আমরা অর্থ বরাদ্দ দেব। তিনি আরো জানান, ব্যাংকভিত্তিক এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশন্স ৩০ জন স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী পর্যবেক্ষকের একটি টিম পাঠাবে।
মোয়েলার সম্প্রতি সিটি করপোরেশন নির্বাচনগুলোতে হয়রানি ও ভীতি প্রদর্শনের বিষয়েও কথা বলেন। তিনি মনে করেন, এমনটা ঘটলে ভোটার উপস্থিতি কমে যেতে পারে। আমরা আশা করি, জাতীয় নির্বাচনে একই ঘটনা বা একই ইস্যু দেখতে হবে না। খবরে বলা হয়েছে, আগামী ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে জালিয়াতির আশঙ্কা করছে বিরোধী দলগুলো। এ সপ্তাহে ইউরোপীয়ান পার্লামেন্ট ও ইউরোপীয়ান ইউনিয়ন জানিয়েছে যে, তারা কোনো পর্যবেক্ষক পাঠাবে না। এমনকি নির্বাচন নিয়ে কোনো মন্তব্যও করবে না।
গত অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, উচ্চমাত্রার রাজনৈতিক মেরুকরণ, ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা ও রাজনৈতিক পরিবেশ সঙ্কোচনের মাঝে বাংলাদেশের এবারের জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে।
