মুফিত হেলাল উদ্দীন হাবিবী
গাছ আমাদের পরম বন্ধু ও প্রতিবেশী। মহান আল্লাহ তা’আলার সৃষ্টিবিধান মতে, গাছ ছাড়া কোনো প্রাণী বেঁচে থাকতে পারে না। প্রাণিকুল বেঁচে থাকার প্রধান ও মূল উপকরণ হলো অক্সিজেন; যা গাছ থেকেই উত্পন্ন হয়। মানুষ প্রত্যেক শ্বাস-প্রশ্বাসে অক্সিজেন গ্রহণ করে এবং কার্বনডাই অক্সাইড পরিত্যাগ করে। কার্বনডাই অক্সাইড এক ধরনের বিষাক্ত পদার্থ, যা পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। আর গাছ সেই দূষিত কার্বনডাই অক্সাইড গ্রহণ করে এবং প্রাণিকুলের জন্য (বেঁচে থাকার মূল উপকরণ) অক্সিজেন বিতরণ করে।
মহান রাব্বুল আলামিন গাছের সবুজ পাতার ক্লোরোফিল ও সূর্যের আলোর সমন্বয় এক ধরনের রন্ধন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কার্বনডাই অক্সাইডকে অক্সিজেনে পরিণত করেন। শুধু তাই নয়, নদী ও সমুদ্র পাড়ের প্রাণিকুলের জন্য গাছ ঢাল স্বরূপ। বন্যা ঘূর্ণিঝড় বা যে কোনো প্রলয়ংকরী দুর্যোগ আঘাত হানলে, সর্বপ্রথম তা মাথা পেতে নেয় বৃক্ষ বা গাছ। তাই একথা সর্বজনবিধিত যে, প্রাণিকুলের সুরক্ষা ও পৃথিবীর ভারসাম্য রক্ষায় গাছের গুরুত্ব অপরিসীম।
প্রিয়নবি (স) বৃক্ষরোপণের প্রতি মানুষকে উত্সাহিত করতেন। হযরত আবু আইয়ুব আনসারী (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (স) ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি বৃক্ষরোপণ করে, অতঃপর সেই বৃক্ষে যত ফল উত্পন্ন হয়, মহান আল্লাহ তা’আলা উত্পাদিত ফল পরিমাণ সওয়াব তার আমলনামায় প্রদান করবেন। (মুসনাদে আহমদ)
হযরত জাবের (রা) হতে বর্ণিত, নবি করীম (স) ইরশাদ করেন, কোনো মুসলমান বৃক্ষরোপণ করল, অতঃপর তার থেকে যতটুকু অংশ ভক্ষণ করা হয়, সেটা বৃক্ষরোপণকারীর জন্য সদকা হয়ে যায়। আর যে অংশটুকু চুরি হয়ে যায়, সেটাও তাঁর জন্য সদকা হয়ে যায়। যে অংশ হিংস্র জন্তু খায়, তাও তাঁর জন্য সদকা হয়ে যায়। আর যতটুকু অংশ পাখি খায়, সেটাও তাঁর জন্য সদকা হয়ে যায়। অর্থাত্ যে কেউ ঐ গাছ থেকে সামান্য কিছু ফল ভক্ষণ করে, মহান রাব্বুল আলামিন’এর বিনিময়ে বৃক্ষরোপণকারীকে সদকার সওয়াব দান করেন। (মুসলিম)
প্রকৃতির স্রষ্টা মহান আল্লাহ তা’আলার বিশেষ নেয়ামত হলো—বৃক্ষ বা গাছ। বৃক্ষ প্রাণিকুলকে রোদ্রের প্রচণ্ড তাপ থেকে ছায়া দান করে। আমরা যত সুস্বাদু ফলমূল ভক্ষণ করি, এগুলো সবই বৃক্ষ থেকে উত্পাদিত। মানবদেহের মরণব্যাধি অনেক রোগের ঔষধ এই বৃক্ষ থেকেই তৈরি। প্রিয়নবি (স) যখন যুদ্ধের জন্য বাহিনী প্রেরণ করতেন, তখন তাদেরকে বলতেন, সাবধান! বিনা কারণে বিজিত অঞ্চলের কোনো বৃক্ষ কর্তন করবে না। কিন্তু পরিতাপের বিষয়, আমাদের দেশে কিছু অসাধু কর্মকর্তা ব্যবসায়ী ও বনদস্যু আছে যারা নির্বিচারে গাছ কেটে পাহাড় পর্বত বনজ অঞ্চল সব উজাড় করছে। যার ফলে অনেক প্রাণী আজ বিলুপ্তি ও হুমকির মুখে। এতে বিনষ্ট হচ্ছে প্রকৃতির ভারসাম্য। এ ব্যাপারে আমাদের সচেতন হওয়া কাম্য।
অহেতুক কোনো গাছের পাতা ছেঁড়াও অন্যায়। কারণ ঐ পাতাটিও মহান আল্লাহ তা’আলার যিকিরে মশগুল। যদি বিশেষ প্রয়োজনে একটি গাছও কাটতে হয়, তবে এর পরিবর্তে দুটি বৃক্ষরোপণ করা নবি আদর্শের অনুপম শিক্ষা। তাই আসুন, এই বর্ষা মৌসুমে আমরা আমাদের চারপাশের খালি জায়গাগুলোতে বৃক্ষরোপণ করি। নিরাপদ করি আমাদের পরিবেশ। সুরক্ষিত হোক প্রাকৃতিক ভারসাম্য। সবুজ পল্লবে সজ্জিত হোক প্রিয় মাতৃভূমি।
lলেখক : মুফাসিসরে কুরআন, শিক্ষক ও খতিব
