উত্তর কোরিয়ায় অস্ট্রেলীয় শিক্ষার্থীকে আটকের শঙ্কা

আপডেট : ২৭ জুন ২০১৯, ২২:০৩

বিবিসি

উত্তর কোরিয়ায় অ্যালেক সিগলি (২৯) নামে এক অস্ট্রেলীয় শিক্ষার্থী আটক হয়েছে কিনা তা জরুরিভিত্তিতে পিয়ংইয়ংয়ের কাছে জানতে চেয়েছে সিডনি। মঙ্গলবার থেকে তার সঙ্গে পরিবারের কোনো যোগাযোগ নেই বলে সিগলির পরিবারের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে।

কিম ইল সুং বিশ্ববিদ্যালয়ে কোরিয়ান সাহিত্য নিয়ে পড়াশোনা করতে যাওয়া অ্যালেক এক বছর ধরে পিয়ংইয়ংয়ে বসবাস করছিলেন। কিন্তু হঠাত্ করে তার কোনো খবর না পাওয়ায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে তাকে গ্রেফতার করা হতে পারে। সিগলির পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট তথ্য পেতে অস্ট্রেলীয় সরকার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সরকার একে ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’ বিষয় বলে আখ্যায়িত করেছে। চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে বন্ধুরা তার নিখোঁজের খবর দেয় বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে অস্ট্রেলিয়ান ব্রডকাস্টিং করপোরেশন (এবিসি)। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিনিধিরা এ বিষয়ে উত্তর কোরিয়ার ‘সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের’ সঙ্গে কথা বলেছেন বলে অস্ট্রেলিয়ার এক মন্ত্রী জানিয়েছেন। অস্ট্রেলিয়ার পার্থের বাসিন্দা সিগলি স্নাতকোত্তর পড়াশোনার পাশাপাশি পশ্চিমা পর্যটকদের কমিউনিস্ট রাষ্ট্রটি ঘুরিয়ে দেখানোর ব্যবসাও করছিলেন। ২০১২ সালে সিগলি প্রথম উত্তর কোরিয়ায় যান বলে তার পরিবার জানিয়েছে।

চলতি বছরের মার্চে গার্ডিয়ানে প্রকাশিত এক নিবন্ধে সিগলি নিজেকে ‘উত্তর কোরিয়ায় থাকা একমাত্র অস্ট্রেলিয়ান’ হিসেবে অ্যাখ্যা দিয়েছিলেন। চীনে পড়াশোনা করতে গিয়ে উত্তর কোরিয়ার কয়েকজনের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার পর কমিউনিস্ট রাষ্ট্রটিতে থাকার ব্যাপারে তার আগ্রহ সৃষ্টি হয় বলেও জানান এ যুবক। “শিক্ষার্থী ভিসায় দীর্ঘদিন থাকায় পিয়ংইয়ংয়ের প্রায় সর্বত্র অভূতপূর্ব প্রবেশাধিকার আছে আমার; কাউকে সঙ্গে না নিয়েই আমি অবাধে শহরটিতে বিচরণ করতে পারি,” নিবন্ধে এমনটাই লিখেছিলেন এ অস্ট্রেলীয়। অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক হওয়ার পরও উত্তর কোরিয়ায় বসবাসের ক্ষেত্রে ‘কখনোই হুমকি অনুভূত’ হয়নি বলেও সিগলি গত বছর স্কাই নিউজকে বলেছিলেন।

উত্তর কোরিয়ায় এর আগেও বিদেশি নাগরিকদের আটক করার ঘটনা ঘটেছে। দেশটিতে অবৈধভাবে প্রবেশ করা কিংবা পিয়ংইয়ংয়ের ভাষায় ‘রাষ্ট্রবিরোধী বিপজ্জনক অপরাধের’ কারণে এসব আটক হয়েছিল। পর্যটন এলাকায় খ্রিষ্টধর্মের প্রচারপত্র ফেলে যাওয়ার অপরাধে ২০১৪ সালে অস্ট্রেলীয় নাগরিক জন স্টুয়ার্টকে আটক করে দেশে ফেরত পাঠিয়েছিল উত্তর কোরিয়া। দেশটিতে ধর্মীয় কার্যক্রমে কঠোর বিধিনিষেধ আছে, যে কারণে অনেকবারই ধর্মপ্রচারকদের আটক হতে হয়েছে।