দক্ষিণ সুদানে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ভূয়সী প্রশংসা জাতিসংঘ কর্মকর্তাদের

আপডেট : ২৭ জুন ২০১৯, ২২:৪৮

সদ্য স্বাধীন দক্ষিণ সুদানে এখনো গড়ে ওঠেনি ভালো কোনো যোগাযোগ ব্যবস্থা। নেই পাকা সড়ক। উঁচু-নিচু খানাখন্দে ভরা মাটির রাস্তা। এক প্রদেশ থেকে আরেক প্রদেশ যেতে পোহাতে হয় নানা ঝক্কি-ঝামেলা। অপরদিকে সরকার আর বিরোধী পক্ষ ভারী অস্ত্র নিয়ে সব সময় মারমুখী।

এই দুই পক্ষ অস্ত্র তাক করে রেখেছে একে অপরের দিকে। এই অশান্ত দেশটিতে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশন অনুমোদন দেওয়ার পর জাতিসংঘের নিজস্ব কন্টিনজেন্টসহ ৩৮টি দেশ থেকে বিভিন্ন ধরনের কন্টিনজেন্ট আসে। এরপরই দেখা দেয় নতুন সংকট। এত মানুষের নিত্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি, খাদ্যসামগ্রী, ওষুধপত্র সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে পড়ে। তখনই বাংলাদেশ নৌবাহিনী জাতিসংঘের মাধ্যমে দায়িত্ব পায় এসব সমস্যা দূর করার। জীবন বাজি রেখে জাতিসংঘের ৩৮টি দেশের মানুষের চাহিদা পূরণ করাসহ দক্ষিণ সুদানের মানুষের চিকিত্সাসেবা দিচ্ছে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সদস্যরা। এই মিশনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের সরকারি কোষাগারে জমা হচ্ছে বছরে ৬০ কোটি টাকা। বিশ্বদরবারে সুনাম আর বাংলাদেশ সরকারকে আর্থিকভাবে লাভবান করতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন আমাদের ১৯৯ জন নৌসদস্য।

নৌসদস্যদের প্রশংসা করেছেন জাতিসংঘে দায়িত্ব পালনরত উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। জাতিসংঘের বুলেটিনগুলোতে স্থান পাচ্ছে আমাদের নৌবাহিনীর অপারেশন লাইফ লাইন। প্রশংসায় পঞ্চমুখ প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতও। ভারতের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নীতিন খার বলেন, বাংলাদেশ নৌবাহিনী ৩৩টি অপারেশন লাইফ লাইনের মাধ্যমে জাতিসংঘে কর্মরত সকলের জীবন রক্ষা করছে। বাংলাদেশ নৌবাহিনী আমাদের (জাতিসংঘের) সুরক্ষার পাশাপাশি দক্ষিণ সুদানের মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। এক কথায় বলতে গেলে বাংলাদেশ  নৌবাহিনীর কন্টিনজেন্ট বিশ্বসেরা এবং দক্ষ একটি কন্টিনজেন্ট। বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কন্টিনজেন্টের কাছ থেকে শেখার অনেক কিছু রয়েছে।

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশনে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সদস্যরা শান্তিরক্ষায় নিষ্ঠা ও সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছে। এরই ধারাবাহিকতায়  ২০০৫ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সাত বছর সুদানে দায়িত্ব পালন করেছে নৌবাহিনীর রিভারাইন ইউনিট। পেশাদারিত্ব, কর্তব্যনিষ্ঠা, অবদান ও সফলতার ধারাবাহিকতায় জাতিসংঘ ২০১৫ সালে বাংলাদেশের ২০০ জন নৌসেনা ও ১২টি লাইট পেট্রলক্র্যাফটের একটি কন্টিনজেন্টকে দক্ষিণ সুদানে শান্তিরক্ষায় মোতায়েন করে। সেই থেকে বাংলাদেশের নৌসেনারা জাতিসংঘের ম্যানডেট বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। দক্ষিণ সুদানের মানুষের জন্য এবং শান্তিরক্ষায় নিয়োজিত সামরিক-বেসামরিক মানুষের জন্য সুদান থেকে নীলনদ দিয়ে বয়ে আনছে নিত্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি, খাদ্যসামগ্রী, ওষুধপত্র ও মানবিক সাহায্য।