আলোচিত মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা মামলায় রাষ্ট্র ও বাদীপক্ষের সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় আলোচিত এ মামলার চার্জশিটভুক্ত ১৬ আসামিকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হলে ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদ বিচারকার্য শুরু করেন। এ সময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) হাফেজ আহম্মদ নুসরাত হত্যাকাণ্ডের ঘটনার বিস্তারিত তথ্য আদালতে তুলে ধরেন। পিপি হাফেজ আহম্মদের সাক্ষ্যগ্রহণের পর নুসরাতের ভাই মাহ্মুদুল হাসান নোমান এবং বান্ধবী নিশাত ও ফূর্তি আদালতে সাক্ষ্য দিতে হাজির হন। এর মধ্যে নুসরাতের ভাই নোমান তার বোনকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ বিচারকের সামনে উপস্থাপন করেন। এই মামলায় বাদীপক্ষের মোট ৯৩ জন সাক্ষী রয়েছে। পরে আসামি পক্ষের আইনজীবীরা নুসরাতের ভাই বাদী মাহ্মুদুল হাসান নোমানকে জেরা শুরু করেন। বিকাল ৫টা পর্যন্ত প্রধান আসামি অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা, শাহ্দাত হোসেন শামীম, নুরু উদ্দিন, জাবেদ, জোবায়ের, মোকছুদ আলম, রুহুল আমিন, ইমরান হোসেন মামুন, আবছার উদ্দিনসহ মোট ৯ আসামির পক্ষে ১২ জন আইনজীবী বাদীকে একটানা জেরা করেন। পরে বিচারক আগামী ৩০ জুন রবিবার অবশিষ্ট ৭ আসামির পক্ষে বাদীকে জেরা করার পরবর্তী দিন ধার্য করেন। এ সময় চার্জশিটভুক্ত ১৬ আসামির সকলেই আদালতে হাজির ছিলেন। তবে মামলার অন্যতম আসামি সন্তানসম্ভবা কামরুন নাহার মনি ও শম্পাকে কাঠগড়ায় বসার জন্য চেয়ার দেওয়া হয়।
এ মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামিরা হলেন অধ্যক্ষ এস এম সিরাজ উদদৌলা, কাউন্সিলর ও পৌর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাকসুদ আলম, শিক্ষক আবছার উদ্দিন, সহপাঠী আরিফুল ইসলাম, নূর হোসেন, কেফায়াত উল্যাহ জনি, মোহাম্মদ আলাউদ্দিন, শাহিদুল ইসলাম, অধ্যক্ষের ভাগনি উম্মে সুলতানা পপি, জাবেদ হোসেন, জোবায়ের আহমেদ, নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, মো. শামীম, কামরুন নাহার মনি, আবদুর রহিম ওরফে শরিফ, ইফতেখার হোসেন রানা, এমরান হোসেন মামুন, মহিউদ্দিন শাকিল, হাফেজ আবদুল কাদের ও উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও নুসরাতের মাদ্রাসার সহ-সভাপতি রুহুল আমিন।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন নিপীড়নের দায়ে অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ৬ এপ্রিল ঐ মাদ্রাসা কেন্দ্রের সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নিয়ে অধ্যক্ষের সহযোগীরা নুসরাতের শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়। টানা পাঁচদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে নুসরাত জাহান রাফি অবশেষে মারা যান। এ ঘটনায় নুসরাতের বড়ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বাদী হয়ে অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ আটজনের নাম উল্লেখ করে সোনাগাজী মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
