পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক সমরেশ মজুমদার বলেছেন, তিনি তার সৃষ্ট চরিত্র, সেইসব চরিত্র সৃষ্টির পিছনের কাহিনী ও গল্পের পরিণতির কারণ ব্যখ্যা করেন। তার সৃষ্ট চরিত্র ‘দীপাবলী’ তার পাশের বাড়ির মেয়ের মাঝ থেকেই খুঁজে পেয়েছিলেন বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, আমার বাড়ির পাশে বারো বছরের একটি মেয়েকে জোর করে বিয়ে দেওয়া হয়। তবে বিয়ের আটদিন পর বিধবা হয়ে মেয়েটি ফিরে আসে। এখান থেকে দীপাবলী চরিত্রটি তৈরি হয়। সমরেশ জানান, মূলত নিজের লেখার কাহিনী পার্শ্ববর্তী পরিবেশ ও মানুুষ উঠে এসেছে তার কলমে, তার গল্পের কাহিনীতে। তার সৃষ্ট চরিত্র পাঠকদের স্পর্শ করে, প্রভাবিত করে, গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে — এটাই তার বড় প্রাপ্তি।
গতকাল বাতিঘর আয়োজিত ‘আমার জীবন আমার রচনা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রিয় সাহিত্যিক সমরেশ মজুমদার। শনিবার সকালে প্রিয় লেখকের সাথে দেখা করার জন্য সকাল থেকেই তার অগণিত পাঠক বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের বাতিঘরে আসা শুরু করেন।
অনুষ্ঠান শুরু হয় লেখক রচিত গানের সুরে। বক্তব্যের শুরুতে নিজের অসুস্থতার কথা জানান। সেইসঙ্গে এও জানান, বাতিঘরে এসে পাঠকের সান্নিধ্যে তিনি আরেকটি জীবন লাভ করেছেন।
সমরেশ মজুমদার বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে নাটক লেখার সূত্র ধরেই মূলত তার গল্প লেখার শুরু। বন্ধুদের অনুপ্রেরণায় যে লেখা তিনি নাটক হিসেবে লিখতে চেয়েছিলেন সেটি আদৌ নাটকের মতো হয়নি। সেই লেখা পরে তিনি দেশ পত্রিকায় দেন এবং এই নামি পত্রিকাটিতে তার লেখা ছাপা হয়। এতে তার নিজের ওপর আস্থা তৈরি হয়। এরপরে প্রকাশিত হয় তার প্রথম উপন্যাস ‘দৌড়’।
পাঠকের প্রশ্নে বারবার উঠে আসে ‘উত্তরাধিকার’, ‘কালবেলা’ ও ‘কালপুরুষ’ প্রসঙ্গ। উপন্যাস-ত্রয়ী নিয়ে তিনি বলেন, এই তিনটির মধ্যে প্রথম দুটি অনেকটা জোর করে লেখা। মন থেকে লেখেননি। বলা যেতে পারে, বাধ্য হয়েই লিখেছেন। ‘উত্তরাধিকার’ প্রকাশ পরে পাঠকদের আগ্রহের পরে প্রকাশক সাগরময় ঘোষের নির্দেশে বাকি দুই পর্ব লেখা হয়।
অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ। স্বাগত জানান বাতিঘরের কর্ণধার দীপঙ্কর দাস।
