সমাজটা যাচ্ছে কোথায় :হাইকোর্ট

আপডেট : ২৭ জুন ২০১৯, ২২:৫৭

বরগুনার রিফাত হত্যা মামলার আসামিরা যেন সীমান্ত পাড়ি দিয়ে দেশত্যাগ করতে না পারে সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পুলিশের আইজিকে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। আদালতের এ আদেশ আইজিপিকে অবহিত করতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীকে বলেছে আদালত। বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেয়।     আদালত বলে, প্রকাশ্যে দিবালোকে একজন যুবককে কোপাচ্ছে, ঘটনাস্থলে অনেকেই দাঁড়িয়ে আছে, ভিডিও করছে কিন্তু কেউ সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেনি। এমনকি প্রতিবাদও করেনি। এটাই হচ্ছে সামাজিক অবক্ষয়ের চিত্র। আদালত বলে, আগে অপরাধ সংঘটিত হলে মানুষ তাত্ক্ষণিক প্রতিবাদ করত। কিন্তু এখন তা না করে দাঁড়িয়ে দেখছে। পাঁচজন মানুষও যদি এগিয়ে আসত তাহলে সন্ত্রাসীরা এ ঘটনা ঘটাতে সাহস পেত না। হয়ত তারা ক্ষমতাবান, এ কারণে মানুষ ভয়ে এগিয়ে আসেনি। সমাজটা তাহলে যাচ্ছে কোথায়? এটাই সামাজিক ব্যর্থতার চিত্র। এ সামাজিক সচেতনতা তৈরি করবে কে?

বুধবার সকালে কলেজ থেকে স্ত্রীকে নিয়ে বাসায় ফেরার পথে সন্ত্রাসীরা রিফাত নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করে। এ ঘটনায় পরদিন বিভিন্ন গণমাধ্যমে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এমনকি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। ঝড় উঠে সমালোচনার। আইনজীবী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল গতকাল পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের নজরে আনলে হাইকোর্ট ঐ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রশাসন কী পদক্ষেপ নিয়েছে তা জেনে আদালতকে অবহিত করতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীকে নির্দেশ দেন। ঐ নির্দেশের পর বরগুনার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সঙ্গে কথা বলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) ব্যারিস্টার এ বি এম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার।

দুপুরের পর শুনানিতে তিনি বিষয়টি আদালতকে জানিয়ে বলেন, এ ঘটনায় সদর থানায় একটি মামলা হয়েছে। নিহত রিফাতের বাবা ১২ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা ৫/৬ জনকে আসামি করে এ মামলা করেছেন। ইতিমধ্যে চন্দন নামের এক আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ পর্যায়ে আদালত বলে, মূল অভিযুক্তকে কি গ্রেফতার করা হয়েছে?  বুধবার প্রকাশ্য দিবালোকে এ ঘটনা ঘটানো হলো, আর মামলা হয়েছে বৃহস্পতিবার। পুলিশের যতটা তত্পর হওয়া দরকার ছিল তাদের কার্যক্রম দেখে তো মনে হয় না।

ডিএজি বলেন, আসামিদের চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদের গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। যুক্ত আছে র্যাবও। আসামিদের ধরতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চলছে। যত দ্রুত সম্ভব গ্রেফতার করে সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় আনা হবে। নিহতের স্ত্রীসহ ভিকটিমের পরিবারকে নিরাপত্তা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

আদালত বলে, বরগুনার পাশে পিরোজপুর জেলা একটি উপকূলীয় এলাকা। এর আগে সেখানকার একটি মামলায় গ্রেফতারের আগেই আসামিরা উধাও হওয়ার ঘটনাও আমরা পত্রিকায় দেখেছি। এ ঘটনায় তেমনটি হলে তা হবে দুঃখজনক। কারণ দেশের মানুষ এ হত্যাকাণ্ডে মর্মাহত। আদালত বলে, বরগুনা যেহেতু সুন্দরবন ও সীমান্তের কাছে সেহেতু আইজিপিকে ইনফর্ম করুন যাতে আসামিরা সীমান্ত ক্রস করতে না পারে। প্রয়োজনে সীমান্তে রেড অ্যালার্ট জারি করুন।

এ পর্যায়ে ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, এমন অপরাধের ঘটনার বিচার যদি কোনো কারণে বিলম্ব ও বিচারহীন হয়, তাহলে সমাজে এমন অনেক ঘটনার জন্ম দেয়। এজন্য সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টির প্রয়োজন। তিনি বলেন, আদালত এ বিষয়ে রুল জারি করতে পারে। আদালত বলে, যেহেতু এজাহার হয়েছে সেহেতু কোনো আদেশ দিচ্ছি না। তবে আসামি গ্রেফতার বা তদন্তে কোনো অনিয়ম হচ্ছে কি না তা আমাদের নজরে থাকবে। এ ঘটনায় কী অগ্রগতি হয়েছে আগামী বৃহস্পতিবার তা হাইকোর্টকে অবহিত করতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীকে বলেছে আদালত।