এজবাস্টনে মধুর প্রতিশোধের অপেক্ষা বাংলাদেশের

আপডেট : ২৭ জুন ২০১৯, ২২:৫৮

খুব বেশিদিন আগের কথা না। ২০১৭ সালের ১৫ জুন চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে বার্মিংহামের এজবাস্টনে মুখোমুখি হয়েছিল দুই প্রতিবেশি বাংলাদেশ ও ভারত। প্রথমে ব্যাট করে ২৬৪ রানের পুঁজি নিয়েও বাংলাদেশ হেরেছিল ৯ উইকেটে। দুই বছর পর আগামী মঙ্গলবার সেই এজবাস্টনেই ফের দেখা হচ্ছে দুই প্রতিবেশির। এবার লড়াইয়ের মঞ্চটা বিশ্বকাপ।   আগামী ২ জুলাই বিশ্বকাপের মঞ্চে তৃতীয় সাক্ষাত হবে দুই দলের। সুতরাং গত বিশ্বকাপের সেই আক্ষেপ কিংবা চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আক্ষেপ কিংবা এশিয়া কাপের আক্ষেপ যেটাই বলা হোক না কেন বাংলাদেশের সামনে সুযোগের হাতছানি।

ভারতের বিপক্ষের আগামী ম্যাচের ওপর অনেকটাই নির্ভর করছে সেমিফাইনালে ওঠার হিসেব নিকেশ। ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশ জিতলে সেমিফাইনালের পথে একধাপ এগিয়ে যাবে টাইগাররা। ভারতকে হারাতে পারলে বাংলাদেশের পয়েন্ট হবে ৯। কিন্তু তারপরও সেমিফাইনালের স্বপ্ন নিশ্চিত হবে না বাংলাদেশের। গ্রুপ পর্বের শেষ খেলা পাকিস্থানের সাথে ম্যাচটি-ই মূলত বাংলাদেশের বাঁচা-মরার লড়াই। সেই ম্যাচে জিতলে ১১ পয়েন্ট নিয়ে অনেকটাই এগিয়ে যাবে সেমি ফাইনালের পথে। কিন্তু সেক্ষেত্রে ইংল্যান্ডকে শেষ দুটি ম্যাচের অন্তত একটি ম্যাচ হারতে হবে। তাতে ইংল্যান্ডের পয়েন্ট আটকে যাবে ১০ এ। আর শ্রীলংকারও শেষ তিন ম্যাচের অন্তত একটি ম্যাচ হারতে হবে। তখন শ্রীলংকার পয়েন্টও আটকে যাবে ১০ এ।

অন্যদিকে ভারতের সঙ্গে হেরে শেষ ম্যাচে পাকিস্তানে সঙ্গে জিতলেও বাংলাদেশের সেমির স্বপ্ন নির্ভর করবে সমীকরণের সূক্ষ্ম সুতোর ওপর। শেষ ম্যাচে পাকিস্তানকে হারাতে পারলে বাংলাদেশের পয়েন্ট হবে ৯। সেক্ষেত্রে ইংল্যান্ডকে বাকি দুটি ম্যাচেই হারতে হবে। শ্রীলঙ্কাকেও শেষ তিন ম্যাচের অন্তত দুটি ম্যাচে হারতে হবে। সেটি হলে ইংল্যান্ড ও শ্রীলংকা উভয়ে ৮ পয়েন্টে আটকে যাবে। আর বাংলাদেশ এবং পাকিস্থানের দুই দলেরই পয়েন্ট হবে ৯ (পাকিস্থান আফগানিস্থানের সঙ্গে জেতা সাপেক্ষে)। কিন্তু মুখোমুখি লড়াইয়ে পাকিস্তানকে হারানোর সুবাদে বাংলাদেশ পৌঁছে যাবে সেমিতে।

ভারতের বিপক্ষের এই ম্যাচটি শুধু সেমিফাইনালে ওঠার লড়াই নয়। এর বাইরেও অনেক হিসেব রয়ে গেছে। এই মুহূর্তে ভারতের সাথে একটি জয় আসলে খুবই প্রয়োজন বাংলাদেশের জন্য। ২০১৫ সালের পর আর বিরাট কোহলিদের হারাতে পারেনি বাংলাদেশ। তাই আগামী মঙ্গলবারের ম্যাচটা হতে পারে বাংলাদেশের ‘মধুর প্রতিশোধের ম্যাচ’। এজবাস্টনে দুই বছর আগে পরাজয়ের বদলা নেওয়ার ম্যাচ। ভারতের সাথে দীর্ঘদিনের পরাজয়ের দুষ্টচক্র ভাঙার ম্যাচ।

ভারতের সাথে বাংলাদেশের সর্বশেষ বিজয় ছিল ২০১৫ সালের ১৮ ও ২১ জুন। তিন ম্যাচের হোম সিরিজে প্রথম দুটিতে টাইগাররা জিতেছিল যথাক্রমে ৭৯ রান ও ৬ উইকেটে। সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে ভারত জিতেছিল ৭৭ রানে। ফলে বাংলাদেশ ওই সিরিজ জেতে ২-১ এ। এরপর আর জয়ের দেখা মেলেনি।

গত বছর ছয় মাসের ব্যবধানে দুই দুটি ফাইনালে ভারতের কাছে হেরে শিরোপা স্বপ্ন ভঙ্গ হয় বাংলাদেশের। মার্চে শ্রীলংকায় অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের নিদহাস ট্রফির ফাইনালে ৪ উইকেটে হারে বাংলাদেশ। এর ছয় মাসের মাথায় সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত ১৪তম এশিয়া কাপের ফাইনালেও ভারতের কাছে হেরে শিরোপা হাতছাড়া হয় বাংলাদেশের। দুটি টুর্নামেন্টেই দুর্দান্ত খেলার পরও ভারতের কাছে শিরোপা হারাতে হয়েছে টাইগারদের। এশিয়া কাপের পর এই প্রথম মুখোমুখি হচ্ছে ভারত-বাংলাদেশ। সাম্প্রতিক সময়ে ভারত-পাকিস্থানের ম্যাচের চেয়ে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যের খেলায় উত্তেজনার পারদ বেশি ছড়ায়। যদিও ওডিআইতে দুই দেশের মুখোমুখি হিসাবটা চরম অস্বস্তিকর বাংলাদেশের জন্য। এ পর্যন্ত ৩৫ লড়াইয়ে ভারত জিতেছে ২৯ বার। বাংলাদেশ মাত্র ৫ বার। একটি ম্যাচে কোনো ফলাফল হয়নি।

এর আগে বিশ্বকাপে ভারত ও বাংলাদেশের দেখা হয়েছে দুই বার। ২০০৭ এ বিশ্বকাপের মঞ্চের  প্রথম দেখাতেই ভারতকে হারিয়ে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় করে দিয়েছিল বাংলাদেশ। মাশরাফি (৪ উইকেট) আর আব্দুর রাজ্জাকের (৩ উইকেট) ঘূর্ণিতে ১৯১ রানে পথ হারিয়ে ছিল ভারত। জবাবে তামিম, মুশফিক আর সাকিবের তিনটি অর্ধশতকে ভারতকে ৫ উইকেটে হারায় টাইগাররা।

সেই সাক্ষাতের ৮ বছর পর ২০১৫ তে মেলবোর্নের আলোচিত ম্যাচে জিতেছিল ভারত। ৯১ রানে থাকা রোহিতকে ক্যাচে পরিণত করা রুবেলের বলটি নো বল ডেকে বিতর্কের জন্ম দিয়েছিলেন আম্পায়াররা। মাহমুদুল্লাহর আউট নিয়েও ছিল বিতর্ক। গত বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের সেই ম্যাচে বাংলাদেশ হেরেছিল ১০৯ রানে। তাই বিশ্বকাপের তৃতীয় সাক্ষাতে প্রতিশোধের জন্য টাইগারদের মুখিয়ে থাকাটাই স্বাভাবিক।

এদিকে ভারত ম্যাচ সামনে রেখে গত মঙ্গলবার বার্মিংহামে পৌঁছেছে মাশরাফির দল। তারা উঠেছে হায়াট রিজেন্সি হোটেলে। তবে ম্যাচের যেহেতু আরো কয়েকদিন বাকি আছে, তাই টিমের সবাই এখনো এই শহরে আসেনি। পাঁচদিনের ছুটি পেয়ে কেউ কেউ একটু ঘুরে বেড়াচ্ছে। এই ছুটিটা দলের খেলোয়াড়দের মনোবল বাড়াতে সহায়তা করবে বলে আশা করছে টিম ম্যানেজমেন্ট। তাছাড়া কারো ছোটখাট ইনজুরি থাকলেও তা এই ফাঁকে সেরে ওঠবে। ইনজুরির তালিকায় এবার আছেন দলের অন্যতম মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। তার পায়ের মাংসপেশীতে টান পড়েছে। ফিজিওর পরামর্শে তিনি এক সপ্তাহের বিশ্রামে রয়েছেন। 

গতকাল টিম হোটেলের সামনে কথা হয় সৌম্য সরকারের সাথে। ভারত ম্যাচের আগে তার প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে সৌম্য বলেন, ভারত র্যাংকিংয়ে এক নম্বরে থাকা দল। তবে র্যাংকিংয়ের চিন্তা মাথায় রেখে বাড়তি কোনে চাপ নিতে চাই না। আমরা ভারতকে অন্য টিমগুলোর মত একটা টিম মনে করছি। সেই সাথে তাদের দুর্বল দিকগুলো চিহ্নিত করে আক্রমণ সাজানোর পরিকল্পনা করছি। পরিকল্পনামত খেলতে পারলে ভারতকে হারানো কঠিন কোনো কাজ না বলেই মনে করছেন সৌম্য।