দুই ‘লম্পট’ শিক্ষককে গণধোলাই

আপডেট : ২৮ জুন ২০১৯, ০০:৩৬

সিদ্ধিরগঞ্জে আপত্তিকর ছবি তুলে একাধিক ছাত্রীকে ব্ল্যাকমেইল করে পালাক্রমে ধর্ষণ করার অভিযোগ উঠেছে দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ও অভিভাবকরা অভিযুক্ত ঐ দুই শিক্ষককে গণধোলাই দিয়ে র্যাবের হাতে সোপর্দ করেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে থানার কান্দাপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে র্যাব ও পুলিশ তাদেরকে গ্রেফতার এবং এক শিক্ষকের মোবাইল থেকে আপত্তিকর একাধিক ছবি উদ্ধার করেছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সিদ্ধিরগঞ্জের অক্সফোর্ড হাইস্কুলের সহকারী শিক্ষক আরিফুল ইসলাম (৩০) গত আট বছর ধরে গণিত ও ইংরেজি বিষয়ে শিক্ষকতা করে আসছেন। এই সময়কালে আরিফুল ইসলাম অসংখ্য ছাত্রীর আপত্তিকর ছবি তুলে তাদের ব্ল্যাকমেইল করে ধর্ষণ করেছেন। স্কুলের প্রধান শিক্ষক রফিকুল ইসলাম জুলফিকার (৫৫) ঐ শিক্ষককে সহযোগিতা করতেন।

জানা গেছে, ছাত্রীদের কোচিং পড়ানোর জন্য আরিফুল বাসা ছাড়াও স্কুলের পাশে বুকস গার্ডেন এলাকায় একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নেন। তার স্ত্রী-সন্তান না থাকলেও ঐ ফ্ল্যাটে  তিনটি খাট ছিল বলে  জানান  ভবনের দারোয়ান। তিনদিন আগে তার  এসব অনৈতিক  কর্মকাণ্ডের কথা  প্রকাশ  হয়। বিষয়টি জানতে গতকাল বৃহস্পতিবার  বেলা  ১১টার দিকে  বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী স্কুলে  গেলে আরিফুল  ইসলাম নিজের  মোবাইলে থাকা ছাত্রীদের আপত্তিকর  ছবিগুলো  মুছে ফেলেন। এলাকাবাসী ঐ মোবাইল নিয়ে বিশেষ সফটওয়্যারের  মাধ্যমে ছবিগুলো উদ্ধার  করে। পরে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ঐ স্কুলে হামলা চালায়। এসময় তারা  আরিফুল ইসলাম ও রফিকুল ইসলাম জুলফিকারকে গণধোলাই দেয়। খবর পেয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও র্যাব ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত দুই শিক্ষককে আটক করে। নাম প্রকাশে  অনিচ্ছুক এক অভিভাবক জানান, তার মেয়ে পঞ্চম  শ্রেণিতে পড়ার সময় ঐ শিক্ষক কর্তৃক যৌন নির্যাতনের শিকার হয়। সে এখন  নবম শ্রেণিতে পড়ছে। দুই/তিনদিন পূর্বে এ ব্যাপারটি জানতে পেরে এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়। স্থানীয়রা  জানান, তিনমাস পূর্বে ঐ শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্কুলের এক শিক্ষিকাকে যৌন হয়রানি করার অভিযোগ উঠে।  তার সব অপরাধে সহযোগিতা করতেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক রফিকুল  ইসলাম জুলফিকার।

এ প্রসঙ্গে র্যাব-১১ এ কর্মরত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আলেপউদ্দিন জানান, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তার মোবাইল ও মোবাইলে থাকা ছাত্রীদের সঙ্গে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অনেক ছবি ও ভিডিও উদ্ধার করেছি। ২০  জনের  বেশি ছাত্রীকে   ব্ল্যাকমেইল করে ধর্ষণ করেছেন ঐ  শিক্ষক। প্রাথমিকভাবে আমাদের কাছে স্বীকার করেছেন তিনি।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার  ওসি  মীর শাহেনশাহ পারভেজ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ব্যাপারে মামলার প্রস্তুতি চলছে। তাদেরকে র্যাব জিজ্ঞাসাবাদ করছে। আরিফুলের বাড়ি মাদারীপুর সদরের শিলপাড়া গ্রামে আর জুলফিকারের বাড়ি ফরিদপুর সদরের বাঘচর এলাকায় বলে জানা গেছে।