হাইকোর্ট বলেছে, দুদকের মধ্যে যদি দুর্নীতিবাজ কেউ থেকে থাকে তাকে ক্যান্সারের মতো ছেঁটে ফেলতে হবে। এসব ক্যান্সার দেশ ও জাতির শত্রু। আদালত বলেন, আমরা চাই দুদক শক্তিশালী হোক, স্বচ্ছভাবে কাজ করুক। জাহালম সংক্রান্ত মামলার শুনানিকালে বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল বৃহস্পতিবার এই মন্তব্য করেন।
হাইকোর্ট দুদক কৌঁসুলির উদ্দেশে বলেন, দুদকের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন আছে। দেশ এখন অর্থনৈতিক দিক দিয়ে স্বর্ণযুগ পার করছে। এখন অনেক অর্থনৈতিক অপরাধ সংঘটিত হবে। আর এসব অপরাধ প্রতিরোধের ক্ষেত্রে দুদকের দায়িত্ব অনেক বেশি। এ সময় দুদকের পক্ষে খুরশীদ আলম খান, রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার ও রিটকারীর পক্ষে অমিত দাসগুপ্ত শুনানি করেন।
শুনানি শেষে হাইকোর্ট নিরপরাধ জাহালমের কারাভোগের বিষয়ে কারা জড়িত সে ব্যাপারে দুদকের অভ্যন্তরীণ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ১১ জুলাই দিন ধার্য করে দেন। আদালত বলেন, ওই প্রতিবেদনটি হাতে পেলে অন্তত জাহালমের কিছুটা ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করতে পারব।
শুনানিতে দুদক কৌঁসুলি বলেন, অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদন প্রস্তুত হয়েছে। এটা এখন কমিশনের অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। আদালত বলেন, কে কে এই ঘটনার জন্য দায়ী সেটা নিয়ে আসলে এত কিছু জানার দরকার ছিল না। নিরপরাধ জাহালমকে কারভোগের ক্ষেত্রে একক কেউ দায়ী নয়। এক্ষেত্রে একটি সিন্ডিকেট কাজ করেছে।
২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলে জাহালমের বিষয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অধিকতর তদন্ত করে দুদক। ওই বছরে দেওয়া প্রতিবেদনে বলা হয়, এজাহার ও অভিযোগপত্রে বর্ণিত আসামি মো. আবু সালেক ওরফে জাহালম (টাঙ্গাইল) প্রকৃত অপরাধী নয়। অধিকতর তদন্তে দেখা যায় মো. আবু ছালেক (ঠাকুরগাঁও) প্রকৃত অপরাধী। এই মামলায় জাহালমকে চার্জশীটভুক্ত আসামি করা হয়েছে মূলত বিভিন্ন সাক্ষীর জবানবন্দি ও শনাক্তের ভিত্তিতে। সাক্ষীদের পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা জানান যে, ছবির সঙ্গে মিল থাকায় জাহালমকে তারা আবু ছালেক মর্মে শনাক্ত করেন।
গত ২ ফেব্রুয়ারি জাহালমের বিষয়ে একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদন আমলে নিয়ে হাইকোর্ট জাহালমকে মুক্তির নির্দেশ দেয়। একইসঙ্গে এ ঘটনায় কারা জড়িত সে বিষয়ে দুদককে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়।
