‘ঢাকার ৯৪ শতাংশ রিকশাচালকই অসুস্থ’। যার মধ্যে ৩০ শতাংশ রিকশাচালক জন্ডিসে আক্রান্ত। তাদের আয়-রোজগার আগের চেয়ে বাড়লেও জীবনমানের উন্নতি হয়নি। বিশেষ করে তাদের বিশ্রাম, খাবার দাবার, বিশুদ্ধ পানি ও টয়লেটের সংকটে ভুগতে হয় প্রকটভাবে। এছাড়া একজন রিকশাচালকের পক্ষে প্রতিদিন রিকশা চালানোও সম্ভব হয় না। এসব বিষয় নিয়ে প্রথমবারের মতো বিস্তর পরিসরে গবেষণা করেছে বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব লেবার স্টাডিজ-বিলস। যারা শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে কাজ করে।
রিকশাচালকদের কাজটি খুবই শ্রমসাধ্য এবং রোদ-বৃষ্টিতে পুড়ে তাদের রিকশা চালাতে হয়। যার একটা বড়ো ধরনের প্রভাব তাদের স্বাস্থ্যের ওপর পড়ে বলে জানান গবেষণা পরিচালক কোহিনূর মাহমুদ। বিলস-এর জরিপ অনুযায়ী, ঢাকার ৯৪ শতাংশ রিকশাচালকই অসুস্থ থাকেন। বিশেষ করে জ্বর-কাশি, ঠাণ্ডা, গায়ে ব্যথা, দুর্বলতা লেগেই থাকে। সেইসঙ্গে ৩০ শতাংশ জন্ডিসে আক্রান্ত বলে ঐ জরিপে উঠে এসেছে। কারণ তাদের জন্য রাস্তাঘাটে সুপেয় পানির কোনো ব্যবস্থা নেই। এছাড়া টয়লেটের সংকটেও ভুগতে হয় তাদের।
রিকশাচালক রিপন মিয়া জানান, তাদের বেশিরভাগ সময় ড্রেনে বা গাছপালার আড়ালে টয়লেটের কাজ সারতে হয়। এছাড়া যে কয়টা মোবাইল টয়লেট বা পাবলিক টয়লেট রয়েছে, সেগুলো ব্যবহারের ক্ষেত্রেও ৫ থেকে ১০ টাকা গুনতে হয় বলে তিনি জানান। বেশিরভাগ রিকশাওয়ালা তাদের দিনের খাওয়া সারেন বিভিন্ন টংয়ের দোকানে রুটি, কেক ও চা খেয়ে। যেন তারা ভাত খাওয়ার পয়সা সাশ্রয় করতে পারেন।
এখন রাস্তাঘাটে যদি তাদের কথা ভেবে সস্তায় পুষ্টিকর খাবার বিক্রির ব্যবস্থা রাখা হতো, তাহলে তাদের হয়তো এতোটা ভোগান্তির মুখে পড়তে হতো না বলে মনে করছে সংস্থাটি।
সব মিলিয়ে রিকশাচালকরা বড়ো ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকেন বলে জানান কোহিনূর মাহমুদ। এছাড়া রিকশার আকৃতি ও প্রকৃতি আমাদের দেশের গড়পড়তা যে শ্রমিকরা আছেন তাদের জন্য আদর্শ নয় বলে তিনি মনে করেন।
তিনি বলেন, যে চালক লম্বা তাকে রিকশাটা নুয়ে চালাতে হয়। যারা খাটো, তাদের দাঁড়িয়ে চালাতে হয়। আবার যারা শারীরিক প্রতিবন্ধী, তারাও রিকশা চালান। কিন্তু রিকশাটা তাদের অনুযায়ী আরামদায়ক করা হয় না। যার কারণে তারা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েন। এ বিষয়গুলো সবসময় এড়িয়ে যাওয়া হয়।
এতে করে অনেক শ্রমিকের গায়ে ব্যথা, দুর্বলতা থেকে শুরু করে তাদের কাজ করার ক্ষমতা আগের চেয়ে কমে যায় বলে গবেষণায় উঠে এসেছে। অর্থাত্ বেশিরভাগ রিকশা শ্রমিক দীর্ঘমেয়াদে কাজ করতে পারে না বলে জানান কোহিনূর মাহমুদ।
বিল্স এর উদ্যোগে ঢাকা মহানগরীর রিকশাচালকদের জীবন-সংগ্রাম, দেশের পণ্য ও নাগরিক পরিবহনে তাদের প্রয়োজনীয়তা, অবদান এবং সংগঠিতকরণ বিষয়ে পরিচালিত একটি গবেষণা প্রতিবেদনের প্রকাশনা অনুষ্ঠান গতকাল ধানমন্ডির বিল্স সেমিনার হলে অনুষ্ঠিত হয়। বিল্স চেয়ারম্যান মো. হাবিবুর রহমান সিরাজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিল্স এর ভাইস চেয়ারম্যান শিরিন আখতার, এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় মহিলা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক শামসুন্নাহার ভূইয়া, এমপি, শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ-স্কপ এর চৌধুরী আশিকুল আলম।
