বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ৮ ফাল্গুন ১৪৩০
দৈনিক ইত্তেফাক

হোটেলে কলেজছাত্রীকে ২ মাস আটকে রাখে পুলিশ সদস্য আল আমিন

আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ২০:৫১

ঠাকুরগাঁওয়ে এক কলেজছাত্রীকে ২ মাস আটকে রাখে কনস্টেবল আল আমিন (২৮) ও তার বন্ধু রবিউল (৩২)। এ সময় কিশোরী নির্যাতন ও ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন। রোববার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাত ১২টায় শিক্ষার্থীর বাবা বাদী হয়ে ঠাকুরগাঁও সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। 

অভিযুক্ত কনস্টেবল আল আমিন ঠাকুরগাঁও পুলিশ লাইনে সংযুক্ত রয়েছেন। তিনি পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার ডাবরডাঙ্গা এলাকার তৈবুর রহমানে ছেলে। অন্যদিকে তার বন্ধু রবিউল ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালে টেলি-মেডিসিন পদে চাকরি করেন। তিনি ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা রায়পুর ইউনিয়নের আব্দুল কাশেমের ছেলে।

অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য আল আমিন। ছবি: ইত্তেফাক

মামলায় আল আমিনকে ১ নম্বর ও রবিউলকে ২ নম্বর আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে দুপুর বেলা শহরের হাজিপাড়া এলাকার হিরণ ম্যাচ থেকে ভুক্তভোগী কিশোরীকে (১৯) উদ্ধার করে ঠাকুরগাঁও সদর থানা পুলিশ। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে রবিউল আটক হয়। অপর আসামি আল আমিন পলাতক রয়েছে। 

ভুক্তভোগী কিশোরী বলেন, আল আমিন আমাকে প্রথমে প্রেমের ফাঁদে ফেলে। আমাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে কক্সবাজার নিয়ে যায়। সেখানে ৫ দিন রেখে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে। কক্সবাজার থেকে এসেই জানতে পারি সে বিবাহিত। তার একটি সন্তানও রয়েছে। আমি নিশ্চিত হই সে প্রতারক। আমি আমার বাসায় ফিরে যেতে চাই। বার বার তাকে অনুরোধ করি। কিন্তু আল আমিন ও রবিউল আমাকে আটকে রাখে। ২ মাস পর্যন্ত আমাকে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন স্থানে রেখে নির্যাতন করেছে। ধর্ষণ করেছে। আমি উপযুক্ত শাস্তি চাই।

ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবা বলেন, আল আমিন ও রবিউল আমার মেয়েকে ভুলিয়ে ফাঁদে ফেলেছে। তাদের পরামর্শে মাস তিনেক আগে হঠাৎ একদিন আমার বাসায় গচ্ছিত থাকা ৮ লক্ষ পঁচাত্তর হাজার টাকা নিয়ে আমার মেয়ে পালিয়ে যায়। তারা আমার মেয়েকে কখনও রবিউলের বোনের বাসায়, কখনও মহিলা ম্যাচে, কখনও বা কক্সবাজার নিয়ে গেছে। প্রায় তিন মাস পর একটি মহিলা মেস থেকে পুলিশের সহায়তায় মেয়েকে উদ্ধার করতে পেরেছি। আমি এই অন্যায় ও জুলুমের বিচার চাই। 

ঠাকুরগাঁও সদর থানার ওসি ফিরোজ কবির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, দুপুর ১২টার সময় একটি মহিলা মেস থেকে মেয়েটিকে উদ্ধার করা হয়েছে। কিশোরী মেয়েটি পুলিশি হেফাজতে রয়েছে। এ বিষয়ে মেয়ের বাবা বাদী হয়ে একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। দোষী যেই হোক, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ইত্তেফাক/পিও