বইমেলা থেকে বের হয়ে সবাই নিজেদের গন্তব্য যাচ্ছে। যেহেতু মেলা তাই সব ধরনের বিক্রেতা এসেছে। বেলুন বিক্রেতা হালিম তার বেলুন নিয়ে টিএসসি মোড়ে এসেছে। যদিও নিরাপত্তার কঠিন বেষ্টনী আছে! সময়টা সন্ধ্যা পেরিয়ে রাতের দিকে। হালিম দুই একটা বেলুন বিক্রি করেছে এমন সময় পুলিশ এসে হালিমকে ধরে ফেলে। শুরু হয়ে গেল বকাঝকা, রাগারাগি। হালিম অসংখ্যবার মাফ চাইল। এই পথে আর আসবে না প্রতিশ্রুতি দিল। কিন্তু পুলিশ রেগে আগুন। নিরাপত্তার বিষয় বলে কথা। একটু উনিশ-বিশ হলেই সব শেষ। হালিম ত্রিশটা বিশাল সাইজের বেলুন এনেছিল বিক্রির জন্য। পুলিশ বেলুনসহ হালিমকে জব্দ করল। ভ্যানের স্ট্যান্ডে বেলুনগুলো বাঁধা। হালিম বেচারা গরিব মানুষ, কী করবে বুঝতে পারছে না। বারবার এদিক-ওদিক তাকাচ্ছে। শুনেছিল বইমেলায় অনেক দরদি লোক আসে।
মেলা থেকে বেরিয়ে এসেছে দুজন লেখক। পুলিশের ভ্যানে রঙিন বেলুন বাঁধা। দৃশ্যটা দেখতেই বেশ ভালো লাগছে।
দুই লেখকের একজন বলল, বাহ্, পুলিশের ভ্যানে বেলুন!
সে পুলিশকে বলল, বেলুন কি আপনাদের?
পুলিশ বলছে, না। এইগুলো বেলুনওয়ালার।
গাড়ির ভিতর বেলুনওয়ালাকে দেখিয়ে দিল। হালিম অসহায় দৃষ্টিতে দুই লেখকের দিকে তাকাল।
ওকে ধরেছেন কেন?
ওদের বার বার নিষেধ করার পরও ওরা এইখানে আসে, পুলিশ বলল।
সমস্যা কোথায়?
এতে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে।
এই কথা শুনে অপর লেখক খানিকটা ভাবল, বেলুনওয়ালার কারণে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে।
প্রথম লেখক বলল, ভাই ও বেচারা গরিব। ওকে ছেড়ে দেন। ও আর কয় টাকা আয় করে...ওকে ছেড়ে দেন...
এই আকুতি বা অনুরোধ কোনোটাই পুলিশের মধ্যে কোনো ক্রিয়া প্রতিক্রিয়া রাখল না।
পুলিশ বলছে, ওকে কালকে কোর্টে চালান করে দেব।
প্রথম লেখক বলছে, ভাই ওকে ছেড়ে দেন।
পুলিশ কথা শুনছে না দেখে দুই লেখকই হাঁটা শুরু করল শাহবাগের দিকে। দ্বিতীয় লেখক বলল, ভাই, দেখেন। যেখানে পুলিশের গাড়ি দাঁড়িয়ে, সেইখান থেকে এই দশ কদমের মধ্যে এখানে একজন লেখককে হত্যা করা হয়েছিল। সেইদিন নিরাপত্তা কোথায় ছিল? অথচ আজ এই সামান্য বেলুনওয়ালাকে নিরাপত্তার কারণে পুলিশ কোর্টে চালান করতে চায়।
প্রথম লেখক খানিকটা হতাশা নিয়ে বলল, কী বলবা বলো?
দুজন লেখক হতাশা নিয়ে হাঁটা শুরু করে। বন্দি বেলুন তাদের দিকে যেন টিপ্পনীর দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে।
