সুন্দরবন সুরক্ষায় চার বছরে ব্যয় হবে ৪৬০ কোটি টাকা

আপডেট : ২৮ জুন ২০১৯, ২১:৪৩

বাগেরহাট প্রতিনিধি                                  

সুন্দরবনের সুরক্ষায় সরকার এবার ব্যয় করবে প্রায় ৪৬০ কোটি টাকা। সরকারের এ পদক্ষেপ সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যকে আরো বেশি সুরক্ষিত করবে, এমন দাবি বন বিভাগের।

প্রসঙ্গত, বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশের প্রাণপ্রকৃতি নিয়ে ইউনেস্কো, ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেটিভ অব নেচার ‘আইইউসিএন’ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

বাগেরহাট পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, সুন্দরবন সুরক্ষায় চার বছর মেয়াদী (১ জুলাই ২০১৯ থেকে ৩০ জুন ২০২৩) প্রকল্পে সংরক্ষিত এই ম্যানগ্রোভ বনের বন্যপ্রাণি-গাছসহ প্রাণপ্রকৃতি ও বনের পরিবেশ-প্রতিবেশের কৌশলগত পরিবর্তন নিয়ে গবেষণার পাশাপাশি সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল সাড়ে তিন লাখ মানুষের জীবন-জীবিকার বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উন্নয়ন-আধুনিকায়নসহ প্রতিবেশ পর্যটন (ইকো ট্যুরিজম), সার্বক্ষণিক বন পাহারায় অত্যাধুনিক জলযান সংগ্রহ, ঝুঁকির মধ্যে থাকা ২৮টি বন অফিস আধুনিকায়ন ও ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনায় আধুনিকায়ন থাকছে। চলতি বছর থেকে ৪৫৯ কোটি ৯৩ লাখ ৫৬ হাজার টাকার এই প্রকল্পের কাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। তিনি আরো বলেন, বিগত কয়েক বছর ধরে সুন্দরবন জুড়ে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ‘স্মার্ট পেট্রোলিং’-এর মাধ্যমে বন পাহারা দেয়ায় এ বছর সর্বশেষ বাঘ জরিপে সুন্দরবনে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের সংখ্যা ১০৬ থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১৪টিতে, খালে বিষ দেয়া রোধে গত ১১ মার্চ থেকে সুন্দরনের অভ্যন্তরে ২৫ ফুট বা তার চেয়ে ছোটো খালগুলোতে সারাবছর মাছ আহরণ নিষিদ্ধ ও ২৫ ফুটের উপরের সব খালগুলোতে মাছের প্রজনন মৌসুম জুলাই ও আগস্ট মাসে মাছ আহরণ নিষিদ্ধ করেছে বন বিভাগ।

এছাড়া বন অফিস বাড়ানোর পাশাপাশি মাছের প্রজনন ও সংরক্ষণের জন্য ১৮টি বড় খাল ও বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির ইরাবতীসহ ছয় প্রজাতির ডলফিনের জন্য তিনটি নদীর ১০.৭ বর্গ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে তিনটি অভয়ারণ্য গড়ে তোলা হয়েছে। পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা(ইসিএ) ঘোষণা করে সুন্দরবনের কাছাকাছি এলাকায় আর কোনো শিল্প-কারখানা স্থাপনের অনুমতি দিচ্ছে না সরকার। সুন্দরবন সুরক্ষায় বাংলাদেশ-ভারত যৌথভাবে কাজ করছে। তিনি বলেন, একের পর এক বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করায় ম্যানগ্রোভ এই বনের প্রাণপ্রকৃতি এখন আগের থেকে অনেক বেশি সুরক্ষিত। তবে বাংলাদেশের এই দাবির সঙ্গে একমত হতে পারছে না ইউনেস্কো ও আইইউসিএন।

পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের ওই কর্মকর্তা বলেন, ইতিমধ্যেই ফ্রান্সে গিয়ে বিদ্যুত্ সচিব ড. আহমেদ কায়কাইসের নেতৃত্বে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের উচ্চ পর্যায়ের একটি সরকারি প্রতিনিধিদল সুন্দরবন সুরক্ষায় বাংলাদেশের নেওয়া সর্বশেষ পদক্ষেপগুলো সম্পর্কে আইইউসিএন সদস্যদের ব্রিফ করে সম্প্রতি দেশে ফিরেছেন। সরকারের উচ্চ পর্যায়ের ঐ প্রতিনিধি দলটি ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্য সম্মেলনে ‘ওয়ার্ল্ড হ্যারিটেজ কমিটির সদস্যদের’ বাংলাদেশের অবস্থান জানাতে ১ জুলাই আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে যাচ্ছেন।

উল্লেখ্য, সুন্দরবনকে ওয়ার্ল্ড হ্যারিটেজ সাইড ঘোষণার পর থেকে ইউনেস্কো এই ম্যানগ্রোভ বন সুরক্ষায় আর্থিক, কারিগরি ও বিশেষজ্ঞ পাঠিয়ে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করে আসছে।