২২ গ্রুপ গঠন
সালাহউদ্দিন মো. রেজা, চট্টগ্রাম অফিস
চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য ভর্তি কয়েকশত কন্টেইনার দ্রুত খালাস করার জন্য চট্টগ্রাম কাস্টমসে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম কাস্টমসে নতুন নিয়োগ পাওয়া কমিশনার মো. ফখরুল ইসলাম কাস্টমসের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিয়ে ২২টি গ্রুপ করেছেন। এই ২২টি গ্রুপের মাধ্যমে পণ্য নিয়ে আসা আমদানিকারকদের তাদের পণ্য দ্রুত খালাসের ব্যাপারে সমন্বয় করা হবে বলে জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ৪/৫ মাস আগে চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য ভর্তি কন্টেইনারসমূহ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছার পরও আমদানিকারকদের মধ্যে ওই সকল পণ্য খালাসের কোনো তত্পরতা দেখা যাচ্ছে না। পণ্য খালাসের জন্য বিল অব এন্ট্রি দাখিল করা হচ্ছে না। অভিযোগ রয়েছে, ঐ সব ফেলে রাখা কন্টেইনারে ঘোষণা বহির্ভূত পণ্য রয়েছে।
কাস্টমসের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, ঐ সব সন্দেহজনক কন্টেইনারের কয়েকটির বিল অব এন্ট্রি দাখিল করা হয়। এতে ঘোষণা বহির্ভূত পণ্য পাওয়া যায়। এর জন্য মিথ্যা ঘোষণার জন্য অতিরিক্ত শুল্ক ও জরিমানা গুণতে হয়েছে। সূত্র মতে, দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম বন্দরে পড়ে থাকা ঐ সব কন্টেইনারের বিরাট সংখ্যকের মধ্যে মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য রয়েছে। এদের মধ্যে ক্যাপিটাল মেশিনারি ঘোষণায় শিল্পের কাঁচামাল আনার ঘোষণা থাকলেও তাতে কাপড়সহ বিভিন্ন ধরনের মূল্যবান পণ্য রয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে বন্ড কিংবা বাণিজ্যিক পর্যায়ে কাপড় আনা হলেও তার বিরাট অংশে নির্দিষ্ট ঘোষণার ব্যত্যয় ঘটতে দেখা গেছে। বন্ডের প্রাপ্যতা এবং নির্দিষ্টমানের বাইরে দামি কাপড় আনার অসংখ্য নজির রয়েছে। একইভাবে বাণিজ্যিকভাবে আনা কাপড়ের ক্ষেত্রেও ব্যত্যয় ঘটতে দেখা যায়। এই সব কারণে চট্টগ্রাম কাস্টমস দিয়ে আনা সব কাপড় খালাসের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি রয়েছে। কাপড় খালাসের ক্ষেত্রে কাস্টমসের গোয়েন্দা বিভাগ অর্থাত্ এআইআর-এর কায়িক পরীক্ষার পরই খালাস দেওয়া হয়।
এদিকে, চট্টগ্রাম বন্দরে অনেক আগে পৌঁছা পণ্যবাহী কন্টেইনারসমূহ দ্রুত খালাসের জন্য কাস্টমসের নির্দিষ্ট কর্মকর্তাগণ সরাসরি আমদানিকারকদের সাথে যোগাযোগ করবেন। এরপরও আমদানিকারকগণ তাতে সাড়া না দিলে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার উপস্থিতিতে কন্টেইনার খোলা হবে। এরপর কাস্টমসের আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে জানা যায়। ইতিমধ্যে কাস্টমসের পক্ষ থেকে স্থানীয় ও জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দরে পড়ে থাকা পণ্য ভর্তি কন্টেইনারসমূহ দ্রুত খালাস করে নেওয়ার জন্য আমদানিকারকদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে। অন্যথায় পণ্য নিলামসহ আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণের কথা বলা হয়।
তবে বিভিন্ন আমদানিকারক ও সিএন্ডএফ-এর পক্ষ থেকে বলা হয়, অতিরিক্ত জরিমানার ভয়ে অনেকে বিল অব এন্ট্রি দাখিল না করে পণ্যসমূহ ফেলে রেখেছেন। মিথ্যা ঘোষণায় আনা পণ্যের ওপর নতুন কমিশনার কর্তৃক কতটুকু জরিমানা আরোপ করা হয় তা দেখার পর পণ্য খালাস নেওয়ার পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।
চট্টগ্রাম কাস্টমসের নবনিযুক্ত কমিশনার মো. ফখরুল ইসলাম ইত্তেফাককে জানান, কার কতটুকু অপরাধ তার ওপর ভিত্তি করে জরিমানা করা হবে। তিনি অতিরিক্ত চাপ বা লোড দেওয়ার পক্ষে নয় বলে জানান। তিনি জানান, দীর্ঘদিন বন্দরে থাকা কন্টেইনারসমূহ আমদানিকারকদের খালাস করে নিতে হবে। অন্যথায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
