তারাগঞ্জে বিদ্যুতের ভর্তুকির টাকা পাচ্ছেন না কৃষক

আপডেট : ২৮ জুন ২০১৯, ২১:৫৪

মো. খবিরউদ্দিন, তারাগঞ্জ (রংপুর) সংবাদদাতা

ফসল চাষে উদ্বুদ্ধ করার জন্য সেচের বিদ্যুত্ বিলের ওপর কৃষককে ২০ শতাংশ ভর্তুকি দিচ্ছে সরকার। কিন্তু রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় কৃষক নয়, এই ভরতুকি চলে যাচ্ছে সেচ পাম্পের মালিকদের পকেটে। উপরন্তু সেচ পাম্পের মালিকেরা এ বছর নানা অজুহাত দেখিয়ে সেচের জন্য কৃষকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

উপজেলা কৃষি বিভাগ ও রংপুর পল্লীবিদ্যুত্ সমিতি-২ (পাগলাপীর)এর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, তারাগঞ্জ উপজেলার বিদ্যুত্চালিত সেচ পাম্প আছে এক হাজার সাতটি। এসব পাম্পের  মাধ্যমে সেচসুবিধা নিয়ে উপজেলায় কৃষকেরা এ বছর ছয় হাজার ২২০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ করেছেন। সরকারপাড়া গ্রামের কয়েকজন কৃষক অভিযোগ করেন, এমনি ধানের দাম কম। প্রতি বিঘায় (৩৩ শতকে) ধান চাষ করে এবার কৃষককে চার হাজার টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে। তার ওপর বিদ্যুতের দাম বেড়ে যাওয়ার কথা বলে গত বছরের তুলনায় এবার সেচ পাম্পের মালিকরা বেশি টাকা নিচ্ছেন। এলাকা ভেদে এই বৃদ্ধির হার একরে দেড় থেকে দুই হাজার টাকা।

বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ তারাগঞ্জ অঞ্চলের সহকারী প্রকৌশলী মোশারফ হোসেন ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আশোক কুমার জানান, এক একর জমিতে সেচ দিতে বিদ্যুত্ খরচ হবে এলাকা ভেদে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা। প্রতি একরে সেচ পাম্প চালকের মজুরি এক হাজার টাকা করে নিলেও প্রতি একরে খরচ পড়বে তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা। বৃষ্টি হলে খরচ আরো কমবে।

রংপুর পল্লীবিদ্যুত্ সমিতি-২ (পাগলাপীর)এর মহাব্যবস্থাপক আলী হোসেন মুঠোফোনে বলেন, ‘সরকার উত্পাদন বাড়াতে বিদ্যুত্ বিলের ওপর ২০ শতাংশ ভর্তুকি দিচ্ছে। কিন্তু পুরো সুবিধা ভোগ করছেন সেচ পাম্পের মালিকরা। তাঁরা চাষিদের ভরতুকি দিচ্ছেন না। চাষিদের উচিত তাঁদের কাছ থেকে ভরতুকির টাকা আদায় করা।’