আওয়ামী লীগের শতাধিক কর্মী-সমর্থক একমাস ধরে বাড়িছাড়া

আপডেট : ০৪ অক্টোবর ২০২৩, ২২:১৪

আওয়ামী লীগের একপক্ষের ভয়ে একমাস ধরে ঘরবাড়ি ছাড়া আছেন চার গ্রামের আওয়ামী লীগের অপরপক্ষের প্রায় শতাধিক কর্মী-সমর্থকেরা। ঘরবাড়ি ছাড়া এসব নেতা-কর্মীরা আশ্রয় নিয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মতিনের অফিসে।

সংকট নিরশনে বুধবার (৪ অক্টোবর) বিকালে গুরুদাসপুরের ধারবাবারিষা ইউনিয়নের চারটি গ্রাম পরিদর্শন করার কথা ছিল নাটোরের পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলামের। আবহাওয়া প্রতিকুল থাকায় পুলিশ সুপার বিবাদপূর্ণ এলাকায় যেতে পারেননি।

সবশেষ বুধবার বিকালে আওয়ামী লীগের এক পক্ষের হাতে আবারো হামলার শিকার হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন খাকড়াদহ সীমান্ত বাজার এলাকার আব্দুস সামাদ নামের একজন। তবে হামলার পর পরই পুলিশ বিবাদপূর্ণ এলাকায় টহল দিতে দেখা গেছে।

বুধবার রাত আটটার দিকে উপজেলার নয়াবাজারস্ত গুরুদাসপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের অস্থায়ী কার্যালয়ে ঘরবাড়ি ছাড়া হওয়া অন্তত ৫০ ব্যক্তির সাথে কথা হয়। তাদের মধ্যে আব্বাস আলী, সাজেদুর রহমান, সেলিম সরকার, ইমরান আলী ও বৃদ্ধ আয়ুব আলী ইত্তেফাককে জানান, ২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই হামলায় তাদের অন্তত ২০টি বাড়িতে ভাংচুর শেষে লুটপাট চালানো হয়েছে। আহত হয়েছেন ২২ জন। চারটি গ্রামের তাদের মতো আওয়ামী লীগের প্রায় শতাধিক কর্মী-সমর্থক ঘর-বাড়ি ছাড়া হয়ে আছেন। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মূলত নাটোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুল কুদ্দুসের মৃত্যুর পর থেকেই আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বর্তমান এমপির সমর্থকরা হামলা মারধর শুরু করেন। বিশেষ করে উপনির্বাচনের জন্য বড়াইগ্রামের উপজেলা চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা ডা. সিদ্দিকুর রহমান পাটোয়ারী দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকে তার কর্মী-সমর্থকরা বেপরোয়া হয়ে উঠেন। বাড়িছাড়া করে রাখেন প্রয়াত সংসদ সদস্য ও দলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মতিনের লোকজনকে।


 
তালবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাক (৭০) ইত্তেফাককে জানান, তারা সাবেক এমপি আব্দুল কুদ্দুস এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মতিনের সমর্থক। এমপি কুদ্দুস মারা যাওয়ার পর থেকে তাদের ওপর হামলা মারধর শুরু করেন ধারাবারিষা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রিপন সরকার ও হাবিবের লোকজন। সেই থেকে তারা বাড়িছাড়া হয়ে আছেন। রিপন ও হাবিব বর্তমান এমপি ডা. সিদ্দিকুর রহমান পাটোয়ারীর সমর্থক। 

তবে ধারাবারিষা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রিপন সরকার ও যুব লীগ নেতা হাবিব মণ্ডল অভিযোগ অস্বীকার করে ইত্তেফাককে বলেন, মূলত তারাই রাজনৈতিকভাবে চাপে রয়েছেন।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মতিন ইত্তেফাককে জানান, ৩০ তারিখ এমপি মারা যাওয়ার পর ২ সেপ্টেম্বর থেকে ধারাবারিষা মোল্লাপাড়া, ফকিরপাড়া, দাদুয়া ও তালবাড়িয়া গ্রামে ধারাবাহিকভাবে এসব সহিংসতার ঘটনা ঘটছে। এসব গ্রামের প্রায় শতাধীক কর্মী-সমর্থকরা ঘরবাড়ি থেকে দলের অস্থায়ী কার্যালয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। এসব ব্যক্তিদের সুষ্ঠুভাবে বাড়ি ফিরিয়ে দিতে তিনি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

গুরুদাসপুর থানার ওসি মো. মোনোয়ারুজ্জামান ইত্তেফাককে বলেন, ধারাবারিষা এলাকার চারটি গ্রামে বিবাদমান দুপক্ষ চারটি মামলা দায়ের করেছেন। তবে ঘরবাড়ি ছাড়া হয়ে থাকার ব্যাপারটা তিনি যানেন না।

ইত্তেফাক/পিও