ভারতের আহমেদাবাদে নিউজিল্যান্ড-ইংল্যান্ডের ম্যাচ দিয়ে গতকাল থেকে শুরু হয়ে গিয়েছে ৪৫ দিনের ক্রিকেট বিশ্বযুদ্ধ। এই আসরে নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলতে আগামীকাল ধর্মশালার হিমাচল প্রদেশ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন স্টেডিয়ামে আফগানিস্তানের বিপক্ষে মাঠে নামবেন টাইগাররা। এখানেই গেল আসরের চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচেও নামবেন টাইগাররা। এই দুই ম্যাচকে সামনে রেখে নেটে ব্যাটিং-বোলিংয়ে কঠোর অনুশীলন করে নিজেদের প্রস্তুত করছেন লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। এ সময় খেলোয়াড়দের মানসিকভাবে শক্ত-নির্মল রাখতে নতুন কৌশল নিয়েছে বাংলাদেশ টিম ম্যানেজম্যান্ট। আর তা হলো—গণমাধ্যমের মুখোমুখি না হওয়া ও মুঠোফোন যত সম্ভব কম ব্যবহার করা আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে দূরে থাকা।
বৃহস্পতিবার হিমাচল প্রদেশের ধর্মশালায় অনুশীলন শেষে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে এ সব বিষয় নিয়ে কথা বলেন টিম ডিরেক্টর খালেদ মাহমুদ সুজন। সামাজিক যোগাযোগের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সোশ্যাল মিডিয়ায় যখন আপনি কোনো স্টোরি পড়তে যাবেন, ফোনের সামনে যখন ৭-৮ ঘণ্টা থাকবেন, ওটা বড় একটি স্ট্রেস। আমরা চাই ঐ স্ট্রেসটা যেন কম পড়ে। এটা যতটা কমানো যায়। মেন্টালি যাতে স্ট্রেস না পড়ে। চোখের ওপর চাপ পড়ে। অনুশীলন সেশনগুলোও গরমের মধ্যে হচ্ছে।’
এদিকে এখন পর্যন্ত ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলন ও ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলন ছাড়া গণমাধ্যমের মুখোমুখি হননি ক্রিকেটাররা। অবশ্য আগেই জানা গিয়েছিল বিশ্বকাপে গণমাধ্যমের সামনে কথা বলবেন না তারা। কেন মিডিয়ার জন্য এমন বিধিনিষেধ? এই প্রসঙ্গে টিম ডিরেক্টর বলেন, ‘আমার মনে হয় মনোযোগটা ক্রিকেটেই থাকুক। যেটা হয় অনেক সময় সাক্ষাত্কার থেকে কথা ছোট করে এমন একটা নিউজ আসে। হয়তো ছেলেটা যে কথা বলল, সরল একটি ভাবনা থেকেই বলল। অনেক সময় অনেক কাটা কাটা নিউজ হয়। যেগুলোর এমন ভয়ংকর শিরোনাম হয়, তাতে সবাই বিব্রত হই। আমার মনে হয় যেহেতু আমাদের মনোযোগ বিশ্বকাপ খেলার দিকে। আমরা চাইব যতটুকু তথ্য...আপনারা তো এখানে আছেন, মাঠে দেখবেন, সবই হবে। কিন্তু একটা করে ইন্টারভিউ যাওয়া সবার জন্য সহজ। আমার মনে হয় ছেলেরা যদি সোশ্যাল মিডিয়া কিংবা মিডিয়া থেকে একটু দূরে থাকে তাহলে মনোযোগের পর্যায়টা ভালো থাকবে। এজন্যই এই চিন্তা যে ম্যাচের আগের দিন অধিনায়ক, সিনিয়র ক্রিকেটার হোক বা কোচ যেন কথা বলেন।’
আসরের প্রথম ম্যাচের প্রতিপক্ষ আফগানিস্তানের বিপক্ষে গেল জুলাই মাসে ঘরের মাটিতে ওয়ানডে সিরিজ খেলেছিলেন টাইগাররা। যেখানে ২-১ ব্যবধানে হেরেছিলেন সাকিবরা। যদিও পরবর্তী সময়ে এশিয়া কাপে আফগানিস্তানকে হারিয়েই আসরের সুপার ফোরে নিশ্চিত করেছিলেন। এবার আবার সেই আফগানিস্তান। এবার কি টাইগাররা ঘরের মাঠের মতো ব্যর্থ হবেন, নাকি পাকিস্তানের মতো দাপটের সঙ্গে জিতবেন? এ প্রসঙ্গে সুজন বলেন, ‘আফগানদের শেষ পারফরম্যান্সের কথা যদি চিন্তা করি পাকিস্তানে হারিয়েছি। আমরা একটি ইতিবাচক নোট নিয়ে শুরু করছে। আফগানিস্তানের খুব ভালো বোলিং অ্যাটাক আছে। তাই বলে যে ওদের হারানো যাবে না, তা না। অথবা ওরাও আমাদের হারিয়ে দেবে এমনও না।’
এর আগে গেল ২৭ সেপ্টেম্বর দেশ ছেড়ে ভারতের গুয়াহাটিতে যায় বাংলাদেশ দল। সেখানে শ্রীলঙ্কা ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেন টাইগাররা। যার মধ্যে প্রথমটিতে বড় জয় পাওয়ার পর দ্বিতীয়টিতে লড়াই করে হারের তিক্তস্বাদ নিতে হয়। এরপর গেল ৩ অক্টোবর হিমাচলে পৌঁছায় বাংলাদেশ। এরপর বিশ্রাম নিয়ে গতকাল থেকে অনুশীলন শুরু করেছে সাকিব বাহিনী।
