‘আনপ্রেডিক্টেবল’ পাকিস্তান এবার পারবে?

আপডেট : ০৬ অক্টোবর ২০২৩, ১৪:৫২

শুরু হয়েছে বিশ্বকাপ। ভারতের মাটিতে চলছে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লড়াই। ২২ গজের লড়াইয়ের উত্তাপে গা মাখছে ক্রিকেটবিশ্ব। কোন দলের কতদূর যাওয়ার সম্ভাবনা, সেই আলোচনাও চলছে। ভারতের আসরে অংশ নেওয়া ১০ দলের শক্তি-দুর্বলতা ও সম্ভাবনা নিয়েই এই আয়োজন। আজ থাকছে পাকিস্তানকে নিয়ে-
 
বরাবরই আনপ্রেডিক্টেবল দল পাকিস্তান। তাদের নিয়ে কখনও ভবিষ্যদ্বাণী করা যায় না। দেখা গেল নিশ্চিত জিততে যাওয়া ম্যাচ হেরে বসেছে, কিংবা হারতে বসা ম্যাচ কোনও এক জাদুর ছোঁয়ায় জিতে নিয়েছে। ‘আনপ্রেডিক্টেবল’ পাকিস্তান এখন বেশ ধারাবাহিক। ওয়ানডেতে কাটাচ্ছে দারুণ সময়। দলে আছে দুর্দান্ত কিছু খেলোয়াড়। বিশ্বকাপ জেতার সব উপাদানই আছে তাদের। ১৯৯২ সালের পর কি তাহলে আবার শিরোপা যাচ্ছে পাকিস্তানে?

এবার না হলে আর কবে? এই পাকিস্তানেকে সমীহ করছে সব দল। সাবেক ক্রিকেটার থেকে শুরু করে ক্রিকেট বিশ্লেষকরাও ফেভারিটের তালিকায় উপরের দিকে রেখেছেন বাবর আজমদের। ভারতের মাটিতে বিশ্বকাপ হওয়ায় সম্ভাবনা আরও বেশি। প্রতিবেশী দেশটিতে তাদের খেলার সুযোগ হয় না। তবে ভারতের কন্ডিশন বারবদের অপরিচিত নয় মোটেও।
পাকিস্তানের পেস বোলিং সবসময় দুর্দান্ত। এবারের বিশ্বকাপেও পেস আক্রমণ বারুদে। নাসিম শাহ চোটে ছিটকে যাওয়ায় কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। তবে শাহীন শাহ আফ্রিদি ও হারিস রউফের দুর্দান্ত ফর্ম আশা জাগাচ্ছে। সেই সঙ্গে অধিনায়ক বাবরের সামর্থ্য উজ্জীবিত করছে তাদের। ব্যাটিংয়ে তার সঙ্গে আছেন মোহাম্মদ রিজওয়ান, ইমাম-উল-হক, ফখর জামান ও ইফতিখার আহমেদের মতো ইনফর্ম খেলোয়াড়।

একনজরে

অধিনায়ক: বাবর আজম।

কোচ: গ্র্যান্ট ব্র্যাডবার্ন।

ডাকনাম: শাহিনস, মেন ইন গ্রিন।

র‌্যাংকিং: ২।

বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছে: ১২ বার (১৯৭৫, ১৯৭৯, ১৯৮৩, ১৯৮৭, ১৯৯২, ১৯৯৬, ১৯৯৯, ২০০৩, ২০০৭, ২০১১, ২০১৫, ২০১৯)।

বিশ্বকাপে সেরা সাফল্য: চ্যাম্পিয়ন- ১৯৯২।

আগের বিশ্বকাপের পারফরম্যান্স

২০১৯ সালের বিশ্বকাপ ভালো কাটেনি পাকিস্তানের। ইংল্যান্ডের মাটিতে হওয়া বিশ্ব আসরে সেমিফাইনাল খেলা হয়নি তাদের। পয়েন্ট টেবিলের পাঁচে থেকে শেষ করতে হয় বিশ্বকাপ। চারে থেকে সেমিফাইনাল খেলা নিউজিল্যান্ডের সমান ১১ পয়েন্ট ছিল পাকিস্তানের। তবে নেট রানরেটে পিছিয়ে থাকায় আগেভাগেই ধরতে হয় দেশে ফেরার বিমান।

কীভাবে বিশ্বকাপে: ওয়ানডে সুপার লিগের সেরা আট দল সরাসরি নিশ্চিত করেছে বিশ্বকাপ। পাকিস্তান পয়েন্ট টেবিলের সাতে থেকে পায় ভারতের বিশ্বকাপের টিকিট।

পাকিনিস্তানের বিশ্বকাপ সূচি

৬ অক্টোবর: নেদারল্যান্ডস (হায়দরাবাদ), দুপুর ২-৩০ মিনিট
১০ অক্টোবর: শ্রীলঙ্কা (হায়দরাবাদ), দুপুর ২-৩০ মিনিট
১৪ অক্টোবর: ভারত (আহমেদাবাদ), দুপুর ২-৩০ মিনিট
২০ অক্টোবর: অস্ট্রেলিয়া (বেঙ্গালুরু), দুপুর ২-৩০ মিনিট
২৩ অক্টোবর: আফগানিস্তান (চেন্নাই), দুপুর ২-৩০ মিনিট
২৭ অক্টোবর: দক্ষিণ আফ্রিকা (চেন্নাই), দুপুর ২-৩০ মিনিট
৩১ অক্টোবর: বাংলাদেশ (কলকাতা), দুপুর ২-৩০ মিনিট
৪ নভেম্বর: নিউজিল্যান্ড (বেঙ্গালুরু), সকাল ১১টা

নজরে থাকবেন

বারব আজম: ওয়ানডেতে দ্রুততম ৫ হাজার রানের রেকর্ড বাবরের। এই সংস্করণে তার ১৯ সেঞ্চুরি পাকিস্তানের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। মাত্র একটি সেঞ্চুরি বেশি নিয়ে শীর্ষে আছেন সাঈদ আনোয়ার। এ বিশ্বকাপেই হয়তো সিংহাসনরা নিজের করে নেবেন বাবর। ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের সঙ্গে আরেকটি গুরুদায়িত্ব আছে তার। এবারের বিশ্বকাপে পাকিস্তানের অধিনায়ক তিনি। ড্রেসিংরুমে সবাইকে একসুতোয় বেঁধে দলকে দারুণ নেতৃত্ব দিচ্ছেন এই ব্যাটসম্যান। তার নেতৃত্বেই ২০২১ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দিয়ে প্রথমবার আইসিসির ইভেন্টে ভারতকে হারিয়েছে পাকিস্তান।

শাহীন শাহ আফ্রিদি: ক্রিকেটবিশ্বে সময়ের অন্যতম সেরা পেসার শাহীন শাহ আফ্রিদি। ২০১৯ সালে খেলা প্রথম ওয়ানডে বিশ্বকাপে ১৬ উইকেট নিয়ে সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছিলেন। ভারতের বিশ্বকাপে তিনি আরও পরিণত। বারুদে ফর্ম সঙ্গী তার। গত এশিয়া কাপে ভারতের টপ অর্ডারকে একাই গুঁড়িয়ে দিয়েছিলেন এই পেসার। বিশ্বকাপটা এবার ভারতে। ওই ম্যাচের আত্মবিশ্বাস অবশ্যই সঙ্গী হয়েছে শাহীনের।

শক্তি

এশিয়া কাপের শেষ দিকের অংশ বাদ দিলে ওয়ানডেতে দুর্দান্ত সময় কাটিয়ে বিশ্বকাপে গেছে পাকিস্তান।

দুর্দান্ত ফর্মে ব্যাটসম্যানরা। ওয়ার্ম-আপ ম্যাচে বারব আজম খেলেছেন ৯০ রানের বিধ্বংসী ইনিংস।

পাকিস্তানের সবসময় বড় শক্তি পেস বোলিং। এবারের বিশ্বকাপেও আছেন একঝাঁক সেরা পেসার।

শাহীন আফ্রিদি একাই ঘুরিয়ে দিতে পারেন ম্যাচ।

দুর্বলতা

বিশ্বকাপের আগে এশিয়া কাপে ভালো করতে পারেনি।

রাজনৈতিক বৈরিতায় ভারতের মাটিতে পাকিস্তান খেলার সুযোগ পায় না বলেই চলে। বিশ্বকাপে এর প্রভাব পড়তে পারে।

একা ম্যাচ ‍ঘুরিয়ে দিতে পারেন, এমন ব্যাটসম্যানের অভাব।

ফর্মে থাকা নাসিম শাহ নেই।

স্পিনাররা মোটেও ছন্দে নেই।

ভবিষ্যদ্বাণী: ফাইনাল

পাকিস্তান স্কোয়াড: বাবর আজম (অধিনায়ক), শাদাব খান, আগা সালমান, মোহাম্মদ নওয়াজ, উসামা মির, হারিস রউফ, হাসান আলী, শাহীন শাহ আফ্রিদি, মোহাম্মদ ওয়াসিম, ফখর জামান, ইমাম-উল-হক, আব্দুল্লাহ শফিক, মোহাম্মদ রিজওয়ান, সৌদ শাকিল, ইফতিখার আহমেদ।

ইত্তেফাক/জেডএইচ