বিশ্বকাপ, ফিরে দেখা

মাহমুদউল্লাহ ও রুবেল বীরত্বগাথা

আপডেট : ০৬ অক্টোবর ২০২৩, ১৫:৪০

এবারের আগে ছয়টি ক্রিকেট বিশ্বকাপে (ওয়ানডে) অংশ নিয়েছে বাংলাদেশ। সেই ছয় আসরে সব মিলে ম্যাচ খেলেছে ৪০টি। যার ১৪টিতে মিলেছে জয়ের সুবাস। সেই ১৪ জয়ের মধ্যে ঐতিহাসিক জয় যেমন আছে, আছে স্নায়ুক্ষয়ী উত্তেজনাকর জয়ও। ১৯৯৯ সালে প্রথম বারের মতো বিশ্বকাপে অংশ নিয়েই দুটি জয় পায় বাংলাদেশ। ২৪ মে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম জয়। বিশ্বকাপে প্রথম জয় হিসেবে যার আলাদা তাত্পর্য রয়েছে। ঐ আসরেই ৩১ মে নর্দাম্পটনে পাকিস্তানের বিপক্ষে পাওয়া জয়টি ঐতিহাসিক মর্যাদা পেয়েছে। একইভাবে ২০০৭ বিশ্বকাপে ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে জয়, ২০১১ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়টিও বাংলাদেশের জন্য ঐতিহাসিক। তবে স্নায়ুক্ষয়ী উত্তেজনা এবং জয়ের গুরুত্ব বিচারে ২০১৫ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পাওয়া জয়টিই বিশ্বকাপের ইতিহাসে বাংলাদেশের সেরা জয়।

বিশ্বকাপের ‘ফিরে দেখা’ পর্বে আজ থাকছে ২০১৫ বিশ্বকাপের ৯ মার্চের সেই জয়। অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেড ওভালে পাওয়া সেই ঐতিহাসিক জয়টি মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও রুবেল হোসেনের বীরত্বগাথার ফসল। মাহমুদউল্লাহ গড়েন বিশ্বকাপে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে প্রথম সেঞ্চুরির রেকর্ড। বল হাতে রুবেল দেখান শেষের জাদু। ১৫ রানের জয়টি একদিকে ছিল স্নায়ুক্ষয়ী। দ্বিতীয়ত, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এই জয়ের মাধ্যমেই বিশ্বকাপে প্রথম বারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালে পা রাখে বাংলাদেশ। শিরোপা দাবিদার ইংলিশদের বিদায় নিতে হয় গ্রুপ পর্ব থেকেই।

টস জিতে ইংল্যান্ড অধিনায়ক এউইন মরগান প্রথমে ব্যাটিংয়ে পাঠান বাংলাদেশকে। ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই বিপদে পড়ে যায় বাংলাদেশ। জেমস অ্যান্ডারসনের তোপের মুখে দলীয় ৮ রানেই দুই ওপনার ইমরুল কায়েসকে (২) ও তামিম ইকবালকে (২) হারিয়ে কাঁপতে থাকে বাংলাদেশ। এই অবস্থায় মাহমুদউল্লাহ। তৃতীয় উইকেটে সৌম্য সরকারের সঙ্গে ৮৬ রানের জুটি গড়ে দলকে নিয়ে যান ৯৪ রানে। কিন্তু এরপরই আবার বিপদ ঘনিয়ে আসে। দলীয় ৯৪ রানে সৌম্য (৪০) এবং ৯৯ রানে সাকিব আল হাসান (২) আউট হলে আবার চাপে পড়ে বাংলাদেশ।

মাহমুদউল্লাহ নতুন করে যুদ্ধ শুরু করেন মুশফিকুর রহিমকে নিয়ে। যুদ্ধে জয়ীও হন তারা। পঞ্চম উইকেটে দুজনে মিলে গড়েন ১৪১ রানের জুটি। যা রানের হিসেবে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের তৃতীয় সর্বোচ্চ জুটি, পঞ্চম উইকেট জুটিতে সর্বোচ্চ। এই পথেই প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে বিশ্বকাপে সেঞ্চুরি করার কীর্তি গড়েন মাহমুদউল্লাহ। অবশ্য আউট হন সেঞ্চুরির পরপরই, ২টি ছক্কা ও ৭টি চারের সহায়তায় ১৩৮ বলে ১০৩ রান করেন। সঙ্গে মুশফিকের ৮৯ রানের ইনিংসে চড়ে বাংলাদেশ পায় ৭ উইকেটে ২৭৫ রানের পুঁজি। তবে এই পুঁজিও জয়ের জন্য যথেষ্ট হতো না, যদি বল হাতে রুবেল শেষের জাদুটা না দেখাতেন।

২৭৬ রানের লক্ষ তাড়ায় নামা ইংলিশদের ২৬০ রানে গুঁড়িয়ে দিতে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা এবং তাসকিন আহমেদও ভূমিকা রাখেন। দুজনেই নেন ২টি করে উইকেট। তবে আসল জাদুটা দেখিয়েছেন রুবেল। ম্যাচে দুই বার তিনি ‘ওভারে ২ উইকেট’ নেওয়ার কৃতিত্ব দেখান। তবে শেষের জাদুটাই ছিল বেশি রোমঞ্চকর। এক পর্যায়ে ইংলিশরা ২ উইকেটেই করে ফেলে ১২১। ঠিক তখনই নিজের প্রথম জাদুটা দেখান রুবেল। ২৭তম ওভারের প্রথম বলে ফিরিয়ে দেন ইয়ান বেলকে (৬৩)। দুই বল পর মরগানকে ডোবান ‘ডাক’-এর লজ্জায়। এরপরও জস বাটলার (৬৫), ক্রিস ওকসরা ম্যাচটা প্রায় বের করে নিচ্ছিলেন। 

শেষ ২ ওভারে তাদের দরকার ছিল ১৬ রান। হাতে ছিল ২ উইকেট। ৪০ বলে ৪২ রান করে ওকস তখনো ক্রিজে। স্টুয়ার্ট ব্রডও শুরু করেছিলেন ঝড়। ৫ বলে করেছিলেন ৯ রান। এই অবস্থায় ৪৯তম ওভারটি করতে আসেন রুবেল। ওভারের প্রথম বলেই তিনি উপড়ে ফেলেন ব্রডের স্টাম্প। এক বলের ব্যবধানে ঠিক একই রকম আরেকটি জাদুকরী ডেলিভারিতে ছত্রখান করেন অ্যান্ডারসনের স্টাম্প। অ্যাডিলেড ওভালে আঁকা হয় বাংলাদেশি জয়োত্সবের ছবি। দুই নায়কের ম্যাচে ম্যাচসেরার পুরস্কারটি উঠে মাহমুদউল্লাহর হাতে।

ইত্তেফাক/জেডএইচ