বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ৯ ফাল্গুন ১৪৩০
দৈনিক ইত্তেফাক

নিত্যপণ্য নিয়ে ভোগান্তি পিছু ছাড়ছে না 

বাজারে একটা সিন্ডিকেট কাজ করছে: ড. কাজী খলিকুজ্জমান আহমদ

আপডেট : ০৭ অক্টোবর ২০২৩, ০৫:৩৯

নিত্যপণ্য নিয়ে ভোগান্তি যেন পিছু ছাড়ছে না স্বল্প আয়ের মানুষের। আলু, পেঁয়াজের বেঁধে দেওয়া দাম তো কার্যকর হয়নি। এর মধ্যে নতুন করে সপ্তাহের ব্যবধানে দাম বেড়েছে ব্রয়লার মুরগি, সবজি ও কাঁচা মরিচের। এছাড়া পেঁয়াজের দাম আরো বেড়েছে। বাড়তি মাছের দামও।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) গত মঙ্গলবার মূল্যস্ফীতির হালনাগাদ যে তথ্য প্রকাশ করেছে তাতে দেখা গেছে, দেশে গত সেপ্টেম্বর মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি সামান্য কমলেও গ্রাম-শহর নির্বিশেষে খাদ্য মূল্যস্ফীতি এখনো ১২ শতাংশের ওপরে। গত আগস্টে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ১২ দশমিক ৫৪ শতাংশ। এর আগে ২০১২ সালের জানুয়ারি মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ১২ দশমিক ৭৩ শতাংশে উঠেছিল।

সংশ্লিস্ট সূত্র বলেছে, সিন্ডিকেটের কারণে সরকার নানা উদ্যোগ নিয়েও বাজারে বিভিন্ন পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারছে না। এই চক্রের কারণেই পণ্যমূল্য বেঁধে দিয়েও তা কার্যকর করা যাচ্ছে না।

যার ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে স্বল্প আয়ের মানুষকে। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর শান্তিনগর, মহাখালি ও তুরাগ এলাকার নতুন বাজারে খোঁজ নিয়ে বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়ার তথ্য জানা যায়।

গতকাল বাজারে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন ধরনের সবজির মধ্যে প্রতি কেজি বেগুন ৮০ থেকে ৯০ টাকা, বরবটি ৭০ থেকে ৮০ টাকা,  নতুন শিম ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা, পটোল, ঢ্যাঁড়শ ৫০ থেকে ৬০ টাকা, মুলা ৪০ থেকে ৫০ টাকা, ঝিঙে, চিচিঙ্গা, ধুন্দুল ৬০ থেকে ৭০ টাকা, পেঁপে ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ছোট আকারের একটি ফুলকপি ও বাঁধাকপি ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এসব সবজি সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ১০ টাকার বেশি বেড়েছে। এছাড়া গতকাল বাজারে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ২২০ থেকে ২৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। 

এদিকে সরকার আলু, পেঁয়াজ ও ডিমের দর বেঁধে দিলেও তা এখনো কার্যকর হয়নি। সরকারের বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য বলছে, গতকাল বাজারে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ৮০ থেকে ৯০ টাকা ও আমদানি করা পেঁয়াজ ৬৫ থেকে ৭৫ টাকায় বিক্রি হয়। এছাড়া আলুর কেজি বিক্রি হয় ৪৬ থেকে ৪৮ টাকায়। অথচ সরকার প্রতি কেজি আলুর দর সর্বোচ্চ ৩৬ টাকা ও দেশি পেঁয়াজ ৬৫ টাকা বেঁধে দিয়েছে। এ প্রসঙ্গে গত বৃহস্পতিবার ফরিদপুরে এক অনুষ্ঠানে কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, সিন্ডিকেট করে আলুর কোল্ড স্টোরেজগুলো (হিমাগার) সাধারণ মানুষের টাকা শুষে নিয়েছে। 

গতকাল বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সবজির পাশাপাশি মাছের দামও বেড়েছে। স্বল্প আয়ের মানুষ চাষের মাছ কিনতেই হিমশিম খাচ্ছেন। চাষের পাঙাশের কেজিই বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২৪০ টাকায়। বছরখানেক আগেও তা ১৮০ টাকা কেজিতে পাওয়া গেছে। বাজারে অন্য মাছের মধ্যে  তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৮০ টাকা,  কই ২৪০ থেকে ৩০০ টাকা, পাবদা ৪৫০ থেকে ৫৫০ টাকা,   রুই, কাতল ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা, চিংড়ি ৮০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা, শোল ৪৫০ থেকে ৬০০ কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ১ হাজার ২০০ টাকা ও এক কেজি ওজনের ইলিশ দেড় হাজার টাকার বেশি চাচ্ছেন বিক্রেতারা।

এ প্রসঙ্গে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. কাজী খলিকুজ্জমান আহমদ ইত্তেফাককে বলেন, বাজারে একটা সিন্ডিকেট কাজ করছে। যে কারণে দেশীয় পণ্যের দামও বাড়ছে। তিনি বলেন, পণ্যের দর বেঁধে দিয়ে তখনই সুফল পাওয়া যাবে, যদি বাজারে পর্যাপ্ত তদারকি করা সম্ভব হয়।

ইত্তেফাক/এএইচপি