বিআরটিসি কবে লাভজনক হবে?

আপডেট : ২৮ জুন ২০১৯, ২২:২০

শুভ্র ঘোষ

 

পরিবহন খাত দেশের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কোনো দেশের পরিবহনব্যবস্থায় স্বাভাবিকতা না থাকলে এর বিরূপ প্রভাব পড়ে অর্থনীতির ওপর। অর্থনীতির স্বাভাবিকতা সর্বদা অক্ষুণ্ন রাখতে দেশে বেসরকারি পরিবহনব্যবস্থার পাশাপাশি গড়ে তোলা হয়েছে সরকারি পরিবহনব্যবস্থা। যেন কোনো সংকটে বেসরকারি পরিবহনব্যবস্থা সচলতা হারালে সরকারি পরিবহনব্যবস্থা তার বিকল্প হিসেবে সংকট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অনেকটা এ রকম চিন্তাধারা থেকে দেশে গড়ে তোলা হয়েছিল বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট করপোরেশন (বিআরটিসি)। কিন্তু বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ব্যক্তি খাতের পরিবহনব্যবস্থা লাভজনক হলেও সরকারি সংস্থা বিআরটিসি দিন দিন অলাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হচ্ছে।

পত্রিকান্তরে প্রকাশিত এক সংবাদে বলা হয়েছে, ‘লাভের মুখ দেখে না বিআরটিসি, আড়াই বছরে লোকসান ৯ কোটি টাকা’। সংবাদটি খুবই উদ্বেগজনক। দেশের পরিবহন খাত দিন দিন বিকশিত হচ্ছে। বেসরকারি পর্যায়ের পরিবহন খাত ঈর্ষণীয়ভাবে অগ্রসর হচ্ছে। বিভিন্ন রুটে নতুন নতুন গাড়ি নামছে। পরিবহন খাতে অনেকে লিমিটেড কোম্পানি তৈরি করে বিশ্বের অত্যাধুনিক যাত্রীবাহী বাস রাস্তায় নামাচ্ছে। তারাও বিভিন্ন রুটে যাত্রীর চাহিদার বিপরীতে গাড়ির সংখ্যা বৃদ্ধি করছে। এসবই করা হচ্ছে লাভজনক অগ্রসরতার ওপর ভিত্তি করে। প্রশ্ন হচ্ছে—বেসরকারিভাবে গড়ে ওঠা পরিবহন কোম্পানিগুলো যদি লাভজনক স্তরে যেতে পারে তাহলে সরকারি বেসরকারি খাতের যাত্রীবাহী বাস ২০ থেকে ২৫ বছর রাস্তায় চলাচলের সক্ষমতা রাখলে বিআরটিসির বাসগুলো পাঁচ থেকে ছয় বছরের বেশি চলে না। অথচ যথাযথ পরিচর্যা করলে একটি বাস ২০ বছর পর্যন্ত সচল রাখা সম্ভব—এমন ধারণা পরিবহন সংশ্লিষ্টদের। প্রশ্ন জাগা স্বাভাবিক, তাহলে বিআরটিসির বাসগুলো অচল বানিয়ে দেওয়ার পেছনে কারণ কী? আর কেনই বা এই প্রতিষ্ঠান লাভজনক হচ্ছে না?

সরকারি যে কোনো প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম ভর করে বেশি। জবাবদিহিতার জায়গাগুলো খুবই সংকুচিত। যার ফলে একশ্রেণির অসাধু কর্মী সুযোগের অপেক্ষায় থাকেন। একপর্যায়ে প্রতিষ্ঠানগুলো লোকসানের মুখে পতিত হয়। পাটকল চিনিকল থেকে শুরু করে সরকার নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন কলকারখানায় এই চিত্র অতি সাধারণ। এসব খাতকে লাভের চেয়ে লোকসানের বোঝাই বেশি বহন করতে হয়। সংবাদ ভাষ্য মতে, বিআরটিসির রয়েছে ১৪৪৫টি বাস। সেগুলোর মধ্যে সচল রয়েছে ৯২১টি। আর অকেজো অবস্থায় ডিপোতে পড়ে রয়েছে ৫২৪টি। গত কয়েক বছরে বিআরটিসির কেনা ৫০০ বাস এখন ভাঙাড়ি হিসেবে বিক্রির অপেক্ষায়। সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ, পরিচালনায় অনিয়ম, স্বচ্ছতা, দক্ষতা ও জবাবদিহিতার অভাব বিআরটিসিকে আজ এ পর্যায়ে এনেছে। না হলে আড়াই বছরে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বিআরটিসি ৯ কোটি টাকা লোকসান করবে কেন?

যেভাবেই হোক, বিআরটিসির অনিয়মগুলো চিহ্নিত করতে হবে। কারা এজন্য দায়ী, তা যথাযথ তদন্ত করে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে। বেসরকারি পরিবহন খাত যদি লাভজনক হতে পারে তাহলে পর্যাপ্ত সুবিধা পাওয়ার পর কেন বিআরটিসি লোকসান করতে থাকবে? আমরা মনে করি, কঠিন জবাবদিহিতা ও দক্ষ ব্যবস্থাপনাই বিআরটিসিকে ফিরিয়ে আনতে পারে গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়ে। উন্নয়নমুখী সরকারকে অচিরেই বিআরটিসির বিষয়ে দৃঢ় পদক্ষেপ নিতে হবে—এমন প্রত্যাশা পরিবহন সংশ্লিষ্ট অনেকের।

মাগুরা