গত কয়েক বছরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের কয়েকটি উল্লেখযোগ্য বেদনাহত স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে ভারত। ২০১৫ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল, ২০১৬ এশিয়া কাপ টি-২০ ফাইনাল, ২০১৭ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিফাইনাল, ২০১৮ এশিয়া কাপ ফাইনালে ভারতের বাধার চৌকাঠ পার হতে পারেনি বাংলাদেশ।
চলমান বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সামনে এখন সেমিতে খেলার হাতছানি, তবে সঙ্গে রয়েছে কঠিন সমীকরণ। এমন কঠিন চ্যালেঞ্জ পাড়ি দেওয়ার মিশনেও টাইগারদের সামনে হাজির ভারত। আগামী ২ জুলাই বার্মিংহামে ভারতের বিরুদ্ধে খেলবে বাংলাদেশ। শেষ চারের আশা বাঁচিয়ে রাখতে ম্যাচটা জিততেই হবে মাশরাফি বিন মুর্তজার দলকে।
এবারের আসরের অন্যতম ফেভারিট দল ভারত। ৬ ম্যাচে ১১ পয়েন্ট নিয়ে সেমির দুয়ারে আছে বিরাট কোহলির দল। ভারতের বিপক্ষে বোলারদের চ্যালেঞ্জটাই বেশি দেখছেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু। গতকাল ইংল্যান্ড থেকে তিনি বলেছেন, বোলাররা ভালো করলে জয়ের সম্ভাবনা বাড়বে বাংলাদেশের। ব্যাটসম্যানরা ছন্দে আছেন বলে ব্যাটিং নিয়ে আত্মবিশ্বাসী তিনি। ভারতকে ২৬০-২৭০ রানে আটকে রাখতে পারলে জয়টা অসম্ভব নয়।
পাঁচ দিনের ছুটি পেয়ে ক্রিকেটাররা সবাই নিজেদের মতো করে সময় কাটাচ্ছেন। আগামীকাল থেকে আবার অনুশীলন শুরু হবে। ছুটি কাটিয়ে ফিরবেন ক্রিকেটাররা।
সেমিতে খেলার আশা জিইয়ে রাখতে পরের দুটি ম্যাচই জিততে হবে। প্রধান নির্বাচক বলছেন, আপাতত ভারতের ম্যাচটা নিয়ে ভাবা উচিত। একসঙ্গে দুটি ম্যাচ নিয়ে ভাবার দরকার নেই। গতকাল ইংল্যান্ড থেকে মুঠোফোনে নান্নু বলেছেন, ‘আমাদের সুযোগ আছে। তবে কঠিন কাজ। এখন দুই ম্যাচ একসঙ্গে চিন্তা করে লাভ নেই। এক ম্যাচ ধরে এগুতে হবে। আমাদের এখন ফোকাস করতে হবে ২ তারিখের ম্যাচ। ওই ম্যাচের পর শেষ ম্যাচ নিয়ে ভাবনা।’
বিশ্বকাপে সাকিব-মুশফিকরা দারুণ ফর্মে আছেন। তামিম, রিয়াদ, মোসাদ্দেকরা রান পাচ্ছেন। যা স্বস্তি দিচ্ছে টিম ম্যানেজমেন্টকে। নান্নু বলেছেন, ‘আমাদের দল পারফর্ম করছে। ব্যাটিংটা ভালো হচ্ছে। আমাদের ব্যাটসম্যানরা ভালো করছে। এটা ধরে রাখতে হবে। বিশ্বকাপের যে কোনো দলের চেয়ে আমাদের ব্যাটিং লাইন ভালোই করছে। আমার কথা হচ্ছে ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে। পরে কি হবে, তা দেখা যাবে।’
ভারতের বিরুদ্ধে বোলারদের চ্যালেঞ্জটাই বেশি দেখছেন প্রধান নির্বাচক। বোলাররা ভালো করলে ভারতকে হারানো সম্ভব। সাবেক এই অধিনায়ক বলেছেন, ‘আমরাও তো ভালো খেলছি। আগে কি হয়েছে, মনে রেখে লাভ নেই। ওদের হারানো অসম্ভব তো নয়। আমি মনে করি, বোলারদের কাজটাই বেশি। ওদের যদি ২৬০-২৭০ রানে আটকে দিতে পারি, তাহলে আমার মনে হয় ভালো সুযোগ থাকবে আমাদের। ওদের বোলিংটাও ভালো, কিন্তু আমাদের ব্যাটসম্যানদের উপর আত্মবিশ্বাস আছে, তারা ভালো খেলছে।’
তবে বাংলাদেশ দলের জন্য বড় চিন্তার কারণ নতুন বলে পেসারদের উইকেটশূন্যতা। বল হাতে নিষ্প্রভ মাশরাফি, সাইফউদ্দিন-মুস্তাফিজরাও শুরুতে উইকেট এনে দিতে পারছেন না। যা ভাবাচ্ছে বাংলাদেশ দলকে। নান্নু গতকাল বলেছেন, ‘নতুন বলে উইকেট পাওয়া তো আসলেই দরকার। শুরুতে উইকেট পেলে প্রতিপক্ষের উপর চাপ সৃষ্টি করা যায়। আবার দেখেন, বিশ্বকাপে প্রতিটি দলই পরিকল্পনা করে নামছে, শুরুতে যেন উইকেট না হারায়। আশা করছি পরের ম্যাচগুলোতে ভালো হবে। পেসাররা শুরুতে উইকেট এনে দিবে। আর তারা এটা করতে পারলে আমাদের সুযোগ আরো বেড়ে যাবে।’
