বিশ্বকাপের মাঝে বেশ বড় একটা বিরতি মিলেছে। পাঁচ দিনের ছুটিতে বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটাররা নিজের মতো করে সময় কাটাচ্ছেন। গতকাল বিকেলে মোবাইলফোনে মাশরাফি বিন মুর্তজাকে যখন পাওয়া গেল, তখন তিনিও গাড়িতে ছিলেন। কোথায়ও যাচ্ছিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।
গত বছর ডিসেম্বরে সর্বশেষ ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ওয়ানডে সিরিজ খেলেছিল বাংলাদেশ। তিন ম্যাচের ওই সিরিজে প্রতিটি ওয়ানডের পরই মাশরাফিকে তাড়া করেছিল অবসরের প্রশ্ন। সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন হয়েছে, এটাই কি দেশের মাটিতে শেষ ওয়ানডে বা শেষ সিরিজ? যদিও তিনি বারবারই দৃঢ়ভাবে বলে গেছেন, না এখনই শেষ নয়। অটোগ্রাফ শিকারিদেরও বলেছেন, আপনারা আরও সুযোগ পাবেন।
বিশ্বকাপের আগেও এসেছিল অবসর বিষয়ক আলোচনা। মাশরাফি সবাইকে নিবৃত করেছেন এই বলে যে, এটাই আমার শেষ বিশ্বকাপ। ইংল্যান্ডে চলমান টুর্নামেন্টে ফিসফিস চলছে, অস্ফুট স্বরে আলোচনাও হচ্ছে, তবে কি বিশ্বকাপেই যতি চিহ্ন পড়ে যাবে মাশরাফির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে?
এ যাত্রাও নড়াইল এক্সপ্রেস জানিয়েছেন, অবসর নিয়ে এখনই ভাবনা নেই। বিশ্বকাপেই নিজের শেষটা দেখছেন না তিনি। বিশ্বকাপের পরও বাংলাদেশের জার্সি গায়ে ২২ গজে ছুঁটতে চান তিনি। তবে এ বিষয়ে বোর্ডের ভাবনাকে গুরুত্ব দিতে চান বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে সফল অধিনায়ক। ওয়ানডে ফরম্যাটে বাংলাদেশের উত্থানের অগ্রনায়ক গতকাল ইংল্যান্ড থেকে মোবাইলফোনে জানিয়েছেন, ‘আমি এখন এসব নিয়ে ভাবছি না। কোনো সিদ্ধান্তই নেইনি। বিশ্বকাপের আরও কয়েকটি ম্যাচ বাকি আছে। আমাদের ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে। আমাদের ভালো সুযোগ আছে, সেগুলো কাজে লাগাতে হবে। ওই দিকেই মনোযোগ দিচ্ছি।’
অবশ্য সরকার দলীয় এই সাংসদের ঘনিষ্ঠ সূত্র গতকাল জানিয়েছে, বিশ্বকাপের পরও খেলতে চান তিনি। তবে সেখানে বিসিবি কীভাবে চিন্তা করছে, তথা বোর্ডের অবস্থান, ভূমিকা অনেক বড় বিষয়। বিশ্বকাপের পরও মাশরাফির খেলা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তকে বিসিবি যদি স্বাগত জানায় এবং সমর্থন, সম্মান জানায়, তবে নিশ্চিতভাবেই তার ক্যারিয়ার আরও কিছুদিন প্রলম্বিত হবে।
বিশ্বকাপের পরপরই তিন ওয়ানডে খেলতে শ্রীলঙ্কা সফরে যেতে পারে বাংলাদেশ। সবকিছু ঠিক থাকলে ওই সফরেও টাইগারদের নেতৃত্বে দেখা যেতে পারে মাশরাফিকে।
