ব্রিটিশ লেখক ইয়ান ফ্লেমিংয়ের হাতে জন্ম জেমস বন্ডের। এরপরই চলচ্চিত্রের পর্দায় হাজির জেমস বন্ড চরিত্রটি। মার মার-কাট কাট সব দৃশ্য থাকে এই জেমস বন্ড ০০৭ সিরিজের চলচ্চিত্রে। ব্রিটিশ সিক্রেট সার্ভিসের এই কর্মকর্তার দুর্ধর্ষ সব অভিযানের গল্প এখনো চলচ্চিত্রপ্রেমী মানুষের মুখে মুখে ফেরে। এই বন্ড সিরিজের একাধিক চলচ্চিত্র দেখেই নিজের নামের সঙ্গে ‘বন্ড’ শব্দ যুক্ত করে দেন নয়ন। যার প্রকৃত নাম সাব্বির আহমেদ নয়ন। বরগুনা জেলা শহরের সকলেই যাকে নয়ন বন্ড নামে চেনে। একসময় ছিলো ছিঁচকে চোর। সেখান থেকে এখন অপরাধ জগতের উঠতি সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত ২৫ বছরের এই যুবক। বুধবার বরগুনা সরকারি কলেজ রোডে দিনদুপুরে রামদা দিয়ে কুপিয়ে রিফাত নামে এক যুবককে হত্যা করে নয়নসহ কয়েক সন্ত্রাসী। এখন দেশজুড়ে আলোচনায় এদের নাম।
এ প্রসঙ্গে বরগুনা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুবায়ের আদনান অনীক ইত্তেফাককে বলেন, ছিঁচকে চোর থেকে মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে নয়ন। সে নিজেই নিজের নামের সঙ্গে ‘বন্ড’ উপাধি জুড়ে দেয়। উদ্দেশ্য ছিলো পরিচিতি পাওয়া। ওর ১৫/২০ জনের নিজস্ব একটি সন্ত্রাসী গ্রুপও রয়েছে। তিনি বলেন, মাদক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে আমরা ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা তাকে একাধিকবার পুলিশে ধরিয়ে দিয়েছি। আবার জামিনে বেরিয়ে এসে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে নিজেকে যুক্ত করেছে। সে ছাত্রলীগের কেউ নয়।
বরগুনা সরকারি কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, ৩/৪ বছর আগে নামের সঙ্গে ‘বন্ড’ শব্দ জুড়ে দেয় নয়ন। এরপর বন্ধু মহলে সকলেই তাকে বন্ড নামে ডাকে। গড়ে তোলে একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ।
বরগুনা পৌরসভার ডিকেপি রোডের কেজি স্কুল এলাকার একাধিক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, জেমস বন্ড সিরিজের ০০৭ নামের সঙ্গে মিল রেখে সন্ত্রাসী গ্রুপ তৈরি করে নয়ন। ঐ গ্রুপের প্রধান সে নিজেই। তার সেকেন্ড ইন কমান্ড রিফাত ফরাজী। এমন কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নেই যে তার সঙ্গে এরা নিজেদেরকে সম্পৃক্ত করেনি। এ কারণে এলাকার লোকজন তাদের ভয়ে তটস্থ থাকত।
