১ মাসের এমপি হতে চান আওয়ামী লীগের ১৬ নেতা

আপডেট : ০৮ অক্টোবর ২০২৩, ১৮:৩৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনে উপনির্বাচন আগামী ৫ নভেম্বর। এ আসনে কে হবেন নৌকার মাঝি তা জানা যাবে রোববার (৮ অক্টোবর)। এরই মধ্যে এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে ১৬ জন দলীয় ফরম জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে সদ্যপ্রয়াত আলোচিত সংসদ সদস্য উকিল আবদুস সাত্তার ভূঁইয়ার ছেলে মাঈনুল হাসান তুষারও রয়েছেন। 

জানা গেছে, রোববার (৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীতে সভানেত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে আওয়ামী লীগের নির্বাচন বোর্ডের সভা আহ্বান করা হয়েছে। সেখানে চূড়ান্ত করা হবে আওয়ামী লীগের প্রার্থী।

উকিল আবদুস সাত্তার ভূঁইয়ার ছেলে মাঈনুল হাসান তুষার জানান, শনিবার আওয়ামী লীগের সদস্যপদ গ্রহণ করে মনোনয়নের আবেদন ফরম সংগ্রহ করেন। মোট ১৬ জন মনোনয়নের আবেদন জমা দিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেন সাবেক ছাত্রনেতা, মনোনয়ন প্রার্থী আবদুল হান্নান রতন। 

দলের মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন ২০১৮ সালের নির্বাচনে উকিল আবদুস সাত্তার ভূঁইয়ার প্রতিদ্বন্দ্বী মাঈন উদ্দিন মঈন, সংরক্ষিত আসনের নারী সংসদ সদস্য উম্মে ফাতেমা নাজমা বেগম (শিউলী আজাদ), সাবেক ছাত্রনেতা কামরুজ্জামান আনসারী, আবদুল হান্নান রতন, শাহজাহান আলম সাজু, জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল বারী চৌধুরী, আশুগঞ্জের আওয়ামী লীগ নেতা হাজী ছফিউল্লাহ মিয়া, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যাবিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য ডাক্তার আশীষ কুমার চক্রবর্তী, সরাইল আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট নাজমুল হোসেন, অ্যাডভোকেট সৈয়দ তানভীর কাউসার, শাহ মফিজ, সরাইল উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রফিক উদ্দিন ঠাকুর, সরাইল যুবলীগ নেতা আশরাফ উদ্দিন মন্তু, আবু শামীম মোহাম্মদ পিয়ার, এমডি জালাল। 

৩০ সেপ্টেম্বর এই আসনের আলোচিত সংসদ সদস্য উকিল আব্দুস সাত্তার ভূইয়া মারা যান। পরের দিন এই আসনটি শূন্য ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। এরপরই এ আসনে উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। তফসিল অনুযায়ী ৫ নভেম্বর এখানে উপনির্বাচন। এর আগে এই বছরের ১ ফেব্রুয়ারি এই আসনে উপনির্বাচন হয়েছিল। ৫ নভেম্বরের নির্বাচন নিয়ে গত ৫ বছরে এ আসনে ৩ বার সংসদ নির্বাচনের স্বাদ গ্রহণ করবেন ভোটাররা। 

২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি দলীয় প্রার্থী আব্দুস সাত্তার ৮৩ হাজার ৯৯৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাঈন উদ্দিন মঈন। তিনি পেয়েছিলেন ৭৫ হাজার ৪১৯ ভোট। এরপর উকিল আবদুস সাত্তার ভূইয়া সংসদ থেকে পদত্যাগ করে উপনির্বাচনে আবারও স্বতন্ত্র প্রতিদ্বন্ধিতা করেন। ১ ফেব্রুয়ারির উপনির্বাচনে সাত্তার ভূঁইয়া ৪৪ হাজার ৯১৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার  নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাপার আবদুল হামিদ ভাসানী পান ৯ হাজার ৬৩৫ ভোট।
 
আলোচিত এই আসনটি সরাইল উপজেলার ৯টি, আশুগঞ্জ উপজেলার ৮টিসহ মোট ১৭টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ১০ হাজার ১১২। সরাইল উপজেলার মোট ভোটার ২ লাখ ৬৬ হাজার ৫৯৭। আর আশুগঞ্জ উপজেলার মোট ভোটার ১ লাখ ৪৩ হাজার ৫১৫।

ইত্তেফাক/পিও