এ বছর জেন্ডার বাজেটে টাকার অঙ্ক বেড়েছে, তবে তা গতানুগতিক বলে মনে করছেন নারী নেত্রীরা। বাজেট বক্তৃতায় বলা হয়েছে— নারীর প্রতি বৈষম্য ও সহিংসতা দূর করতে আইনগত সংস্কার করা হবে। এটি অবশ্যই ইতিবাচক দিক। সিডও সনদের বৈষম্যমূলক একটি ধারায় এখনো সংরক্ষণ রাখা হয়েছে। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, সব ধরনের বৈষম্যমূলক আইন বিলোপের ঘোষণা ইতিবাচক। তবে দেখার বিষয়, এটি কেবলই বলার জন্য বলা কি না। এছাড়া বরাদ্দকৃত অর্থ নারীর জীবনে কীভাবে প্রভাব ফেলছে, কোথায় কোথায় দুর্বলতা আছে সেই বিষয়গুলোও দেখা প্রয়োজন বলে জানান নারী নেত্রীরা।
আসছে ২০১৯-২০ অর্থবছরে জেন্ডার বাজেটের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির কথা উল্লেখ করে নারী নেত্রীরা বলেন, জেন্ডার সংবেদনশীল বাজেটের মূল দর্শন একটি দেশের নারীর ক্ষমতায়ন পূর্ণাঙ্গরূপে নিশ্চিত করা। সরকারের আয় ও ব্যয়ের নীতির প্রভাব জেন্ডারের ওপর কতটুকু পড়ে তার বিস্তারিত বিশ্লেষণ থাকে এই বাজেটে। তবে নজরদারির অভাবে বাজেট বরাদ্দের কতটুকু বাস্তবায়িত হচ্ছে, নারীর জীবনে কোন কোন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে, তার কোনো তথ্য নেই। যা এই বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও বড়ো প্রতিবন্ধকতা বলে মনে করেন তারা।
২০১৯-২০ অর্থবছরে প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে নারী উন্নয়নে বরাদ্দ ১ লাখ ৬১ হাজার ২৪৭ কোটি টাকা। যা মোট বাজেটের ৩০ দশমিক ৮২ শতাংশ এবং জিডিপির ৫ দশমিক ৫৬ শতাংশ। ৪৩টি মন্ত্রণালয়ের জেন্ডার বাজেটের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থের সমষ্টি এই ৩০ দশমিক ৮২ শতাংশ। যা বাজেট বরাদ্দের একটি পৃথক বইয়ে সন্নিবেশিত করে দেওয়া হয়েছে। গত অর্থবছরে যা ছিল ১ লাখ ৩৭ হাজার ৭৪২ কোটি টাকা। মূলত জাতীয় বাজেটে কত অংশ নারীদের কাছে পৌঁছাচ্ছে তাই পৃথক করে দেখানো হচ্ছে জেন্ডার বাজেটে। এটা আলাদা করে কোনো বরাদ্দ নয়।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়শা খানম বলেন, জেন্ডার সমতার জন্য জেন্ডার বাজেট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে এখন গুরুত্ব দেওয়ার বিষয় হলো জেন্ডার বাজেটের বরাদ্দ সঠিকভাবে হচ্ছে কি-না? নারীর জীবনের গুণগত মান পরিবর্তন হচ্ছে কি-না? তাদের জীবনের ইতিবাচক পরিবর্তন আসছে কি-না? কারণ—সকল পরিবর্তনই কিন্তু উন্নয়ন নয়। তাই বরাদ্দের ওপর মনিটরিং এবং রিভিউ এর জন্য দরকার একটি মনিটরিং সেল গঠন করা।
বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস) এর সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. নাজনীন আহমেদ বলেন, নারী পুরুষের মধ্যে অসমতা দূর করতে জেন্ডার বাজেটের প্রয়োজন। শতকরা ৫০ ভাগ জেন্ডার বাজেটে বরাদ্দ রাখলেই যে তা ফলপ্রসূ হবে তা নয়। আমরা বারবার বলে আসছি, বরাদ্দ দেওয়ার পাশাপাশি বিগত বছরে এ ক্ষেত্রে কী কী অর্জন আছে সেইগুলো তুলে ধরার বিষয়। কিন্তু সেটি হচ্ছে না।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা বলেন, জেন্ডার বাজেটের মাধ্যমে জেন্ডার বৈষম্য দূর করতে বরাদ্দের ক্ষেত্রে জেন্ডার সেল থাকা দরকার। এছাড়া শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র তৈরিতে সরকারের সঙ্গে ব্যক্তিগত প্রণোদনা প্রদানের মাধ্যমে কাজ করা দরকার। উল্লেখ্য, জাতীয় বাজেটকে জেন্ডার সংবেদনশীল করতে পাঁচটি বিষয়কে সন্নিবেশিত করে কৌশল অবলম্বন করা হয়েছে।
