ঋণখেলাপি মানেই খারাপ মানুষ হয়ে গেল, তা ঠিক নয় বলে মন্তব্য করেছেন শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন। তিনি বলেন, ঋণ নিয়েই অনেকে বড় বড় শিল্পের মালিক হয়েছেন। কর্মসংস্থানে অবদান রেখেছেন। ঋণ ছাড়া কোনো ব্যবসা হয় না। গতকাল শুক্রবার মতিঝিলে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। রাষ্ট্রপতির শিল্প উন্নয়ন পুরস্কার প্রদান উপলক্ষে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার বলেন, ঋণখেলাপিরা এ পুরস্কার পাচ্ছে না। যারা ঋণখেলাপি নয়, বিল কিংবা করখেলাপি নয়, তাদের এ পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। ঋণখেলাপিরা যাতে কোনো সুবিধা না পায় সেদিকে খেয়াল রাখা হয়।
শিল্প উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানে অবদান রাখায় ২০১৭ সালের জন্য এ পুরস্কার ঘোষণা করেছে শিল্প মন্ত্রণালয়। আজ শনিবার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এ পুরস্কার তুলে দেবেন। ২০১৫ সাল থেকে এ পুরস্কার প্রদান করে আসছে সরকার। এবার ছয়টি ক্যাটাগরিতে এ পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। বৃহত্ শিল্প ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পাচ্ছে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, এনভয় টেক্সটাইল ও অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ। মাঝারি শিল্প ক্যাটাগরিতে ময়মনসিংহের গ্রীন টেক্সটাইল, গাজীপুরের ডি এন্ড এস প্রিটি ফ্যাশন্স, ধামরাইয়ের জিএমই এগ্রো। ক্ষুদ্র শিল্প ক্যাটাগরিতে গাজীপুরের অটোটেক্স লিমিটেড, ঢাকার এপিএস অ্যাপারেলস, চট্টগ্রামের বিএসপি ফুড প্রোডাক্টস। মাইক্রো শিল্প ক্যাটাগরিতে ঢাকার স্মার্ট লেদার প্রোডাক্টস, কুটির শিল্প ক্যাটাগরিতে ঢাকার কোর দি জুট ওয়ার্কস, প্রতিবেশী প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও কুটির শিল্প উন্নয়ন সংস্থা পুরস্কার পাচ্ছে। এ ছাড়া হাইটেক শিল্প ক্যাটাগরিতে ঢাকার সার্ভিস ইঞ্জিন লিমিটেড ও ন্যাসেনিয়া লিমিটেড পুরস্কার পাচ্ছে।
শিল্পমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন ক্যাটাগরির সেরা প্রতিষ্ঠানগুলোকে জাতীয় পর্যায়ে পরিচয় করিয়ে দেওয়া, গুণগত মানোন্নয়ন এবং উদ্যোক্তাদের মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব তৈরি করা এ পুরস্কার প্রদানের অন্যতম উদ্দেশ্য। এর ফলে পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়ন, যোগাযোগ বৃদ্ধি ও সেতুবন্ধন তৈরি, আস্থার পরিবেশ তৈরি এবং শিল্পখাত দেশি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উত্সাহ তৈরি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে শিল্প সচিব মো. আব্দুল হালিমসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
