‘আমি ফিলিস্তিন সরকারের অধীনে থাকতে চাই না’

আপডেট : ১০ অক্টোবর ২০২৩, ১৯:২১

আরব-ইসরায়েলি ভ্লগার এবং জনপ্রিয় অনলাইন প্লাটফর্ম ‘নাস ডেইলি’র প্রতিষ্ঠাতা নুসির ইয়াসিন গাজা ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সংঘাতে ইসরায়েলকে সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছেন। অনলাইন প্ল্যাটফর্মে শেয়ার করা পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘আমি ফিলিস্তিনি সরকারের অধীনে থাকতে চাই না।’ 

সোমবার (৯ অক্টোবর) এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি সমর্থন প্রকাশ করেন।

ইয়াসিন লিখেছেন, আগে নিজেকে একজন ‘ফিলিস্তিনি–ইসরায়েলি’ হিসেবে মনে হতো। কিন্তু এখন নিজেকে প্রথমে একজন ইসরায়েলি হিসেবে দেখি। আমি সবচেয়ে বেশি সময় ধরে আত্মপরিচয় নিয়ে লড়াই করেছি। আমি ইসরায়েলের ভেতরে জন্ম নেওয়া এক ফিলিস্তিনি শিশু।

তিনি লিখেছেন, ‘আমার অনেক বন্ধু আজ অবধি ‘ইসরায়েল’ শব্দটি উচ্চারণ করতে অস্বীকার করে এবং নিজেদের শুধু ‘ফিলিস্তিনি’ পরিচয় দেয়। কিন্তু যেহেতু আমি ১২ বছর (ইসরায়েলে) ছিলাম, আমার কাছে এর কোনো অর্থ ছিল না। তাই আমি দুই পরিচয়কে এক করে ‘ফিলিস্তিনি–ইসরায়েলি’ হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। আমি ভেবেছিলাম, আমি কে- তা এই শব্দটির মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়। আমি প্রথমত ফিলিস্তিনি, দ্বিতীয়ত ইসরায়েলি।’ 

‘কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনায়...আমার ভাবনা ক্ষোভে পরিণত হয়েছে। আমি বুঝতে পেরেছি যে, ইসরায়েল যদি আবার এভাবে ‘আক্রান্ত’ হতে থাকে, তাহলে আমরা নিরাপদ থাকব না। ইসরায়েল আক্রমণকারী সন্ত্রাসীদের কাছে সব নাগরিকই লক্ষ্যবস্তু। ৯০০ ইসরায়েলি মারা গেছে। তাদের মধ্যে ৪০ জনেরও বেশি আরব। তারা অন্য আরবদের হাতে নিহত হয়েছে। এমনকি দুই জন থাই নাগরিকও মারা গেছে।’ 

আমি ফিলিস্তিনি সরকারের অধীনে থাকতে চাই না উল্লেখ করে নাস ডেইলির প্রতিষ্ঠাতা লিখেন, এর মানে হলো, আমার একটাই বাড়ি আছে, এমনকি আমি ইহুদি না হলেও সেটি হলো ইসরায়েল। সেখানেই আমার পুরো পরিবার বসবাস করে। সেখানেই আমি বড় হয়েছি। এটাই আমি চাই যে, দেশটির অস্তিত্ব থাকবে। যেন আমার অস্তিত্ব টিকে থাকতে পারে।’ 

ফিলিস্তিনেরও একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে অস্তিত্ব থাকা উচিত উল্লেখ করে তিনি লিখেন, আমি আশা করি, দেশটির (ফিলিস্তিন) উন্নতি হবে এবং কম উগ্র ও আরও সমৃদ্ধ হবে। আমি ফিলিস্তিনকে ভালোবাসি এবং ফিলিস্তিনে বিনিয়োগ করেছি। কিন্তু সেটি আমার বাড়ি নয়।

শেষে নুসির লিখেন, আজ থেকে আমি নিজেকে একজন ‘ইসরায়েলি–ফিলিস্তিনি’ হিসেবে দেখি। আগে ইসরায়েলি, পরে ফিলিস্তিনি। কখনো কখনো এভাবে স্পষ্ট করে দেখতে পারার মধ্যে একটা ধাক্কা লাগে।’ 

ইত্তেফাক/এবি