আশেপাশে এত এত বন্ধু, অথচ তারা জানতোই না কতোটা পরম উপকারী এই বন্ধুরা। ‘পরম বন্ধু গাছকে জানি’ স্লোগানকে সামনে রেখে মানুষের প্রিয় বন্ধু গাছকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে পরিচিত করানোর লক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো ‘শিশুদের বৃক্ষ পরিচিতি মেলা’ শীর্ষক ভিন্নরকম এক মেলা।
বুধবার (১১ অক্টোবর) উপজেলা কৃষি ও শিক্ষা অফিসের সহযোগিতায় উপজেলা পরিষদ চত্ত্বরে দিনব্যাপী এই ব্যতিক্রমী মেলা আয়োজন করে। উপজেলার ৯৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহস্রাধিক শিক্ষার্থী মেলায় এসে বিভিন্ন গাছ চেনার পাশাপাশি এইসব গাছের বৈশিষ্ট্য, উপকারিতা সম্পর্কে ধারণা লাভ করে।
মেলায় বনজ, ফলজ, ঔষধি, ফুল, তেল-মসলা জাতীয় বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ২৮২ প্রকারের গাছ ও সবজি শিক্ষার্থীদেরকে পরিচিত করানোর জন্য উপস্থাপন করা হয়। প্রায় ১২০ প্রকার সবজি, শস্য ও গাছের বীজও মেলায় প্রদর্শন করা হয়। শিক্ষার্থীরা সকাল থেকেই উপজেলা প্রাঙ্গণে ভিড় জমায়। বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রকৃতি ও পরিবেশবিষয়ক লেখক ও গবেষক মোকারম হোসেন এই আয়োজনে মুখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
মোকারম হোসেন তার বলেন, ‘আজকের এই মেলায় উপস্থিত শিশুরা অন্যদের চেয়ে অনেক এগিয়ে গেলো। ওরা গাছকে চেনার মাধ্যমে জীবনকে চিনলো’। এর আগে তিনি শিক্ষার্থীদেরকে নিয়ে স্টলে স্টলে ঘুরে বিভিন্ন গাছ সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের বর্ণনা করেন এবং গাছ সম্পর্কিত নানা প্রশ্নের উত্তর দেন। এরপর উপজেলা প্রাঙ্গনে থাকা পুরনো গাছগুলোর বিষয়ে তিনি ধারণা দেন। গাছ নিয়ে নতুন নতুন তথ্য জেনে শিক্ষার্থীরাও ভীষণ মজা পায়।
মেলায় আগত বেশ কয়েকজন অভিভাবক বলেন, শিক্ষার্থীদেরকে বিভিন্ন গাছ সম্পর্কে ধারণা দেওয়ার এই আইডিয়া সত্যিকার অর্থেই অসাধারণ। এখন আমাদের বাচ্চারা বাড়ির আশেপাশে অবসর সময়ে বাগান করতে উৎসাহী হবে। মোবাইল-কার্টুনের আসক্তি থেকে একটু বাইরে আনা যাবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দিপন দেবনাথ বলেন, আমাদের পরম উপকারী বন্ধু গাছ সম্পর্কে শিক্ষার্থীদেরকে প্রাথমিক জীবনেই ধারণা দেওয়ার লক্ষ্যে এই আয়োজন। গাছের প্রতি অনুরাগ সৃষ্টি করা না গেলে পরিবেশকে বাঁচানো যাবে না। প্রধানমন্ত্রীর ‘এক ইঞ্চি জমি যেন ফাঁকা না থাকে’ অনুশাসন বাস্তবায়নের জন্যও শিক্ষার্থীদেরকে গাছ ও প্রকৃতি সম্পর্কে জানাতে হবে।
মেলায় উপস্থিত অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) শুক্লা সরকার উপজেলা প্রশাসনের অভিনব এ উদ্যোগের জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি এধরণের আয়োজন আরও বেশি বেশি হওয়া জরুরি বলে মনে করেন। পরে মেলায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের নিয়ে গাছের উপর ভিত্তি করে তাৎক্ষণিক একটি কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। সর্বোচ্চ উত্তর প্রদানকারী বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার হিসেবে বই, ক্রেস্ট এবং গাছের চারা বিতরণ করা হয়।
