বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৪, ১২ বৈশাখ ১৪৩১
The Daily Ittefaq

ইত্তেফাকের সাংবাদিককে হুমকি, অডিও ভাইরাল

আপডেট : ১২ অক্টোবর ২০২৩, ১৭:২৩

পিরোজপুরের নাজিরপুরে ইত্তেফাকের সাংবাদিক অনুপ কুমার সিকদারকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে শিক্ষক লাহেল মাহামুদের বিরুদ্ধে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়। এ ঘটনায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক। 

অভিযুক্ত লাহেল মাহামুদ নাজিরপুর বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। তিনি নাজিরপুর উপজেলা বিএনপির নির্বাচিত সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও বরিশাল বিএম কলেজের জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক নেতা ছিলেন। 

জানা যায়, বৃহস্পতিবার (১২ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ইত্তেফাকের নাজিরপুর সংবাদদাতা অনুপ কুমার সিকদারের ব্যবহৃত ফেসবুক আইডির ম্যাসেঞ্জারে লাহেল মাহামুদ নামের ওই শিক্ষক তার ব্যবহৃত ফেসবুক আইডির মেসেঞ্জার থেকে ফোন দেয়। এবং সাংবাদিক ও সাংবাদিকের মাকে তুলে কুরুচিপূর্ণ ভাষায় গালিগালাজ এবং তার অবস্থান জানতে চেয়ে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে লাইন কেটে দেয়। অভিযুক্ত শিক্ষক লাহেল মাহামুদের বিরুদ্ধে নাজিরপুর থানায় একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে।  

এছাড়া লাহেল মাহামুদ সাংবাদিকদের নামে ফেসবুকে কটুক্তিমূলক স্ট্যাটাস দেয়। সেই স্ট্যাটাসের কমেন্টে অনুপ কুমার সিকদারসহ একাধিক ব্যক্তি ‘চাঁদাবাজি মামলায় লাহেল মাহামুদ গ্রেপ্তার’ শিরোনামের একটি নিউজের লিংক এবং গ্রেপ্তার হওয়া ছবি ও মামলার কপি পোস্ট করে প্রতিবাদ জানান। 
 
ভুক্তভোগী ইত্তেফাকের সাংবাদিক অনুপ কুমার সিকদার জানান, ৮ অক্টোবর বাংলাদেশ প্রতিদিনে সিনিয়র সাংবাদিক এবং কলামিস্ট প্রভাস আমিন, ‘বাংলাদেশে কি একজন এসিল্যান্ড ঘুষ খায়’ শিরোনামে তার লেখা একটি কলাম প্রকাশিত হয়। কলামটি নাজিরপুর বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ইংরেজী শিক্ষক লাহেল মাহামুদ তার ফেসবুক আইডির ক্যাপশনে নাজিরপুর উপজেলায় কর্মরত বহুল প্রচারিত দেশের সনামধন্য পত্রিকার সাংবাদিকদের নিয়ে অসৌজন্যমূলক একটি পোস্ট দেয়। ওই পোস্টটি আমার নজরে পড়লে পোস্টের কমেন্টে লাহেল মাহামুদের পূর্বে নাজিরপুর থানার একাধিক মামলার কপি ও বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকার চাঁদাবাজি নিউজের লিংক দিয়ে প্রতিবাদ জানালে সে ক্ষিপ্ত হয়ে আমি এবং আমার মাকে উদ্দেশ্য করে অকথ্যভাষায় গালিগালাজ করে। এছাড়া আমি কোথায় অবস্থান করছি জানতে চেয়ে দেখে নেওয়ার হুমকি দেয়।  

অভিযুক্ত শিক্ষক লাহেল মাহামুদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ প্রতিনিধির পরিচয় পেয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে তুই-তোকারি করে অভিযোগের বিষয়ে কোনো মন্তব্য না করে ফোনের সংযোগটি কেটে দেয়।

নাজিরপুর থানার ওসি হুমায়ুন কবির বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।  

ইত্তেফাক/পিও