প্রসূতি মৃত্যুর হার অন্য অর্জনকে ম্লান করছে

আপডেট : ২৮ জুন ২০১৯, ২৩:৫৬

বিশ্বে এখনো প্রতিদিন প্রায় ৮৩০ জন নারী সন্তান প্রসবের সময় মারা যায়। বাংলাদেশে এখনো মাতৃমৃত্যুর হার অনেক বেশি। অথচ মাতৃমৃত্যুর সঙ্গে জড়িত কারণগুলো সহজেই প্রতিরোধযোগ্য। মাতৃমৃত্যুর দ্বিতীয় প্রধান কারণ খিঁচুনি বা একলাম্পশিয়া। যা প্রাথমিক পর্যায়ের স্বাস্থ্য কেন্দ্রে গর্ভবতী মায়েদের ম্যাগনেশিয়াম সালফেট ইনজেকশন প্রদানের মাধ্যমে বহুলাংশে মাতৃমৃত্যু কমানো সম্ভব বলে জানান সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। 

বৃহস্পতিবার স্থানীয় একটি হোটেলে ‘এন্ডিং একলাম্পশিয়া’ নামক একটি প্রকল্পের ফলাফল প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষজ্ঞরা এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. কাজী মোস্তফা সারওয়ার। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের লাইন ডিরেক্টর ডা. মোহাম্মদ শরীফ।

‘পপুলেশন কাউন্সিল ইউএসএইড এর সহযোগিতায় সম্প্রতি ‘এন্ডিং একলাম্পশিয়া’ প্রকল্প টাঙ্গাইল, কুমিল্লা, রংপুর ও ভোলা জেলার ১২টি উপজেলায় সম্পন্ন হয়েছে। এ প্রকল্পের উদ্দেশ্য ছিল মাতৃমৃত্যু কমানোর লক্ষ্যে গর্ভবতী মায়েদের খিঁচুনি শনাক্তকরণ, প্রতিরোধ এবং চিকিত্সায় ম্যাগনেশিয়াম সালফেট ইনজেকশনের ব্যবহার বৃদ্ধি করা। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, এই একটা তথ্যই যথেষ্ট এটা বুঝানোর জন্য যে নীতিনির্ধারক এবং উন্নয়নকর্মীদের এখনো অনেক কাজ বাকি মাতৃস্বাস্থ্য উন্নয়নের জন্য।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. কাজী মোস্তফা সারওয়ার বলেন, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের মধ্যে গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপ নির্ণয় করা বিষয়ক জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি আরো বলেন, আমি বিশ্বাস করি ‘এন্ডিং একলাম্পশিয়া’ প্রকল্পের এ ফলাফলগুলো ভবিষ্যত্ নীতিমালা প্রণয়ন এবং প্রি-একলাম্পশিয়া/ একলাম্পশিয়া ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বক্তারা বলেন, দেশে এখনো মাতৃমৃত্যুর হার অনেক বেশি থাকার কারণে, বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমাদের অনেক অর্জনকে ম্লান করে দিতে পারে। এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে মাতৃমৃত্যুর হার প্রতি ১ লাখ জীবিত শিশুর জন্মে ৭০ এর নিচে নামিয়ে আনতে হবে। মাতৃমৃত্যুর হার কমানোর জন্যে সরকার অনেক ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। কিন্তু এখনো আরো কিছু করণীয় আছে।

অন্যান্য দেশের অভিজ্ঞতা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, ম্যাগনেশিয়াম সালফেট ব্যবহারের মাধ্যমে প্রি-একলাম্পশিয়া/একলাম্পশিয়া রোগের চিকিত্সা করলে মাতৃমৃত্যু এবং অসুস্থতার হার বহুলাংশে কমে যায়। এর প্রমাণিত কার্যকারিতা থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশে এই সুলভ চিকিত্সা পদ্ধতির বহুল ব্যবহার নেই।