রাত পোহালেই মাঠে নামবে ভারত-পাকিস্তান। আর এই ম্যাচ নিয়ে দর্শকদের মধ্যে চলছে বাড়তি উন্মাদনা, যা একেবারেই স্বাভাবিক। অনেকের ধারণা, ভারতে চলমান সাদামাটা বিশ্বকাপে এই ম্যাচ দিয়েই পেতে পারে রঙের ছোয়া। সে যাই হোক, সাত বছর পর ভারতের মাটিতে খেলবে পাকিস্তান। এ নিয়ে সমর্থকের আসর শুরুর আগে থেকেই বেশ আগ্রহ। তাই এ দুই দলের ম্যাচের টিকিট পেতে সমর্থকদের চাহিদাও আকাশচুম্বি। আর এরই ফায়দা নিয়ে মাঠে নকল টিকিট ছাপিয়ে নেমেছে প্রতারকেরা। মানুষকে বোকা বানিয়ে তারা হাতিয়ে নিচ্ছে হাজার হাজার টাকা। এবার গুজরাট পুলিশ সেই চক্রেরই চার জনকে গ্রেফতার করেছে।
আগামীকাল আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে ভারত-পাকিস্তান। আর এই হাইভোল্টেজ ম্যাচের আগে একটি জমকালো অনুষ্ঠানের আয়োজন হবে বলেও শোনা যাচ্ছে। ভারতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেন শচীন টেন্ডুলকার, বলিউড অভিনেতা অমিতাব বচ্চন, গায়ক অরিজিত্ সিংয়ের মতো তারকারা। তবে তা হোক কিংবা না হোক, মাঠে মুখোমুখি হবেন রোহিত-বাবররা—ভক্তদের জন্য এটুকুই যথেষ্ট।
এদিকে শনিবারের এই ম্যাচের টিকিট নিয়ে ইতিমধ্যে হাহাকার পড়ে গেছে। স্টেডিয়ামের আসনসংখ্যা ১ লাখ ৩০ হাজার। তার পরও কাঙ্ক্ষিত টিকেট পাচ্ছে না ক্রিকেট ভক্তরা। আর এই পরিস্থিতিতে ফায়দা লুটতে কালোবাজারি চক্র নকল টিকিট নিয়ে মাঠে নেমে পড়েছে। আসল টিকিটে এই ম্যাচ দেখতে চাইলে গুনতে হবে বাড়তি অর্থ। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে একদল বিক্রি করছে নকল টিকিট। স্ক্যান করে আসল টিকিটের মতো দেখতে নকল টিকিট বিক্রি করছে অনলাইনে, যার মূল্য ২ হাজার রুপি থেকে শুরু করে ২০ হাজার রুপি পর্যন্ত। তেমনি এক চক্রকে গ্রেফতার করেছে ভারতীয় পুলিশ।
ভারতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমের সূত্রে জানা যায়, গ্রেফতারকৃত চার অপরাধীর নাম জয়মিন প্রজাপতি, ধ্রুমিল ঠাকোর, রাজবীর ঠাকোর ও কুশ মিনা। প্রথম তিন জনের বয়স ১৮ বছর। কুশ ২১ বছরের। আহমেদাবাদ ও গান্ধীনগরের বাসিন্দা তারা। পুলিশের দাবি, পুরো ব্যাপারটাই জয়মিনের থেকে এসেছে। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে টিকিটের ব্যাপক চাহিদা থাকবে ভেবেই নকল টিকিট বানানোর পরিকল্পনা করে। সে রাজবীর ও ধ্রুমিলের সঙ্গে আলোচনা করে টিকিট স্ক্যান ও ছাপানোর উদ্যোগ নেয়। তার জন্য একটি রঙিন প্রিন্টারও কেনা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, নকল টিকিটগুলো দেখতে একদম আসলের মতো।
এ বিষয়ে ভারতীয় পুলিশ জানায়, অপরাধীরা প্রথমে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের একটি টিকিট কেনার পর তারা সেই টিকিটের মতো হুবুহু আরো ২০০ টিকিট ছাপায়। পরে তা বিভিন্ন ফেসবুক পেজে এবং অনলাইনে সেগুলো বিক্রি করত তারা। চার অপরাধীর এক জনের প্রিন্টের দোকান রয়েছে। সেখানেই এই কাণ্ড চলে।
