সবজি কিনতেই হিমশিম, ডিম ও মুরগির দামও বেড়েছে

আপডেট : ১৪ অক্টোবর ২০২৩, ০৩:০০

সবজির এক দোকান থেকে আরেক দোকানে, তারপর আরেক দোকানে। উদ্দেশ্য একটাই কোনো দোকানে সবজির দাম একটু কম পাওয়া যায় কি না? কিন্তু নাহ্, সব দোকান ঘুরেও প্রায় একই দাম। অনেকটা হতাশার সুরে গতকাল শুক্রবার রাজধানীর তুরাগ এলাকার নতুন বাজারে বাজার করতে আসা নজরুল ইসলাম বললেন, সবজির এত দাম! একমাত্র পেঁপে ছাড়া ৭০/৮০ টাকা কেজির নিচে কোনো ধরনের সবজি নেই।  ব্যবসায়ীরা বলেছেন, গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে শীতের আগাম সবজিখেত নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে হঠাৎ করেই রাজধানীর বাজারে সবজির সরবরাহ কমে গেছে। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে কোন কোন সবজির দাম কেজিতে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

গতকাল রাজধানীর কাওরানবাজার, তুরাগ এলাকার নতুন বাজার ও শান্তিনগর কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন ধরনের সবজির মধ্যে বরবটি ১০০ থেকে ১১০ টাকা, ঢ্যাঁড়শ, পটোল ৭০ থেকে ৮০ টাকা, মূলা ৮০ টাকা, করলা, ঝিঙে, কাঁকরোল, চিচিঙ্গা ৮০ থেকে ৯০ টাকা, বেগুন ১০০ থেকে ১৩০ টাকা, কচুরমুখী, কচুর লতি ৮০ থেকে ৯০ টাকা, টম্যাটো ১০০ থেকে ১১০ টাকা, নতুন শিম ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, কাঁচামরিচ ২০০ থেকে ২৪০ টাকা ও মিষ্টি কুমড়া ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ছোট আকারের একটি ফুলকপি ও বাঁধাকপি বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়। কিছুটা নাগালের মধ্যে রয়েছে কেবল পেঁপে। তা-ও বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি। এছাড়া আলুর দর বেঁধে দিয়েও তা কার্যকর করা যায়নি। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় গত ১৪ সেপ্টম্বর প্রতি কেজি আলু দর সর্বোচ্চ ৩৬ টাকা বেঁধে দিয়েছে। কিন্তু বর্তমানে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকায়। সম্প্রতি ফরিদপুরে এক অনুষ্ঠানে কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, আলুতে আমরা স্বয়ংসম্পূর্ণ। আলুতে আমাদের ঘাটতি নেই। কিন্তু সিন্ডিকেটের কারণে আমাদের বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হচ্ছে।

সবজির কেন এত দাম? এ প্রসঙ্গে নতুন বাজারের সবজি বিক্রেতা মাসুদ বলেন, আড়তগুলোতে চাহিদার তুলনায় সবজির সরবরাহ কম। তাই দাম এতটা বেড়েছে। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ কাঁচামাল আড়ত মালিক সমিতির সভাপতি মো. ইমরান মাস্টার বলেন, সবজির দাম বাড়ার বড় কারণ গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি। এই বৃষ্টিতে দেশের অনেক জায়গায় শীতকালীন আগাম সবজিখেত নষ্ট হয়ে গেছে। যার প্রভাব পড়েছে বাজারে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সবজির এই বাড়তি দর থাকবে না। শীতকালীন সবজি বাজারে আসা শুরু হলেই দাম কমে যাবে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) গত সপ্তাহে মূল্যস্ফীতির হালনাগাদ যে তথ্য প্রকাশ করেছে তাতে দেখা গেছে, দেশে গত সেপ্টেম্বর মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি সামান্য কমলেও গ্রাম-শহর-নির্বিশেষে খাদ্য মূল্যস্ফীতি এখনো ১২ শতাংশের ওপরে। ফলে খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে ভোগান্তিতে আছে ভোক্তারা। বিশেষ করে স্বল্প আয়ের মানুষ। 


পেঁয়াজ, রসুন, আদার দামও বেড়েছে
গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে রাজধানীর খুচরা বাজারে পেঁয়াজ, রসুন ও আদার দামও বেড়েছে। এর মধ্যে গত দুই সপ্তাহ ধরে পেঁয়াজের দর বাড়তি। সরকার পেঁয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রণে গত মাসে দর বেঁধে দিলেও  তা কার্যকর হয়নি। সরকারের বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য বলছে, গতকাল বাজারে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ৮৫ থেকে ১০০ টাকা ও আমদানি করা পেঁয়াজ ৭০ থেকে ৭৫ টাকায় বিক্রি হয়। অথচ বাণিজ্য মন্ত্রণালয় প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজের খুচরা দর ৬৫ টাকা বেঁধে দিয়েছে। টিসিবির তথ্য বলছে, বর্তমানে বাজারে যে দরে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে তা গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণ দাম। সরকারের সংস্থাটির হিসেবে, গত এক বছরের ব্যবধানে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজের দাম ১০৫ দশমিক ৫৬ শতাংশ ও আমদানিকৃত পেঁয়াজে ৮১ দশমিক ২৫ শতাংশ বেড়েছে। পেঁয়াজের পাশাপাশি গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে আদা, রসুনের দামও বেড়েছে। প্রতি কেজি আমদানিকৃত আদায় ৫০ টাকা বেড়ে ২৫০ থেকে ৩২০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া আমদানিকৃত রসুনে ২০ টাকা বেড়ে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।


বেড়েছে ডিম ও ব্রয়লার মুরগির দাম
আলু, পেঁয়াজের মতো দর বেঁধে দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি ডিমের বাজারও। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে ডিমের দাম আরো বেড়েছে। গতকাল বাজারে ফার্মের বাদামি ডিমের হালি ৫২ থেকে ৫৫ টাকায় বিক্রি হয়। অথচ সরকার প্রতিটি ফার্মের ডিমের দাম ১২ টাকা হিসাবে এক হালির দাম ৪৮ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছে। এদিকে ডিমের বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকার ১৫ কোটি ডিম আমদানির অনুমতি দিলেও এখন পর্যন্ত কোনো ডিম আসেনি। আমদানির অনুমতি পাওয়া ব্যবসায়ীরা বলছেন, ৩৩ শতাংশ শুল্ক পরিশোধ করে প্রতিটি ডিমের আমদানি খরচ ১০ টাকার বেশি পড়বে। তাই শুল্ক না কমালে আমদানিকৃত ডিম বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারবে না। ডিমের পাশাপাশি বাজারে ব্রয়লার মুরগির দামও বাড়তি। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে তা ২০০ থেকে ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ইত্তেফাক/এসটিএম